ঢাকা, মঙ্গলবার 26 December 2017, ১২ পৌষ ১৪২৪, ৭ রবিউস সানি ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

পাবনায় স্কুল ছাত্র খুন ২ ঘাতক আটক

পাবনা সংবাদদাতা : অভাবী সংসারে দরিদ্র পিতাকে আর্থিক সহয়তা করার জন্য ভ্যান চালাতে গিয়ে প্রাণ দিতে হলো রনি(১৩) নামে এক স্কুল ছাত্রকে। ঘটনাটি ঘটেছে গতকাল রোববার রাতে সাঁথিয়ার দড়িজগন্নাথপুর গ্রামে। পুলিশ মোবাইল ফোনে ঘাতকদের ছবি সনাক্ত করে ২ সহোদরকে আটক করেছে। থানা ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায় উপজেলার ভুলবাড়ীয়া ইউনিয়নের বৃহস্পতিপুর গ্রামের দিনমজুর উজ্জ্বল হোসেনের জৈষ্ঠ্য সন্তান আতাইকুলা উচ্চ বিদ্যালয়ের ৬ষ্ঠ শ্রেণীর ছাত্র রনি। রনি  রোববারে সকাল ৮ টার দিকে ভ্যান নিয়ে বাড়ি থেকে  বের হয়। রাতে বাড়ি ফিরে না আসায়   খোজাখুঁজি শুরু করে পরিবারের সদস্যরা। বিষয়টি থানা পুলিশকে অবহিত করেন।  খোজাখুঁজির পর প্রকাশ পায় সাঁথিয়া বাজারে অর্জুন নামে সাইকেল মেকারের কাছে ১০ হাজার টাকায় ভ্যান বিক্রি করেছে। ভ্যান ক্রেতা অর্জুন মেকারের সন্দেহ হলে বিক্রেতাদের মোবাইলে ছবি তুলে রাখেন। আতাইকুলা থানার অফিসার ইনচার্জ ওসি মাসুদ রানা অর্জুন মেকারের কাছে থাকা ছবি সনাক্ত করে ঘাতকদের আটক করে। ঘাতকরা হলো আতাইকুলা থানার তৈলকুপি গ্রামের আবুল হোসেনের ছেলে আসাদুল(৩৫) ও আশরাফুল(৩০)। তাদের স্বীকারোক্তি মোতাবেক সাঁথিয়া থানা পুলিশ নন্দনপুর ইউনিয়নের দড়ি জগন্নাথপুর গ্রামের শ্মশান ঘাটের জঙ্গল থেকে সোমবার সকালে রনির লাশ উদ্ধার করে। ভুলবাড়ীয়া ইউনিয়ন চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মোঃ আবু ইউনুস জানান রনিরা আমার প্রতিবেশী। অভাবী সংসার হওয়ায় রনি লেখা পড়ার পাশাপাশি ভ্যান চালিয়ে দরিদ্র পিতাকে আর্থিক সহয়তা করে আসছিল। স্থানীয়রা জানান ঘাতকরা মাদক ব্যবসায়ী। রনির হত্যার খবর পেয়ে মা জালেকা খাতুন ও দাদী মনোয়ারা কান্নায় মুছরে পরে। ছোট বোন পাগল প্রায়। শিশু রনির হত্যায় বৃহস্পতিপুর, আতাইকুলা, শিবপুরসহ আশপাশের গ্রামের মানুষরা উজ্জ্বলের বাড়িতে আসলে এক হৃদয়বিদারোক অবস্থা সৃষ্টি হয়। কান্নায় বাতাস ভারী হয়ে ওঠে। এ দিকে রনির স্কুলের শিক্ষক/শিক্ষার্থীরা ঘাতকদের দৃষ্টান্ত মূলক সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করেছে। পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। সাঁথিয়া থানা অফিসার ইনচার্জ ওসি ইনাম হাসান বলেন লাশ মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। ওসি ইনাম হাসান আরো বলেন  রোববার রাতের যে কোন সময় রিনকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে। থানায় মামলার প্রস্তুতি চলছে। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত সহোদর ঘাতকদের আতাইকুলা থানার শ্রীঘরে রাখা হয়েছ।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ