ঢাকা, শুক্রবার 29 December 2017, ১৫ পৌষ ১৪২৪, ১০ রবিউস সানি ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

কবিতা

ইচ্ছেরা কেঁদে ফিরে যায়

আবদুল হালীম খাঁ

 

ইচ্ছেরা বার বার এসে

কেঁদে ফিরে যায়। আমি ওদের কিছুই

পারি না দিতে। ওদের

কত আশা

কত স্বপ্ন

কত সাধ!

ভোরে দরজা খুললেই এসে হাত পাতে

ঘর থেকে বের হলেই এসে সামনে দাঁড়ায়

বেড়াতে গেলেই ওরা সাথে সাথে হাঁটে

ক্লান্ত হয়ে বসলে ওরা পাশে বসে

হাত পাতে: কিছু দাও

কিছু দাও...

 

আমি ওদের ‘না’ ছড়াা আর কিছুই 

পারি না দিতে।

 

মধু মক্ষিকার গুঞ্জরণ 

তাসনীম মাহমুদ

(কবি নজরুল ইসলাম ভাইকে)...

 

কুয়াশায় সমুদ্র নেমেছে পৃথিবীর গায়--

ধূসর আলো-আঁধারীতে মিশে নীরব

মিলে গেছে শহরের কোলাহল; ভাঙ্গা বেদনার

অশ্রুপতন-আর্তনাদ। 

কে কখন ঘুমিয়ে পড়েছে উষ্ণ জড়িয়ে কিংবা হীম গাঁয়ে 

বন্যপশুর প্রকৃতি-স্বভাবে! 

এ স’ব হিসাবের অংক কষা; রাত্রির লেনদেন আয়োজন 

ক...বে চুকে গেছে মানবতার ফাণুস উড়িয়ে 

সোডিয়াম বাতির নিয়নে আত্মহুত 

পতঙ্গের ডানার মতো।

 

পাহাড় চুয়ে নেমে আসা জল¯্রােত 

কবে কা...র জীবনে নাম ডেকে সাজিয়ে দিয়েছে 

সৌভাগ্যের ফুলঝুড়ি? 

সে--তো কাঙ্গাল চেনেনি; ধনীও চেনেনি! 

রাখেনি জমা কৃপণের গোলা ভরে 

উদ্বৃত্তের হালখাতা।

 

তবে কেন মানুষে মানুষে 

ভূরিভোজ; ক্ষুধার তন্তÍুতে হীম জমে? 

 

একাবিংশ শতাব্দীর রাজকোষ বড় বেশি চড়া! 

অথচ;

সিন্দুকের কূটঘরে বদ্ধ মোহরগুলো 

রোদ্র¯œানে উন্মুখ প্রজাপতিকে ডেকে বলছে,-- 

“আগামী ভোরের আজান যেন হয়

মধু মক্ষিকা’র গুঞ্জরণ; সমবন্টনের সমবেত সম্মিলন।

তাই এ--রাত্রির আকাশে জোছনা বেয়ে 

শিশির নামুক। কুয়াশার সমুদ্র বান ডাকুক।... 

আলবাধা হৃদয়ের যত স’ব হাহাকার 

ভিজে যাক- টুঁটে যাক- ধুয়ে যাক।”

 

বিজয় উল্লাস

এ.কে. আজাদ

 

বিস্তৃত ছাপ্পান্ন হাজার বর্গমাইল

লাল-সবুজ পতাকা বহন করে 

ছুটে চলে 

মুক্তিযোদ্ধার রক্তের কণিকা

নৈয়মিক সূর্যাস্তে  নিসঙ্গ রাত্রি নামে,

পনরই ডিসেম্বর রাত্রিশেষে

ধ্বনিত হয় বিজয়ের উল্লাস,

অগ্নিগোলা বর্ষণ করে না 

কামানের চোঙ।

নতুন ভূখ-ে লেখে-

বাঙালির বর্ণসবক

টেকনাফ থেকে তেতুঁলিয়ায়।

উন্মীলন রেখে চোখ-

গড়ে স্বাধীন মৃত্তিকার শরীরে,

একাত্তরের স্মৃতির মিনার।

 

এক চিলতে সময়

মোহাম্মদ এনামুল হক

 

সোনালী সকাল পেরিয়ে পা-ুর বিকেল এলো

গাছের ছায়া হলো দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর

তব্ওু কাক্সিক্ষত সময়ের দেখা মেলে না।

পলায়নপর সময়কে খোঁজা হলো

কৈফিয়তের বিপন্ন বন্দরে-বিধ্বস্ত উপত্যকায়;

না, কোথাও পাওয়া গেলো না। 

ফ্লাটফর্মে যাত্রীদের সময় কাটে না

বিক্ষিপ্ত যাত্রীরা বসে-দাঁড়িয়ে উসখুস করে  

সময় যেনো থমকে দাঁড়িয়ে থাকে মৃত মরুভূমির মতো

এখানে সময় খাবি খায় নিরন্তর,

যাত্রীরা কী ধার দিবে কিছু সময় অথবা

একটি দুপুরের কিয়দাংশ!

বিকল হওয়া ট্রেনের বগিটা বহুদিন যাবত

অযতনে পড়ে আছে পরিত্যক্ত লাইনে

মাসের পর মাস বছরের পর বছর!

নিশ্চল দাঁড়িয়ে থাকা বগির কাছে কী পাওয়া যাবে 

এক চিলতে সময়!

 

শঙ্খচিল 

রুহুল আমিন রাকিব

 

কখনো কি শুনতে চেয়েছ

আকাশের কান্না?

আকাশ কাঁদলে বলো বৃষ্টি

আর আমি কাঁদলে বলো অভিনয়।

 

পাহাড়ের বুকে যখন কষ্টরা দানা বাঁধে

তখন পাহাড় বোবা কান্না করে,

তুমি ওদের দেখে বলো ঝর্নাধারা।

মনের সুখে প্রশান্তি ময় গোসল শেষে বলো

তুমি অনেক আনন্দিতো।

 

আর আমি রোজ শীতের সকালে কুমড়ো ফুলে

মিষ্টি রোদ ছুঁয়ে দিয়ে যখন 

তোমার অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে থাকি

চাতক এর মতো, তুমি দেখে বলো মনের আবেগ।

যখন ঘাসের ডগায় জমে থাকা শিশির কণা গুলোয়

তোমার মায়াবি হাসির আভা খুঁজে পাই,

তুমি বলো এটা আমার মনের কল্পনা।

 

যখন বলি গোধূলি বিকেল আমার বড্ড ভয় করে,

তখন তুমি ছলনার হাসি দিয়ে বলো

এটাই আসল জীবন,

রঙচাটা জীবনের মিছে মোহের এক যাযাবর 

এর স্বপ্নের আকাশে উড়ে চলা শঙ্খচিল এর আঁকা আঁকি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ