ঢাকা, মঙ্গলবার 26 December 2017, ১২ পৌষ ১৪২৪, ৭ রবিউস সানি ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

চারঘাটে গাছিরাই তৈরি করছেন খেজুরের গুড়

শহীদুল ইসলাম, চারঘাট (রাজশাহী): সকাল হলেই মিষ্টি গুড়ের ঘ্রাণে ভরে ওঠে চারপাশ। খেজুর রস আর গুড়ের স্বাদ পেতে সকাল থেকেই কৌতূহলী শিশু-কিশোরদের ভিড় জমে গাছিদের বাড়িতে। চারঘাট উপজেলার ভায়ালক্ষ্মীপুর, কালুহাটি, নন্দনগাছি, বড়বড়িয়া, মোক্তারপুর, চারঘাটসহ বিভিন্ন গ্রাম ঘুরে দেখা গেছে, উপজেলাজুড়ে প্রায় পাঁচ শতাধিক পরিবার খেজুরের রস সংগ্রহের পর গুড় তৈরীতে ব্যস্ত।
মোক্তারপুর গ্রামের মশিউর রহমান জানান, অন্যান্য সময় বিভিন্ন পেশায় নিয়োজিত থাকলেও শীত মৌসুমে গুড় তৈরীতে ব্যস্ত থাকেন। তৈরী গুড় বাজারে বিক্রি করে পরিবারের ব্যয় নির্বাহ করেন অনেকে। কেননা মৌসুমী পিঠা-পুলি বানাতে এ গুড়ের জুড়ি মেলা ভার। তিনি আরও জানান, কোনো কোনো গাছি খেজুর গাছ বর্গা নেন। গাছের মালিককে অর্ধেক দেওয়ার পর বাকি রস দিয়ে তারা গুড় বানান। যারা গাছের মালিক তারা অনেকেই সংসারের প্রয়োজন মেটানোর পর বাড়তি গুড় রেখে দেন পরবর্তী সময়ে বেশী দামে বিক্রির আশায়। অনেকে আবার সঙ্গে সঙ্গেই বিক্রি করেন। কালুহাটি গ্রামের বাবু আলী জানান, কেজিপ্রতি গুড় প্রকারভেদে ৪৫ থেকে ৫৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সব গুড় মৌসুমেই বিক্রি করেন বাবু আলী। তাতে বেশ লাভ হয় বলে জানান তিনি।
তিনি আরও জানান, চারঘাট বাজার এবং নন্দনগাছীর হাটে সোম ও শুক্রবার হাট বসে। সেখানেই গুড় বিক্রি করা হয়। নন্দনগাছীর হাটে সোমবার গিয়ে দেখা যায়, সেখানে দূর-দূরান্ত থেকে পাইকাররা এসে গুড় কিনে নিয়ে যাচ্ছেন। কথা হলো রাজশাহী থেকে আসা ব্যাপারী আসাদুল হকের সঙ্গে। গুড় কিনে কী করেন- জানতে চাইলে গালভরা হাসি দিয়ে বলেন, ‘এত গুড় দিয়ে কী করব? খুচরা ক্রেতাদের কাছে বিক্রি করা হবে।’ কাদের কাছে বিক্রি করেন- প্রশ্নের উত্তরে আসাদুল বলেন, ‘সবাই তো গুড় বানাতে পারে না। তারা কিনে নিয়ে পিঠা-পায়েস বানায়।’ চারঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. আবদুল আলিম বলেন, ‘খেজুর রসে নিপাহ ভাইরাস থাকে। কিন্তু যে পরিমাণ তাপে গুড় তৈরী হয়, তাতে স্বাস্থ্যঝুঁকির আশঙ্কা থাকে না।’

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ