ঢাকা, রোববার 31 December 2017, ১৭ পৌষ ১৪২৪, ১২ রবিউস সানি ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

জবা, প্রজাপতি আর প্রিয় খালের পাড়

শামীম খান যুবরাজ : আমাদের বাড়ির চারপাশে জবার ঝাড়। ফুল ফুটে লাল হয়ে থাকে। জবা আমার প্রিয় ফুল। রক্তজবা বলেই রক্তের মতো লাল ফুল ফোটে। প্রায় সারাবছরই ফুটে থাকে জবা। কোনো এক বর্ষায় কোথা থেকে যেন জবা গাছের একটি ডাল এনে মাটিতে পুঁতে দিই।
আর তাতেই বড় আকারের গাছে পরিণত হয় জবা। ডালপালা আর সবুজ পাতা নিয়ে অনেক বড় জায়গা দখল করে নেয় গাছটি। এ গাছটি থেকেই আরো কিছু ডাল কেটে এক বর্ষায় বাড়ির চারপাশে লাগিয়ে দিলে পুরো বাড়ি সবুজ আর লালে ভরে যায়।
আমাদের বাড়ির পেছনে ছোট্ট খাল। খালের পাড়ে জবার ঝাড়। আমি ইশকুল থেকে ফিরে খালের পাড়ে পা ঝুলিয়ে বসি, জবার সঙ্গে গল্প করি। ফুলের ওপর রঙ-বেরঙের প্রজাপতিরা ওড়ে, আমি তাদের সঙ্গেও গল্প করি। জবা আর প্রজাপতি এখন আমার প্রিয় সঙ্গি হয়ে গেছে অজান্তেই, আর খালের ওই পাড়টা? ওটাতো আমার সবচেয়ে প্রিয় জায়গা। সারাদিন আমি ওর সঙ্গেই তো খেলি। সে আমাকে তার কোলে বসতে দেয়। তার নরম ঘাসের ওপর বসে আমি খালের স্রোতের শব্দ শুনি, ছোট ছোট ঢেউ গুনি। কাগজের নৌকা বানিয়ে খালের পানিতে ছেড়ে দিই। ঢেউয়ের তালে দুলে ওঠে নৌকা তারপর স্রোতের টানে হারিয়ে যায়।
ঠিক এভাবেই হারিয়ে গেছে আমার জবা, প্রজাপতি আর প্রিয় খালের পাড়।
একবার ভরা বর্ষার মৌসুমে আমি নানার বাড়ি বেড়াতে যাই। এই ফাঁকে বাড়ির বড়রা খালের পাড় থেকে জবার গাছগুলো কেটে ফেলে, তাদের অভিযোগ জবার ঝাড় খালের স্রোত আটকে রাখে, ঠিকমতো পানি চলাচল করতে না পারলে বড় বিলে পানি জমে থাকবে আর সব ধান পচে যাবে।
এই অভিযোগে কেটে ফেলা হলো আমার প্রিয় জবাগাছকে, আমার প্রিয় সঙ্গিকে। সঙ্গি হারিয়ে প্রজাপতিগুলো অভিমানে চলে গেলো দূরে কোথাও। আর খালের পাড়ও সইতে পারলো না বন্ধুর এমন করুণ পরিণতি। খালের পাড়টি রাগে-গোস্যায় খালের পানির সঙ্গে মিশিয়ে নিলো নিজের শরীর।
আমার প্রিয় জবাগাছ নেই, প্রজাপতিরা নেই। প্রিয় বন্ধু খালের পাড়ও ঝাঁপ দিলো খালে। তাই আমার মনও ভালো নেই। কোথাও খেলতে ইচ্ছে করে না। সারাদিন ঘরে বসে থাকি, ইশকুল থেকে ফিরে মোবাইলে গেম খেলে সময় কাটাই।
আসলে বড়রা ছোটদের একদম বুঝতে চেষ্টা করে না, তাঁরা শুধু নিজেদের নিয়ে ভাবেন। আমাদের ছোট্ট মনের ছোট্ট ছোট্ট স্বপ্ন আর ভালোলাগার কথাগুলো বোঝে শুধু গাছপালা, ফুল, পাখি আর প্রজাপতিরা।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ