ঢাকা, রোববার 31 December 2017, ১৭ পৌষ ১৪২৪, ১২ রবিউস সানি ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

তাড়াশে সরিষা আবাদ হ্রাস পাচ্ছে

তাড়াশ (সিরাজগঞ্জ) : রবিশস্য আবাদের জন্য অন্যতম চলনবিল অধ্যুষিত তাড়াশ উপজেলার কৃষকরা এ বছরও তিন হাজার হেক্টর জমিতে সরিষার আবাদ করা থেকে বঞ্চিত রয়ে গেলেন। সরকারি খাল, নয়নজুলি ও জলাধারগুলো ক্রমান্বয়ে ভরাট হয়ে যাওয়ায় বিস্তীর্ণ মাঠ থেকে বন্যার পানি খুবই ধীরগতিতে নামছে। একই সঙ্গে বর্ষা মৌসুমের শেষের দিকে পানি প্রবাহের পথে নিষিদ্ধ সুতিজাল পেতে বাধা সৃষ্টি করায় প্রতি বছর হাজার হাজার বিঘা সরিষা কমে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন কৃষি বিভাগ।
সিরাজগঞ্জ, নাটোর, পাবনা জেলাার চলনবিলের নদীগুলোর মুখে পানি প্রবাহের পথ আটকিয়ে সুতিজাল পেতে পানির চলাচলের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টিতে বিল,ও মাঠ থেকে বন্যার পানি নামতে দেরিহয়েছে। ক্ষমতাশীন সব দলেরই প্রভাব,
পেশীশক্তির অপব্যবহার নদীর জবর থেকে মুক্তকরা সম্ভব হয়নি। অগত্য কারণে স্থানীয় প্রশাসন কোন পদক্ষেপ নেননি। এলাকাবাসিরা জানান নদী দখল বানিজ্য ব্যাপারে প্রশাসনকে খবর দিলে তারা রেগে যান। এভাব প্রতি বছর কৃষকরা সরিষার আবাদ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। চলনবিলে প্রশাসনের নজরদারির অভাবে অনাবাদীই থেকে গেল হাজার হাজার হেক্টর জমি। কৃষক ফরমান আলী, মোঃ রেজাউল করিম,মাওলানা আঃ রশিদ, আবু হানিফ, সুফিয়ান মোল্লা, ডানেস প্রামানিক, রহিম উদ্দিন জানান, বছর দুয়েক আগেও অক্টোবর মাসের শেষ নাগাদ মাঠ থেকে বন্যার পানি একেবারে নেমে যেত। ॥ব অপরিকল্পিত পুকুর খনন, সরকারি খাল-নালা ভরাট আর বেশির ভাগ গ্রামীণ ব্রিজের মুখ মাটি দিয়ে বন্ধ করে দেওয়ায় এখন আর সহজে পানি নামতে পারে না। এ ছাড়াও প্রতি বর্ষায় হাটিকুমরুল-বনপাড়া মহাসড়কের তাড়াশ অংশে নয় নম্বর-১০ নম্বর ব্রিজ, সগুনা ইউনিয়নের কুন্দইল-ভেটুয়া এলাকা এবং মাগুড়া বিনোদ ইউনিয়নেরগবর জঙ্গল-চরকুশাবাড়ি এলাকার বেশ কয়েকটি পানি প্রবাহের গুরুত্বপূর্ণ পথে সুতিজাল পেতে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করায় সরিষার আবাদ করা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন তারা।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. সাইফুল ইসলাম জানান, গত বছরও নানা প্রতিবন্ধকতায় দুই হাজার দুইশ হেক্টর জমিতে রবিশস্য আবাদ করা সম্ভব হয়নি। এ বছরও একই কারণে তিন হাজার হেক্টর রবিশস্য আবাদ করা থেকে বঞ্চিত থেকে গেলেন কৃষক।
এ প্রসঙ্গে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এসএম ফেরদৌস ইসলামের বক্তব্য- জলাবদ্ধতা নিরসনে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে শুষ্ক মৌসুমে সরকারি জলাধারগুলো দখলমুক্ত করতে সব ধরনের প্রয়োজনীয় কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন। একই সঙ্গে আগামী বছর অবৈধ সোতিজাল পাতার কারণে পানি প্রবাহের পথ যেন সংকুচিত না হয় সে দিকেও সজাগ দৃষ্টি রাখবেন তিনি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ