ঢাকা, শুক্রবার 29 December 2017, ১৫ পৌষ ১৪২৪, ১০ রবিউস সানি ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

অভিমত

[এক]

ছাত্রশক্তি কোন পথে?

মুহাম্মদ হাফিজুর রহমান

বাংলাদেশের রাজনীতির ইতিহাসে ছাত্র সমাজের রয়েছে এক গৌরবোজ্জল ইতিহাস। ইতিহাসের ভাঙ্গা-গড়া, উত্থান পতনে ছাত্ররা অবিস্মরণীয় ভূমিকা পালন করেছে। ভাষা আন্দোলন, স্বাধীনতা আন্দোলন, স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনসহ দেশের দুর্যোগপূর্ণ মুহূর্তে ছাত্র সমাজ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। ৭০ এর বন্যা, ৮৮-র বন্যাসহ নানান প্রাকৃতিক দুর্যোগে ছাত্ররা অগ্রনী ভূমিকা পালন করেছে। মানবতার সেবাই রাজনীতি। সেভাবেই ছাত্র রাজনীতির ¯্রােত ধাবিত হতো এক সময়। কিন্তু ছাত্র রাজনীতি এখন আর তার ধারায় নেই। ছাত্র রাজনীতির নিয়ন্ত্রকও অনেক ক্ষেত্রে ছাত্ররা নয়। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে শুধুমাত্র সরকারী দলের ছাত্র সংগঠনের একক রামরাজত্ব কায়েম হয়ে আছে। একক ক্ষমতার নিরংকুশ আধিপত্য এবং সরকার ও প্রশাসনের প্রত্যক্ষ পরোক্ষ পৃষ্ঠপোষকতায় ছাত্রলীগকে দানবীয় শক্তিতে রূপান্তরিত করেছে। অনেকেই বলছেন,  চাঁদাবাজি, দখল, অস্ত্রবাজি ইত্যাদি বর্তমান ছাত্রলীগের  অন্যতম কাজ হিসেবে গণ্য হচ্ছে। ছাত্রলীগের নাম শুনলে সাধারণ মানুষ আতকে ওঠে। আতংকের অপর নাম ছাত্রলীগ। দিনে দিনে তাঁদের এ অপকর্মের মাত্রা শুধু বাড়ছেই। খুনের মামলার আসামী অবলীলায় ছাড়া পায় ছাত্রলীগের পরিচয়ের কারণে। ফাঁসির আসামী হাসতে হাসতে বের হয়ে আসে,কারণ তার একটি পরিচয় আছে সে ছাত্রলীগ করে। ছাত্রলীগ করে তো সব খুন মাফ- এ কারণে তাদের অপরাধের মাত্রা দিনে দিনে শুধু বাড়তেই থাকে।  লক্ষীপুরের মুজিববাদী তাহেরের ছেলে খুন করেও ফাঁসির রশি থেকে মুক্তি পেয়েছে ছাত্রলীগ পরিচয়ের কারণে। বিশ্বজিৎ হত্যাকান্ডের কথা না হয় না-ই বললাম। অপরাধ করেও যখন ক্ষমা পাওয়া যায় তবে সে ছাত্রলীগ পেরোয়া হবে না তো কি হবে ?  পত্রিকায় সচিত্র প্রতিবেদন ছাপা হয়েছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে অস্ত্রের প্রশিক্ষণ দিচ্ছে ছাত্রলীগ ক্যাডার, রাজশাহী  বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রকাশ্যে অস্ত্র উচিয়ে তথাকথিত শিবির নির্মূল আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছে ছাত্রলীগের বিশ্ববিদ্যালয় শাখার   নেতা তৌহিদ আল তুহিন। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে দু’গ্রুপের সংঘর্ষের সময় ছাত্রলীগের ক্যাডারদের হাতে প্রকাশ্যে আগ্নেয়াস্ত্র দেখা গেছে। চবিতে নিজ দলের কর্মীদের হাতে মারা গেছেন বিশ্ববিদ্যালয় শাখার নেতা। স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজে ছাত্রলীগের দু’গ্রুপের সংঘর্ষের জেরে মারা গেছেন অপর এক ছাত্রলীগ কর্মী। খুন-ধর্ষণের মতো ন্যক্কারজনক কাজে সম্পৃক্ততা প্রমাণিত হওয়ার পরও তারা পার পেয়ে যায় অবলীলায়। এ সব ঘটনা ছাত্রলীগকে অবাধ সন্ত্রাসের লাইসেন্স দিয়েছে। শুধুমাত্র ছাত্রলীগ নেতার গায়ে ধাক্কা লাগার কারণে ইডেন কলেজের দু’জন ছাত্রীর গায়ের জামা ছিঁড়ে তাদের চরম অপমান করা হয়েছে।

সিলেটে তাদের দলের অন্তর্কোন্দলে দুজন আহত হওয়ার জের ধরে ছাত্রলীগ সভাপতির রক্ত টগবগিয়ে উঠেছে। সারাদেশে তাদের অপকর্মের কারণে মানুষ যখন ছাত্রলীগ নাম শুনলেই ঘৃণার দৃষ্টিতে তাকায় তখন সে ঘৃণা হতে বাঁচার জন্য নিজস্ব কোপাকোপির ঘটনাকে উল্টোদিকে প্রবাহিত করে হারানো ইমেজ পুনরুদ্ধার করতে চাচ্ছে ছাত্রলীগ। ছাত্রলীগ সভাপতি হুংকার দিয়েছেন শিবির নির্মূলের। তাদের এ নির্মূল অভিযান এক অতি পূরাতন অভ্যাস। ছাত্রলীগ সভাপতির ঘোষণার সাথে সাথে তার ক্যাডার বাহিনী যেন উত্তম মওকা পেয়ে গেছে। তারা রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি হলে সাধারণ ছাত্রদের উপর নির্মম নির্যাতন করেছে, লক্ষীপুরে শিবিরের কর্মীদের উপর অতর্কিত আক্রমন করে মারাত্মক আহত করেছে। কিশোরগঞ্জে জামায়াতের জেলা কার্যালয়ে মিছিলসহকারে হামলা করে ভাংচুরের পর তাদের জেলা সভাপতি ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে তার কৃতিত্ব জাহির করেছে। সবচেয়ে নির্মম ঘটনা ঘটেছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে।

ছাত্রলীগ ক্যাডাররা মারাত্মক অস্ত্র- সস্ত্রে সজ্জিত হয়ে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব আবদুল লতিফ হলে গভীর রাতে ঘুমন্ত ছাত্রদের উপর আক্রমণ করে সারারাত পৈশাচিক নির্যাতন করে ১২ জন ছাত্রকে মারাত্মক আহত করে। সারা রাত ধরে এভাবে ছাত্রদের উপর নির্যাতন করার পরও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডির কোনো সদস্য, হল প্রাধ্যক্ষ বা কোনো শিক্ষক এগিয়ে আসেননি। এমনকি নির্যাতনে মারাত্মক আহত এ ছাত্রদেরকে যখন পুলিশের হাতে তুলে দেয়া হলো তখনো বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কেউই সেখানে উপস্থিত ছিলেন না। এতে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন আসে তবে কি ছাত্রলীগের এ সন্ত্রাসী কর্মকান্ডে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের পরোক্ষ সমর্থন রয়েছে ? কারণ মৌনতা যেমন সম্মতির লক্ষণ তেমনি বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো কর্তা ব্যক্তির অনুপস্থিতি প্রমাণ করে তারা এ সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের সমর্থক। একইভাবে পুলিশ প্রশাসনের যেখানে উচিৎ ছিলো যারা এসব ছাত্রদের উপর সারা রাত পৈশাচিক নির্যাতন চালিয়েছে তাদেরকে গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনা। তারা বরং সন্ত্রাসীদের পক্ষালম্বন করে নির্যাতিত ছাত্রদেরই গ্রেফতার করেছে। স্বাভাবিকভাবেই পুলিশের এ ভূমিকা ছাত্রলীগকে আরো বেশী সন্ত্রাসী কর্মকান্ড করতে উৎসাহ যোগাবে। একটি অতি সাধারণ প্রশ্ন শিবির কি কোনো নিষিদ্ধ সংগঠন ? যারা শিবির করে তারা কি বাংলাদেশের নাগরিক নয়? তবে কেন সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে নির্যাতিত এ ছাত্রদের বিরুদ্ধে আইনের অপপ্রয়োগ করা হলো? 

সারাদেশে ছাত্রলীগের যে সন্ত্রাসী কর্মকান্ড তার দায় সরকার এবং আইন শৃংখলা বাহিনী এড়াতে পারে না। ছাত্রলীগ করলে সাত খুন মাফ- এ অপনীতিই ছাত্রলীগকে এমন অবস্থায় নিয়ে গেছে। এক টিভি টকশোতে জনৈক আলোচক প্রশ্ন করেছিলেন, ছাত্রলীগ এখন জাতির কি কাজে লাগে? তারা শিবির প্রতিরোধের নামে সারাদেশে যে দানবীয় পৈশাচিকতায় মেতে উঠেছে। এটা সরকার এবং ছাত্রলীগ উভয়ের জন্য হিতে বিপরীত হবে। অবৈধ ও অগণতান্ত্রিক এ সরকারের সমর্থন এখন শূন্যের কোটায়। বন্দুকের নল আর দেখামাত্র গুলির নির্দেশের বলে সরকার অবৈধ পন্থায় টিকে আছে। তাদের বরকন্দাজ বাহিনীর ছাত্রলীগের সামান্যতম কোনো নৈতিক শক্তি নেই।  যেখানে আতংক আওয়ামী লীগকে কুড়ে কুড়ে খাচ্ছে। আওয়ামী লীগের এক নেতা বলেছেন, আগামীতে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় না আসলে পাঁচ লক্ষ নেতা কর্মী মারা যাবে। তার এ বক্তব্য আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের মধ্যে কাঁপন ধরিয়ে দিয়েছে। শোনা যাচ্ছে অনেকেই দেশ ছাড়া শুরু করেছে। আওয়ামী লীগের অপর এক নেতা বলেছেন, আগামীতে ক্ষমতায় না আসতে না পরালে আওয়ামী লীগের অস্তিত্ব বিপন্ন হবে। খোদ আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক বলেছেন, আওয়ামীলীগ দুরবস্থায় পতিত হয়েছে। যারা নিজেদের অপকর্ম আর দুঃশাসনের কারণে ভয়-আতংকে দিশেহারা। ক্ষমতায় থাকলে দল থাকবে আর ক্ষমতায় না থাকলে দল টিকবে না- এটা যাদের চিন্তা এবং মননে গেঁথে গেছে- তারা কখনো একটি আদর্শিক আন্দোলনকে মোকাবেলা করার ক্ষমতা রাখে না।

আদর্শের মোকাবেলায় আদর্শ দরকার। কিন্তু ছাত্রলীগের কি তেমন কোনো আদর্শ আছে ?  আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহায়তা ও সমর্থন ব্যতীত যারা দশ জনের   একটি কর্মসূচী বাস্তবায়ন করতে সাহস পায় না, তারা কিভাবে শিবিরের মতো একটি আদর্শিক সংগঠনকে মোকাবেলা করবে ? চরিত্র যাদের অনেক আগেই হারিয়ে গেছে, নৈতিক মনোবল যাদের শূন্যের কোটায় তারা তো শুধু সন্ত্রাসই করতে পারবে। কিন্তু সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের মাধ্যমে শিবির নয় বরং ছাত্রলীগই আরো বেশী ধ্বংসের দিকে ধাবিত হবে। ছাত্রলীগের এ অপকর্ম এবং সন্ত্রাসী কর্মকান্ডকে যারা প্রশ্রয় দিচ্ছেন তাদের কাছে একটি সহজ এবং স্বাভাবিক প্রশ্ন ইডেন কলেজের যে দুজন ছাত্রীর পোশাক ছিঁড়ে ফেলা হলো তারা একজন সাধারণ মেয়ে না হয়ে যদি আওয়ামীলীগের কোনো নেতার কিংবা কোনো পুলিশ কর্মকর্তার বোন কিংবা মেয়ে হতো তবে আপনাদের কাছে কেমন লাগতো? রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে যাদের উপর নির্যাতন করা হয়েছে তারা সাধারণ ছাত্র না হয়ে যদি আওয়ামীলীগের কোনো নেতার সন্তান কিংবা কোনো পুলিশ অফিসারের ভাই হতো আপনাদের কাছে বিষয়টি কেমন লাগতো ? বিশ্বজিৎ অতি দরিদ্র পরিবারের সন্তান না হয়ে আপনাদের কোনো পরিবারের সদস্য হলে কেমন লাগতো? গাজীপুরে ছাত্রলীগ নেতা কর্তৃক অপহৃত কিশোরী যদি আপনাদের পরিবারের সদস্য হতো তবে কেমন লাগতো? E-mail: hafizurrahmanbd1978@gmail.com

 

[দুই]

পেনশন প্রাপ্তিতে জটিলতা 

 মো. বশির আহমদ

পেনশন প্রাপ্তির সময় চাকরিজীবীদের পেনশন প্রাপ্তির জন্য সরকারের ২০০৯ সালের পেনশন সহজীকরণের জন্য যে সকল প্রজ্ঞাপন জারি হয়েছে এতে কর্মকর্তা/কর্মচারীগণ তাঁদের পিআরএল/ এলপিআর, ল্যাম্পগ্র্যান্ট, জিপিএফ, আনুতোষিক ও পেনশন প্রাপ্তির জন্য নিয়ন্ত্রণকারী কর্মকর্তার যে দায়িত্ব রয়েছে এতে পেনশনারের অফিসের দ্বারে দ্বারে ঘোরার কোনো প্রয়োজন নেই। তাঁকে হিসেব করে ২ (দুই) মাস আগেই চেকের মাধ্যমে পাওনা পৌঁছিয়ে দেওয়ার জন্য সরকারি বিধান থাকা সত্ত্বেও কর্মকর্তা/ কর্মচারী সহজে তা পাচ্ছেন না। যার কোনো স্পষ্ট প্রমাণ দেওয়া যাবেনা কিন্তু বাস্তব সত্য এই যে, ভোগান্তিবিহীন পেনশনপ্রাপ্ত লোকের সংখ্যা বিরল। এটা একটি অস্পষ্ট বৃক্ষ যা মানুষের রক্ত ভক্ষণ করে কিন্তু প্রকাশ্য আঘাতে রক্তক্ষরণের প্রমাণ দেওয়া যায় না। এ সমস্যা থেকে রক্ষার জন্য ডিজিটাল পদ্ধতিতে অনলাইনে চাকুরে পিআরএলে যাওয়ার আগেই তাঁর সম্ভাব্য হিসেব পূর্বানুমতিসহ প্রস্তুত রাখলে এ জটিলতা নিরসন হবে। পেনশন প্রদানের এ অবৈধ এবং অনৈতিক বাণিজ্য থেকে পেনশনাররা রেহাই পাবে। 

যদিও ৯ এপ্রিল ১৯৭২ খৃষ্টাব্দের পরের অ-রাজস্ব খাতের সরকারি কর্মচারীদেরকে আন্ত: মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে রাজস্ব খাতে পদায়নের সরকারি বিধান রয়েছে। কিন্তু তা বাস্তবায়ন সঠিক সময়ে না হওয়ায় সারাজীবন চাকুরি শেষে যাওয়ার সময় আইনগত জটিলতার কারণে পেনশনবিহীন খালিহাতে বিদায় নিতে হচ্ছে অনেককে। এমনকি হাইকোর্টে তাঁদের অধিকারের পক্ষে আবেদনের প্রেক্ষিতে রায় হয়েছে। আবার আপিলের রায় পুনর্বহাল, রিভিউ খারিজ হয়ে যাওয়ার পরও পেনশনারদের পেনশনপ্রাপ্তির জটিলতার নিরসন হচ্ছে না। কর্মচারীরা নিয়োগ পেয়েছে সারাজীবন তাঁর দায়িত্ব পালন করেছেন কিন্তু নিয়োগ প্রক্রিয়া, নিয়োগবিধি, রাজস্ব খাতে স্থানান্তর, পদ সৃষ্টি, পদায়ন ইত্যাদি কর্মচারীদের কাজ নয়। তবে কেন তাঁরা এ ভোগান্তির জন্য দায়ী হবেন? তাঁদের জব ডেসক্রিপশন অনুযায়ী তাঁরা তো কাজ করেছেন আর নিয়োগ ও পরবর্তী প্রক্রিয়াগত ব্যবস্থাপনার জন্য তাঁরা কোনোভাবেই দায়ী হতে পারেননা। তবে কেন তাঁরা শূন্য হাতে বাড়ি ফিরবেন? মানবকল্যাণবান্ধব সরকার অবশ্যই বিষয়গুলি নিয়ে অসহায়দের রিক্ত হস্তে ফিরে যাওয়া থেকে মুক্তির ব্যবস্থা করে দিলেই এটাই হবে সরকারি আইনের বাস্তব প্রয়োগ, যা সুফল বয়ে আনবে জনগণের ও সরকারের। 

সরকারি বিধিগত সার্ভিস রোল পার্ট-১ এর ২৫তম সংস্করণ নিয়ে কিছু বিশ্লেষণ:

 পেনশনযোগ্য চাকরির শর্তাদি মূল বিধি ২৫১ এর বিশ্লেষণ-১/ (৩) উক্ত চাকরির বেতন-ভাতাদি সরকারের রাজস্ব খাত হতে প্রদান করা হয়। উল্লেখ্য বর্তমানে স্থায়ী ও অস্থায়ী উভয় প্রকার চাকরি পেনশনের জন্য গণনাযোগ্য। 

বিশ্লেষণ-২:

কোনো পদ স্থায়ী না হওয়া সত্ত্বেও যদি উক্ত পদ ৫ (পাঁচ) বছরের অধিককাল বহাল থাকে এবং কোনো কর্মচারী উক্ত পদে ৫ (পাঁচ) বছর বা ততোধিককাল অধিষ্ঠিত থাকে তবে উক্ত পদের চাকরি বিধি ২৬৭/এ-এর অধীনে পেনশনের জন্য গণনা করা যাবে। বিধি ২৫৯ বিশ্লেষণ। 

চাকরির বিধানাবলী বর্ধিত ও সংশোদিত ৫৭তম সংস্করণ, সূচি ৫৭, পৃষ্ঠা ৩৩৭। মন্ত্রীপরিষদ বিভাগের আদেশ নং-মপবি/পঃবিঃসাঃ/ কপগ-১১/ ২০০১-১১১ তারিখ ৩ মে ২০০৩ দ্বারা নি¤œরূপ নীতিমালা জারি করা হয়: 

‘‘সরকার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে যে, রাজস্ব খাতে অস্থায়ীভাবে পদ সৃষ্টি, উন্নয়নপ্রকল্প থেকে রাজস্বখাতে পদ স্থানান্তর, পদ সংরক্ষণ, পদ স্থায়ী করণ ইত্যাদি বিষয়ে নি¤œরূপ নীতি ও পদ্ধতি অনুসৃত হবে। 

১। ক, খ, গ, ঘ, ঙ ২-এর ১ থেকে ৮ পর্যন্ত নীতিমালা। চাকরীর বিধানাবলী পৃষ্ঠা ৩৩৭, ৩৩৮-এ বিস্তারিত। সমাপ্ত উন্নয়ন প্রকল্প হতে রাজস্ব বােেজটের পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে বয়স শিথিলকরণ বিধিমালা ২০০৫ সূচি ৬১, ৬২, ৬৩, ৬৪, ৬৫, ৬৬, ৬৭, ৬৮, ৬৯, ৭০ এবং পৃষ্ঠা ৩৬৩ হতে ৩৯২ পৃষ্ঠা পর্যন্ত বিধানাবলীতে বিস্তারিত উল্লেখ আছে।  রাজস্ব-অরাজস্ব সরকারি সকল চাকরির ৯ এপ্রিল ১৯৭২ খৃষ্টাব্দ থেকে গণনাযোগ্য ও পেনশনযোগ্য উন্নয় প্রকল্প হতে রাজস্ব বাজেটে স্থানান্তরিত পদের পদধারীদের নিয়মিতকরণ ও জ্যেষ্ঠতা নির্ধারণ বিধিমাল ২০০৫। 

সংবিধানের ১৩৩ অনুচ্ছেদের শর্তাংশে প্রদত্ত ক্ষমতাবলে এবং ১৪০ (২) অনুচ্ছেদের বিধান মোতাবেক সরকারি কর্মকমিশনের সহিত পরামর্শক্রমে রাষ্ট্রপতি বিধিমালাটি প্রণয়ন করেন। বিধিমালাটি এসআরও নং ১৮২-আইন/ ২০০৫/সম/ বিধি-১/এস-৯/২০০০। তারিখ: ২০ জুন ২০০৫ দ্বারা জারি করা হয় এবং বাংলাদেশ গেজেটের ২০ জুন ২০০৫ তারিখের অতিরিক্ত সংখ্যায় প্রকাশ করা হয়। 

১। সংক্ষিপ্ত শিরোনাম- এই বিধিমালা উন্নয়ন প্রকল্প হতে রাজস্ব বাজেটে স্থানান্তরিত পদের পদধারীদের নিয়মিতকরণ ও জ্যেষ্ঠতা নির্ধারণ বিধিমালা ২০০৫ নামে অভিহিত হইবে। 

২। সংজ্ঞা- বিষয় কিংবা প্রসঙ্গের পরিপন্থি কোনোকিছু না থাকিলে এই বিধিমালায়- 

(ক) ‘‘উন্নয়ন প্রকল্প অর্থ ৯ এপ্রিল ১৯৭২ হতে ৩০ জুন ১৯৯৭ তারিখ পর্যন্ত সময়ের মধ্যে শুরু হওয়া সরকার অনুমোদিত উন্নয়ন বাজেটভূক্ত প্রকল্পসমূহ খ, গ, ঘ, ঙ, চ, ছ, জ। 

(৩), (৪) এর ১, ২, ৩-এর (৫)-এর ১, ২,৩, ৪, ৫, ৬।

(৬)-এর উন্নয়ন প্রকল্পের চাকরিকাল গণনা। নিয়মিতকৃত কোনো কর্মকর্তা/ কর্মচারী উন্নয়নপ্রকল্পের চাকরিকাল, তাহার বেতন, ছুটি, পেনশন ও আনুতোষিক সুবিধাদি নির্ধারণের ক্ষেত্রে গণনা করা হবে। 

(৭) অসুবিধা দূরিকরণ: এই বিধিমালা কার্যকরণের ক্ষেত্রে কোনো অসুবিধা দেখা দিলে উক্ত অসুবিধা দূরিকরণার্থে সরকার এই বিধিমালা সহিত যতদূর সম্ভব সঙ্গতি রক্ষা করিয়া আদেশ দ্বারা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করিতে পারিবে। 

স্পষ্টীকরণ: পৃষ্ঠা ৩৮৫, ৩৮৬, ৩৮৭, ৩৮৮-এ বিস্তারিত। 

উন্নয়ন প্রকল্প হতে রাজস্ব বাজেটে স্থানান্তরিত পদের পদধারীদের নিয়মিতকরণ ও জেষ্ঠ্যতা নির্ধারণ বিধিমালা ১৯৯৫ পৃষ্ঠা ৩৮৯, ৩৯০, ৩৯১, ৩৯২-এ বিস্তারিত। 

লেখক : সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক- বাংলাদেশ অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মচারী কল্যাণ সমিতি, সিলেট জেলা শাখা।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ