ঢাকা, শনিবার 30 December 2017, ১৬ পৌষ ১৪২৪, ১১ রবিউস সানি ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

ফিলিস্তিনীদের প্রতিরোধ আন্দোলন অব্যাহত নারী-শিশুসহ আটক ৬ শতাধিক

ইসরাইলি সেনার হাত থেকে এক ফিলিস্তিনি কিশোরকে উদ্ধার করতে স্বজনদের ধস্তাধস্তি

 

২৯ ডিসেম্বর, আলজাজিরা : জেরুসালেমকে ইসরাইলের রাজধানী হিসেবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের স্বীকৃতির প্রতিবাদে ফিলিস্তিনিদের ইন্তিফাদায় (প্রতিরোধ আন্দোলন) ইসরাইলি বাহিনীর হামলায় এ পর্যন্ত অন্তত ১৫ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। নারী ও শিশুসহ গ্রেপ্তার করা হয়েছে অন্তত ৬২০ জনকে। এছাড়াও ছোট ছোট শিশুদের ধরে নিয়ে খাঁচায় বন্দি করে পৈশাচিক নির্যাতনের ঘটনাও প্রকাশ পেয়েছে।

গত ৬ ডিসেম্বর ট্রাম্পের ওই ঘোষণার পরই এর প্রতিবাদে রাস্তায় নেমে আসেন ফিলিস্তিনিরা। ৮ ডিসেম্বর শুক্রবার থেকে ইসরাইলের বিরুদ্ধে ইন্তিফাদা বা সর্বাত্মক প্রতিরোধের ডাক দেয় ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাস; যা এখনো অব্যাহত রয়েছে।

প্যালেস্টাইনিয়ান প্রিজনার্স ক্লাব (পিপিসি)-এর হিসাবে, ইসরাইলি বাহিনীর হাতে গ্রেপ্তারকৃত ফিলিস্তিনিদের মধ্যে ১২ জন নারী এবং ১৭০টি শিশুও রয়েছে। এছাড়া আহত অবস্থায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

 গ্রেপ্তারকৃতদের বেশিরভাগকেই রাতের অন্ধকারে সামরিক অভিযান চালিয়ে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্যদের একটা বড় অংশই ট্রাম্পের ওই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ বিক্ষোভে শামিল হতে গিয়ে ইসরাইলি বাহিনীর ধরপাকড়ের শিকার হয়েছেন। এই ধরপাকড় থেকে মুক্তি পাননি বিদেশিরাও। আল আকসা মসজিদ প্রাঙ্গণ থেকে তুরস্কের তিন নাগরিককে তুলে নিয়ে যায় ইসরাইলি বাহিনী। পরে অবশ্য দুজনকে দেশে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।

ধরপাকড়ের মধ্যেই ইসরাইলি দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে প্রায় প্রতিদিনই রাজপথে নামছেন ফিলিস্তিনিরা। আওয়াজ তুলছেন নিজেদের স্বাধিকারের দাবিতে। জেরুজালেম, গাজা উপত্যকা, পশ্চিম তীরের রামাল্লা, হেবরন, বেথলেহেম, নাবলুস, কালকিলিয়া, তুলকার্ম ও জেনিনের রাস্তায় ফিলিস্তিনের স্বাধীনতার দাবিতে স্লোগান তুলছেন তারা। বিক্ষোভকারীদের ওপর হামলে পড়ছে ইসরাইলি বাহিনী।

তবে এতে দমে যাননি মুক্তিকামী মানুষেরা। প্রতিবাদ বিক্ষোভ অব্যাহত রেখেছেন তারা। ট্রাম্প আর নেতানিয়াহু’র ছবি পুড়িয়ে, আমেরিকা-ইসরাইলের পতাকা জ্বালিয়ে দিয়ে স্লোগান তুলছেন, ফিলিস্তিনিদের রাজধানী নির্ধারণের অধিকার আমেরিকাকে কেউ দেয়নি। আর হামাস নেতা ইসমাইল হানিয়া বলেছেন, ইসরাইল নামে কোনও দেশ নেই। তাই এর কোনও রাজধানীও থাকতে পারে না।

ইসরাইল-ফিলিস্তিনী সংকটের সবচেয়ে স্পর্শকাতর বিষয় হলো জেরুজালেম। ১৯৮০ সালে জেরুজালেমকে রাজধানী ঘোষণা করেছিল ইসরায়েল। তবে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এর সমর্থন দেয়নি। আর ফিলিস্তিনিরা চায় দখলকৃত পূর্ব জেরুজালেম যেন তাদের রাজধানী হয়। এ কারণে সেখানে কোনো দেশ দূতাবাস স্থাপন করেনি। সবগুলো দূতাবাসই তেল আবিবে অবস্থিত।

মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন নীতির বাইরে গিয়ে গত ৬ ডিসেম্বর জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। এরপর থেকেই বিশ্বজুড়ে নিন্দার ঝড় বইছে। আর ফিলিস্তিনে শুরু হয়েছে তীব্র বিক্ষোভ। সশস্ত্র সংগ্রামের প্রস্তুতি নিচ্ছে ফিলিস্তিনের মুক্তি আন্দোলনের সংগঠন হামাস।

 

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ