ঢাকা, শুক্রবার 29 December 2017, ১৫ পৌষ ১৪২৪, ১০ রবিউস সানি ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

কেরানীগঞ্জে ‘জাল রুপির কারখানা’

স্টাফ রিপোর্টার : ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জে ভারতীয় মুদ্রা জালিয়াতির একটি ‘কারখানার’ সন্ধান পাওয়ার কথা জানিয়েছে র‌্যাব। ওই কারখানা থেকে ১০ লাখ ভারতীয় রুপির জাল নোট এবং জালিয়াতির সরঞ্জামসহ দুইজনকে আটক করা হয় বলে র‌্যাব-১০ এর কর্মকর্তা মেজর রাহাত হারুন খান জানান। আটকরা হলেন- লিয়াকত আলী (৩৫) ও তার সহযোগী জাহাঙ্গীর আলম (৪০)।

মেজর রাহাত বলেন, দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের শুভড্যা উত্তর পাড়ার একটি বাড়ির তৃতীয় তলায় ওই কারখানা গড়ে তোলা হয়েছিল। বুধবার রাতে সেখানে অভিযান চালায় র‌্যাব।  “গ্রেফতার দুজন দীর্ঘদিন ধরে জাল নোট তৈরির সঙ্গে জড়িত। এই বাসায় তারা ভাড়া থাকত। এর আগে কয়েকবার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে ধরা পড়লেও পরে জামিনে বেরিয়ে যায়।”

গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে বাহিনীর  মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে র‌্যাব-৩ এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এমরানুল হাসান বলেন, বাংলাদেশি জাল মুদ্রা তৈরি এবং বাজারজাত করা ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় ভারতীয় জাল মুদ্রা তৈরিতে ঝুঁকে পড়েন লিয়াকত আলী। প্রতি মাসে ৫০ থেকে ৬০ লাখ জাল রুপি তৈরি করে সরবরাহ করতেন তিনি। এতে তার মাসিক আয় হত দেড় থেকে দুই লাখ টাকা।

এমরানুল হাসান বলেন, “জাল মুদ্রা তৈরির মূলহোতা ছগির মাস্টার শেয়ারবাজারে ধসের পর জাল মুদ্রা তৈরির সিন্ডিকেট গড়ে তোলেন। ছগির মাস্টারের সহযোগী হিসেবে তখন থেকে লিয়াকত এই চক্রের সঙ্গে কাজ শুরু করে। পরে গত দশ বছর আগে কেরানীগঞ্জে নিজের ভাড়া বাসাতেই জাল মুদ্রা তৈরির কারখানা গড়ে তোলে লিয়াকত। সে নিজেই গড়ে তোলে একটি সিন্ডিকেট।”

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে লিয়াকত জাল রুপি কিভাবে বাজারজাত করত তার তথ্য দিয়েছে বলে জানান লেফটেন্যান্ট কর্নেল এমরানুল হাসান। “সে তার স্থানীয় দালালদের মাধ্যমে রাজধানীর বিভিন্ন মানি এক্সচেঞ্জ এবং সীমান্ত এলাকায় জাল রুপি সরবরাহ করত। প্রতি লাখ জাল ভারতীয় মুদ্রা ১২ হাজার টাকায় বিক্রি করত। ভারতীয় ৫০০ ও এক হাজার রুপির নোট তৈরি সহজ হওয়ায় সে এসব নোটই তৈরি করত।”

লিয়াকত ‘কাটআউট’ পদ্ধতিতে জাল রুপি সরবরাহ করত তিনি বলেন, “এটা একটা চেইন। লিয়াকত কার কাছে জাল রুপিগুলো সরবরাহ করত তা অনেক ক্ষেত্রে নিজেই জানত না। সে ছিল জাল রুপির পাইকারি বিক্রেতা। এছাড়াও আমরা কিছু নাম পেয়েছি, তদন্তে বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যাবে।” লিয়াকত যেসব মানি এক্সচেঞ্জে জাল রুপি সরবরাহ করত সেগুলোর কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি বলে রাব কর্মকর্তা এমরানুল জানান। লিয়াকত এর আগে কয়েকবার গ্রেফতার হয়েছিলেন এবং তার বিরুদ্ধে রাজধানীর বিভিন্ন থানায় পাঁচটি মামলা রয়েছে বলেও জানান তিনি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ