ঢাকা, শনিবার 30 December 2017, ১৬ পৌষ ১৪২৪, ১১ রবিউস সানি ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

জামিনে মুক্তি পেল ফিলিস্তিনী কিশোর ফাউজি আল-জুনাইদি

ফিলিস্তিনী কিশোর ফাউজি আল-জুনাইদিকে জামিনে মুক্তি দিয়েছে ইসরাইলের সামরিক আদালত। ইনসেটে, ইসরাইলি আদালতে হাজির করা হয় কিশোরী আহমেদ তামিমিকে

২৯ ডিসেম্বর, আলজাজিরা : প্রায় তিন সপ্তাহ কারাগারে আটক থাকার পর বুধবার ফিলিস্তিনী কিশোর ফাউজি আল-জুনাইদিকে জামিনে মুক্তি দিয়েছে ইসরাইলের সামরিক আদালত।

আগামী ৭ জানুয়ারি আবারো সামরিক আদালতে হাজির হওয়ার শর্তে জুনাইদিকে জামিন দেয়া হয়েছে। পাশাপাশি ১০ হাজার ইসরাইলি শেকেল (প্রায় ২,৮৬০ ডলার) পরিশোধ করার জন্য তার পরিবারকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

ডিসেম্বরের শুরুর দিকে ইসরাইলী সেনাদের নির্মমতার শিকার ১৬ বছর বয়সী জুনাইদির একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ছবিতে দেখা যায় মাথায় হেলমেট ও হাঁটুতে প্যাড লাগিয়ে সুরক্ষিত থাকা ২৩ জন ইসরাইলী সেনা সাধারণ একটি টি শার্ট ও জিন্স প্যান্ট পরা কিশোরকে ঘেরাও করে চোখ বেঁধে নিয়ে যাচ্ছে।

 সে সময় তার মুখে পিটুনির ছাপ ছিল স্পষ্ট। সেই দৃশ্যটি ক্যামেরাবন্দী হয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে পড়ে এবং নিন্দার ঝড় ওঠে। শুক্রবার আটক হওয়া জুনাইদি নামের ওই কিশোরকে ১১ ডিসেম্বর ইসরাইলের সামরিক আদালতে হাজির করা হয়। ইসরাইলী বাহিনীর দাবি, জুনাইদি তাদের ওপর পাথর নিক্ষেপ করেছে। তবে জুনাইদির আইনজীবী ফারাহ বায়াদসির দাবি, তার মক্কেল বিক্ষোভে ছিল না।

ফারাহ বায়াদসি বলেন, ‘জুনাইদি বলেছে কাঁদানে গ্যাস যখন ছোড়া হচ্ছিল তখন সে আতঙ্কিত ছিল এবং দৌড়াচ্ছিল। তাকে একটি রাইফেল দিয়ে পেটানো হয়েছে। মুখের পাশাপাশি তার ঘাড়, বুক এবং পিঠে কালশিটে দাগ হয়ে গেছে।’

জুনাইদি বিক্ষোভে ছিলেন না বলে দাবি করেছেন তার চাচা রাশাদও। আল জাজিরাকে তিনি বলেন, ‘জুনাইদি ভুল সময়ে ভুল জায়গায় ছিল। ও দোকান থেকে কিছু জিনিসপত্র কিনতে গিয়েছিল। ও যখন দোকান খুঁজছিল তখন দুর্ভাগ্যজনকভাবে সামরিক বাহিনীর অভিযানের মধ্যে পড়ে যায় এবং ইসরাইলি বাহিনীর মুখোমুখি হয়ে পড়ে। তারা তাকে পিটিয়েছে, চোখ বেঁধে নিয়ে গেছে এবং প্রথমে পার্শ্ববর্তী ইসরাইলি বসতিতে অবস্থিত একটি আটক কেন্দ্রে নিয়ে গেছে। রাত দুইটার সময় তাকে আরেকটি আটক কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়। পরদিন তাকে অফার কারাগারে নেওয়া হয়।’

প্রসঙ্গত, গত ৬ ডিসেম্বর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বায়তুল মুকাদ্দাস শহরকে ইসরাইলের রাজধানী ঘোষণা দিয়ে মার্কিন দূতাবাস তেল আবিব শহর থেকে পবিত্র শহরটিতে স্থানান্তরের নির্দেশ জারি করেন।

বায়তুল মুকাদ্দাস বিষয়ে নেয়া ট্রাম্পের তড়িৎ নীতির বিরুদ্ধে ওয়াশিংটনের ঘনিষ্ঠ মিত্রসহ বিশ্ব সমাজ ক্ষোভে ফেটে পড়েছে। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে ইসরাইল-মার্কিন বিরোধী প্রতিবাদ বিক্ষোভ চলছে। এছাড়া, ট্রাম্পের স্বীকৃতিকে প্রত্যাখ্যান করে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে বেশিরভাগ দেশ ভোট দিয়েছে। এরপরও যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল পিছু না হটে জেরুজালেম নিয়ে নানা ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে। 

অন্যদিকে এক ফিলিস্তিনি কিশোরীর হাতে দুই সেনার চড় খাওয়ার ভিডিও ভাইরাল হওয়া ও এরপর বিষয়টি নিয়ে উত্তপ্ত বিতর্ক ছড়িয়ে পড়ার পর ইসরায়েলি সেনা আদালত ওই কিশোরী ও তার মায়ের সেনা হেফাজতে থাকার মেয়াদ বাড়িয়েছে। ইসরায়েলি সেনাবাহিনী মুখপাত্র বলেছেন, আহমেদ তামিমিকে (১৬) তার মা নরিমনের (৪৩) সঙ্গে সোমবার পর্যন্ত সেনা হেফাজতে থাকার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। তবে তার আত্মীয় নূরকে রোববার ছেড়ে দেয়া হবে যদি এ সময়ের মধ্যে তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগের প্রমাণ না পাওয়া যায়।

তাদের আটকের প্রতিবাদে অধিকৃত পশ্চিম তীরে সেনা কারাগারের সামনে বেশ কয়েকজন ফিলিস্তিনি বিক্ষোভ করেছেন। বিক্ষোভকারীদের সরাতে সাউন্ড গ্রেনেড ও টিয়ার গ্যাস ব্যবহার করে ইসরায়েলি সেনারা।

তামিম ও তার মাকে ১৯ ডিসেম্বর আ্টক করা হয়। তামিমিকে নিয়ে আগেও বিতর্ক হয়েছে। ওই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর অভিযোগ, উসকানি দিতে তামিমির পরিবার সুপরিকল্পিতভাবে তাকে ব্যবহার করছে। ইসরায়েল দুই সেনাকে লাথি চড় মারার ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর ১৬ বছর বয়সী ওই কিশোরীকে ফিলিস্তিনিদের আইকন বলা হচ্ছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ