ঢাকা, রোববার 31 December 2017, ১৭ পৌষ ১৪২৪, ১২ রবিউস সানি ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

মুখরিত হোক শিশুদের হাসি আনন্দ গানে

সুহৃদ আকবর : আজকের শিশু আগামী দিনের নাগরিক। স্কুলে অধ্যয়নকালে ভাব সম্প্রসারণে পড়েছিলাম-‘ঘুমিয়ে আছে শিশুর পিতা সব শিশুরই অন্তরে।’ সুকান্ত ভট্টাচার্য শিশুদের জন্য বাসযোগ্য নিরাপদ আবাস গড়তে চেয়েছেন। ছাড়পত্র কবিতায় তার উল্লেখ আছে এভাবে-
‘এসেছে নতুন শিশু, তাকে ছেড়ে দিতে হবে স্থান;
জীর্ণ পৃথিবীতে ব্যর্থ, মৃত আর ধ্বংসস্তূপ-পিঠে
চলে যেতে হবে আমাদের।
চলে যাব-তবু আজ যতক্ষণ দেহে আছে প্রাণ
প্রাণপণে পৃথিবীর সরাব জঞ্জাল,
এ বিশ্বকে এ শিশুর বাসযোগ্য করে যাব আমি
নবজাতকের কাছে এ আমার দৃঢ় অঙ্গীকার।
শিশুরা হচ্ছে কোমল প্রাণ, কাদা মাটির দলার মতো। কাদা মাটিকে যে রকম খুশি সে রকম গঠন করা যায়। ঠিক শিশুদেরকেও বড়রা যে রকম নির্দেশনা দেন, সে সেভাবেই গড়ে উঠে। শিশুদের একটা প্রবণতা হচ্ছে তারা অতি সহজে বড়দেরকে অনুকরণ করে। বড়রা হাসলে তারা হাসে, বড়রা কাঁদলে তারা কাঁদে, বড়রা মাথা গরম করলে তারাও মাথা গরম করার চেষ্টা করে। বড়রা সিগারেট খেলে শিশুও একদিন লুকিয়ে লুকিয়ে সিগারেট খেতে চেষ্টা করে। প্রথমে বড়দের খাওয়া সিগারেটের গোড়া দিয়ে তারা সিগারেট খাওয়ার প্র্যাকটিস করে। এরপর সে সিগারেট খাওয়ায় অভ্যস্ত হয়ে পড়ে। এভাবে ধীরে ধীরে সে মদ, জুয়া, হেরোইন সেবন পর্যন্তও করে বসে। আর আমাদের দেশের বাবারা এতোই অসচেতন যে, তারা ছেলেদেরকে সিগারেট আনতে পাঠায়। এতে শিশুর কোমল মনে সিগারেটের প্রতি একটা ভাবনা তৈরী হয়ে যায়। এভাবে আমাদের সমাজে-দেশে শিশুরা পদে পদে সুযোগ আর সুষ্ঠু পরিবেশ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। বেড়ে উঠা তো পরের কথা। গ্রামের ছেলেরা সামান্য সুযোগ-সুবিধা পেলেও শহরের ছেলেরা এসব সুযোগ একেবারেই পাচ্ছে না। খেলার মাঠ না পেয়ে তারা ভিডিও গেম খেলে সময় পার করছে। বর্তমানে আমাদের শিশুরা যে, সঠিকভাবে বেড়ে উঠার সুযোগ পাচ্ছে না তার কিছু বিররণ নিচে তুলে ধরছি।
* শিশুদের জন্য পর্যাপ্ত খেলার মাঠ নাই: এর ফলে শিশুরা ভিডিও গেম খেলে সময় পার করছে। যার কারণে অধিকাংশ ছেলে তাদের শরীর গঠন করার সুযোগ পাচ্ছে না। তারা মুটিয়ে যাচ্ছে।
*   ভিডিও গেম শিশুদেরকে খেলা বিমুখ করে গড়ে তুলছে। যার কারণে শহরে ছেলেদের অধিকাংশকেই  চোখে সমস্যা দেখা দিয়েছে। তাদেরকে চশমা পরতে দেখা যায়।
*  বর্তমানে শিশুরা মা-বাবার ভালবাসা থেকে বঞ্ছিত হচ্ছে। এতে শিশু মনে বিরূপ প্রভাব পড়ছে। শিশুরা সুখে-দুঃখে মা-বাবাকে কাছে পাচ্ছে না যার ফলে সে যার তার সাথে মিশে নিজেকে বিপদের সম্মুখীন করছে প্রতিনিয়ত।
*  অনেক শিশুরা কাজের ছেলে অথবা কাজের বুয়ার কাছে লালিত-পালিত হয়। এতে করে কাজের বুয়ার মুখের বুলি কাজের ছেলের মুখের গালি তারা শিখে নিচ্ছে নির্দিধায়। একজন কাজের ছেলে কিংবা মেয়ের কাছে একজন শিশু কিছুতেই নিরাপদে বেড়ে উঠতে পারে না।
* ছেলে-মেয়েদেরকে ছোটবেলা থেকে ধর্মীয় শিক্ষা দেয়া হচ্ছে না। তাতে শিশুরা শিক্ষার নৈতিক জ্ঞানের অধিকারী হতে পারছে না। পাঁচ হাজার কিংবা দশ হাজার টাকা ব্যয় করে শিশুর জন্য অংক, ইংরেজী, রসায়ন, পদার্থ বিজ্ঞানের শিক্ষা রাখলেও দুই হাজার টাকা ব্যয় করে কুরআন শরীফ শিখানোর জন্য কোন শিক্ষক নিয়োগ করছে না। যার ফলে শিশুর নৈতিক জ্ঞান অর্জন হচ্ছে না।
*  বর্তমানে আট দশ বছরের ছেলে-মেয়েরা ইন্টারনেট ব্যবহার করতে জানে। এতে করে অনেক সময় তাদেরকে দেখা যায়, রুমের দরজা বন্ধ করে একাএকা খারাপ ছবি দেখে। এবং সেভাবে তারা নিজেরা অনুকরণ করার চেষ্টা করে। তাই সন্তানদের বয়ঃসন্ধিকালে মা-বাবাদের উচিত হবে ছেলে-রেময়েদেরকে পাশে রেখে আদর যত্ন করা। ভালবেসে পরামর্শ দেয়া, সঠিক পথ বাতলে দেয়া।
পরিশেষে আগামীর দিন হোক শিশুদের জন্য বাসযোগ্য। তারা নিরাপদে বেড়ে উঠুক নিরাপদে, নির্ভাবনায়, নিঃসংকোচে। দেশের প্রতিটি জনপদ মুখরিত হোক শিশুদের হাসি আনন্দ গানে আর নাচে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ