ঢাকা, রোববার 31 December 2017, ১৭ পৌষ ১৪২৪, ১২ রবিউস সানি ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

ছড়া/কবিতা

পউষ এল
ফররুখ আহমদ

    উত্তরী বায় এলোমেলো
    পউষ এল! পউষ এল!
হিমেল হাওয়ায় শিরশিরিয়ে
এল অচিন সড়ক দিয়ে,
    মাঠ, ঘাট, বন ঝিমিয়ে গেলো;
    পউষ এল! পউষ এল!

        মাঠের ফসল আসলো ঘরে,
        ধান দেখে ভাই পরাণ ভরে
            কিষাণ-চাষীর মন ভরে যায়
            গল্পে গানে; মিঠাই, পিঠায়,
        গুড় পাটালির  সোয়াদ পেলো;
        পউষ এল! পউষ এল!
   
    মন ভেসে যায় তেপান্তরে
    পদ্মা-মধুমতীর চরে,
কাঁপন জাগে শীতের হাওয়ায়,
হাজার পাখীর ঝাঁক উড়ে যায়
    পর পাখনা এলোমেলো!
    পউষ এল! পউষ এল!!


শীতের বুড়ী
আশরাফ জামান

শীতের বুড়ী থুত্থুরী
    এবার ফিরে যাও
গরীব-নিঃস্ব মানুষদেরে
    একটু বাঁচতে দাও।

ধনী যারা দালান কোঠায়
    থাকে আরাম করে
দিন রাতে তাদের জীবন
    থাকে সুখে ভরে।

শীতের বুড়ী থুত্থুরী
    বস্তি ছেড়ে যাও
সেথায় যারা বাস করে
    তাদের রেহাই দাও।

উদোম শিশু ভূখা নাঙ্গা
    মানুষেরা জাগুক
ধরার মাঝে তারা এবার
    একটু বেঁচে থাকুক।


গড়বো সুখের দেশ
বাতেন বাহার

একাত্তরের পঁচিশে মার্চ
রাত বারোটার পর
ছেড়ে নিজের ঘর!
সেই যে গেলাম-যখন এলাম
তখন ডিসেম্বর,
কণ্ঠে অগ্নিস্বর!
চোরা গোপ্তা যুদ্ধ ট্রেনিং
নিয়ে পাশের দেশে
নিলাম শপথ হেসে!
জীবন মরণ যুদ্ধ করে-
সেই যুদ্ধে জিতে
স্বস্তি নিয়ে চিতে
ডিসেম্বরের ষোল তারিখ
ফিরে নিজের বাড়ি
দেখি-লাশের কাঁড়ি!
বুকটা আমার ভেঙে তখন
হলো রে খান্ খান্
দুঃখ অফুরান!
রক্তে ভেজা দেশটা দেখে
শপথ নিলাম ফের
হবো-সিংহ-শের
সোনার বাংলা সোনায় ভরে
গড়বো সুখের দেশ
ভুলে হিংসা দ্বেষ।


লাল সবুজের পতাকা
হোসেন মোতালেব

এই আমি আজ বড্ড খুশী জন্মেছি এই দেশে
অবলীলায় ঘুরছি এখন বীর বাঙালীর বেশে ।
ছিলনাকো স্বাধীনতা মুক্ত মনে চলতে
বুক দুর দুর করতো সদা সত্য কথা বলতে ।

সব অধিকার বঞ্চিত আর সকল কাজেই ভিতি
 বৈপিরীত্য, বিঘ্ন, বাধা এটাই ওদের নীতি ।
এমন নীতি যায় না মানা উঠব সবাই জেগে
দেখব সেদিন দুর্বৃত্তের দল গিয়েছে ভেগে ।

সত্যি সেদিন পূব আকাশে উঠলো নতুন রবি
লাল সবুজের পতাকাতে নতুন দেশের ছবি।


পিঠা উৎসব
নারায়ণ চন্দ্র রায়

শীত এলেই শীতের পাখি
আকাশেতে উড়ে,
হাওর-বাওর-জলাশয়ে
ডানা মেলে ঘুরে।

জলাশয়ের দুই ধারে
খাবার খুঁজে নিত্য,
খাবার খেয়ে অতিথিদের
নেচে উঠে চিত্ত।

অতিথিদের আগমনে
পড়ে যায় সারা,
পিঠা-পায়েস উৎসবে
মেতে উঠে পাড়া।


হিজিবিজি
শাহাদাৎ সরকার

ইচ্ছে হলেই আমি কেন উড়তে পারি না
মেঘের মতো নীল আকাশে ঘুরতে পারি না
পাখির মতো ক্যান পারি না মেলতে দু’টি ডানা
এমন সব প্রশ্নগুলো দেয় যে মনে হানা।
পাহাড় কেন দাঁড়িয়ে থাকে একা?
চাঁদমামাটা দিনের বেলা দেয় কেন দেখা?
সূর্য ক্যানো রাতের বেলা ছড়ায় না তার আলো?
রাতটা কেন ভূতুড়ে আর কঠিনতরো কালো?
ভোর বেলাতে পাখির গান শুনতে থাকি রোজ
রাত্রি হলে জোনাক দেখি পাই না পাখির খোঁজ
পায় না মাটির আদর মাখা সোদাসোদা গন্ধ
ইট-পাথরের শহরটাকে তাও লাগে না মন্দ
সবল কিছুরই নিয়ম আছে আমার নিয়ম নাই
আমি হলাম উদাস করা উত্তরীয় বায়।


নবীর গুণে
রানা হোসেন

এই সূর্য ছড়ায় আলো
যে বাতাস বয়,
সবুজ শ্যামল এই প্রকৃতি
ফুলের গন্ধময়।

সাহস এবং মুক্ত প্রাণের
তূর্য যিনি ছিলেন,
নতুন জীবন স্বপ্নের পূথিবী
ভরিয়ে নবী দিলেন।

এই মাটি আপন বক্ষে
নবীর গুণ গান,
উদাস যেন বনের পাখি
রাখতে নবীর  মান।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ