ঢাকা, বৃহস্পতিবার 28 December 2017, ১৪ পৌষ ১৪২৪, ৯ রবিউস সানি ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

কাগজপত্র জমা না দিলে বন্ধের ঘোষণা প্রশাসনের পুড়ছে কাঠ ॥ নষ্ট হচ্ছে ফসলি জমি

কেশবপুর (যশোর) : গত বছর বন্ধ হওয়া সুপার ব্রিকস এ বছরের শুরুতেই পুরোদমে ভাটা নির্মাণ কাজ চালিয়ে যাচ্ছে

 

 

মোল্যা আব্দুস সাত্তার, কেশবপুর (যশোর) সংবাদদাতা : যশোরের কেশবপুরে সরকারের নীতিমালা উপেক্ষা করে যত্রতত্র গড়ে উঠেছে অবৈধ ইটভাটা। এসব ভাটায় পোড়ানো হচ্ছে কাঠ, নষ্ট করা হচ্ছে কৃষি জমি, উজাড় হচ্ছে বনভূমি। এতে মারাত্মকভাবে দূষিত হচ্ছে পরিবেশ। এ উপজেলায় মাত্র ৩টি ইটভাটা পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র এবং জেলা প্রশাসনের লাইসেন্স নিয়ে পরিচালিত হচ্ছে। তবে এর বাইরে আরও অন্তত ১২টি অবৈধ ইটভাটা রয়েছে। যেখানে নিয়ম বলতে কিছুই নেই। গত ২ ডিসেম্বর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সকল ইট ভাটার মালিকদের কাগজপত্র নিয়ে তার দপ্তরে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেন। ওই দিন ১৫ জন ভাটা মালিকের মধ্যে ১২ জন হাজির হন।  উপজেলার সাতাবাড়িয়া গ্রামের রহমান ব্রিকস, একই গ্রামের আলম ব্রিকস ও দোরমুটিয়া গ্রামের কেশবপুর ব্রিকস পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র এবং জেলা প্রশাসনের লাইসেন্স নিয়ে পরিচালিত হচ্ছে। লাইসেন্সপ্রাপ্ত ভাটাগুলোও নিয়মনীতি মেনে ভাটা পরিচালনা করছে না বলে এলাকাবাসীর অভিযোগ। কেশবপুরে দিন দিন যেমন ডাঙা জমিতে বাড়ছে ইটের ভাটা তেমনি নিচের জমিতে বাড়ছে মাছের ঘের। এতে শস্য নীবিড়তা কমার পাশাপাশি নষ্ট হচ্ছে পরিবেশ। ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন আইন-২০১৩ এর ৮ নং অনুচ্ছেদে উল্লেখ করা হয়েছে, আবাসিক, সংরক্ষিত বা বাণিজ্যিক এলাকা; কৃষি জমি, পরিবেশ বিপর্যয়, ফসলের ক্ষতি সাধন, ব্যক্তি মালিকানাধীন বাগান দখল করে কোন ইটভাটা স্থাপন করা যাবে না। ভাটা মালিকগণ এ আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে একের পর এক ইটভাটা স্থাপন করে চলেছেন। উপজেলার বায়সা কালিবাড়ি মোড়ে ৮/১০ বছর আগে মনিরামপুরের এক ভাটা মালিক গোল্ড ব্রিকস নামে একটি ইটভাটা গড়ে তুলেছেন। যেখানে প্রশাসনকে ফাকি দিয়ে রাতের আধারে পোড়ানো হচ্ছে কাঠ। নষ্ট করছে ফসলি জমি। এখানে বিভিন্ন এলাকা থেকে মাটির টপ সোয়েল কেটে ইট তৈরীর জন্যে ডিবি করে রাখা হয়েছে। এ ভাটার পূর্বে অনুমতি ছিল। বর্তমানে কোন কাগজ পত্র নেই। ২/৩ বছর আগে এ ভাটার ১০০ গজ দূরে গাজী ব্রিকস নামের আরও একটি ইটভাটা গড়ে তুলেছেন কেশবপুর শহরের আরমান গাজী। এরও কোন কাগজপত্র নেই। পৌর এলাকায় কোন ইটভাটা করার নিয়ম না থাকলেও শহরের বালিয়াডাঙ্গা গ্রামে ১৫/১৬ বছর ধরে অবৈধভাবে নজরুল ইসলাম খান গড়ে তুলেছেন খান ব্রিকস নামের একটি ভাটা। এ ভাটার নবায়নও নেই আবার অনুমোদনও নেই। গত ২ বছর ধরে শহরে ভোগতীনরেন্দ্রপুর গ্রামে ৩ ফসলি জমি দখল করে গড়ে তোলা হচ্ছে জামান ব্রিকস। এরও কোন কাগজপত্রও নেই। ৪/৫ বছর আগে উপজেলার বেগমপুর গ্রামে ২ ফসলি জমি জবর দখল করে গড়ে তোলা হয়েছে রিপন ব্রিকস। কাগজপত্র ছাড়াই চলছে ভাটাটি। সাতবাড়িয়া বাজারের ১০০ গজ দূরে ঘন বসতিপূর্ণ এলাকার ৩ ফসলি জমি দখল করে গত ২ বছর ধরে সুপার ব্রিকস নামে একটি ভাটার কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। আগরহাটি গ্রামে কাগজপত্র ছাড়াই চলছে প্রাইম ব্রিকস। এছাড়া সন্ন্যাসগাছা গ্রামের বিবি ব্রিকস-১ ও বিবি ব্রিকস-২ মালিকের কাছে কাগজপত্র চাওয়া হলেও তিনি আজও উপজেলা প্রশাসনের কাছে তা সরবরাহ করেননি। এরমধ্যে অধিকাংশ ভাটা মালিক প্রশাসনের মৌখিক অনুমতি নিয়ে বছরের পর বছর ইট উৎপাদন ও বিক্রি করে চলেছেন। গত বছর উপজেলা প্রশাসন অভিযান চালিয়ে রোমান ব্রিকস, রাবেয়া ব্রিকম ও হাসান ব্রিকসের কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়। তারা এ বছরের শুরুতেই আবার পুরোদমে কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ায় এলাকাবাসী ফুসে উঠেছেন। যত্রতত্র ইটভাটা বন্ধের দাবিতে ইতোমধ্যে কেশবপুরের শ‘শ নারী পুরুষ কেশবপুর শহরে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছেন।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মহদেব চন্দ্র সানা বলেন, এ উপজেলায় হঠাৎ করে বেশ কিছু ইট ভাটা গড়ে উঠার কারণে ফসলি জমি, গাছপালা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, পরিবেশ অধিদপ্তরে ইটভাটার ছাড়পত্র দেয়ার ক্ষেত্রে কৃষি বিভাগের মতামত নেয়ার বিধান রয়েছে। কিন্তু তারা তা কখনও নেয় না। এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকতা মিজানুর রহমান বলেন, যে সমস্ত ভাটার কাগজপত্র নেই তাদের ১ মাসের সময় দেয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়ে যারা কাগজপত্র সরবরাহ করবে তারাই ভাটা চালাতে পারবে। অন্যথায় নয়।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ