ঢাকা, রোববার 31 December 2017, ১৭ পৌষ ১৪২৪, ১২ রবিউস সানি ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে কেঁচোসার

তাড়াশ (সিরাজগঞ্জ): পাবনা, নাটোর সিরাজগঞ্জে কেঁচোসার (ভার্মি কম্পোজস্ট) কৃষকদের কাছে জনপ্রিয় হয়ে উঠার পাশাপাশি এর চাহিদাও দিন দিন বেড়ে চলেছে জেলাব্যাপী। এর উৎপাদন ও ব্যবহারে সফলতার মুখ দেখছেন কৃষক। জেলার বিভিন্ন এলাকার গোখামার থেকে উৎপাদনকারীরা গোবর ক্রয় করে এ সার তৈরি করছেন। এতে করে একদিকে পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে না অপরদিকে জৈব সার উৎপাদন হচ্ছে।
সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলায় কেঁচোসার উৎপাদনে কৃষকদের আগ্রহ বেড়েছে। বর্তমানে সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলায় ৪০ জন কৃষক ১২০টি রিংয়ের মাধ্যমে এ সার উৎপাদন করছেনে। এছাড়াও এলাকার অন্যান্য কৃষকরাও তাদের নিজ উদ্যোগে কেঁচোসার উৎপাদন শুরু করেছে। সিরাজগঞ্জ সদর কৃষি বিভাগ তাদের নিজস্ব উদ্যোগে কেঁচো কম্পোস্ট উৎপাদনের প্রশিক্ষণ ও চাক্ষুস উৎপাদন কলা কৌশল শিখিয়ে দিচ্ছেন এবং ইতোমধ্যেই ১৫ জন চাষির মধ্যে বিনা মূল্যে কেঁচো সরবরাহ করেছেন, ফলে প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় ব্যক্তিগতভাবে কৃষকরা কেঁচোসারের রিং স্থাপন করছেন। পাশাপাশি কৃষক নিজেরা বিভিন্ন জায়গা থেকে ব্যক্তিগতভাবে কেঁচো সংগ্রহ করে সার তৈরি করছেন। ব্যক্তিগত উদ্যোগে জেলায় দুই শতাধিক কৃষক কেঁচো সার তৈরি করছেন। এছাড়া বিভিন্ন এনজিও কেঁচোসার স্থাপন করছেন। বাগবাটী ইউনিয়নের ফুলকোচা আইএফএমসি কৃষক ক্লাবে কৃষি অফিস থেকে কেঁচো নিয়ে সার উৎপাদন করছেন। বর্তমানে তাদের ২০ রিং এর মাধ্যমে কেঁচোসার উৎপাদন হচ্ছে। উৎপাদিত কেঁচোসার নিজেরা জমিতে ব্যবহার করার পাশাপাশি স্থানীয় কৃষকদের মাঝে বিক্রি করছেন।
ফুলকোচা আইএফএমসি কৃষক ক্লাবের সভাপতি হাবিবুর রহমান বলেন, ‘কৃষি অফিস থেকে এবং নিজ উদ্যোগে কিছু কেঁচো সংগ্রহ করে এই সার উৎপাদন শুরু করি দুই বছর আগে। বর্তমানে কেঁচো ও সার বিক্রি করে মাসে প্রায় ১০,০০০ টাকা আয় করছি।’
সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার ফুলকোচা গ্রামের কৃষক আব্দুল হক বলেন, ‘আমি আগে ইউরিয়াসহ বিভিন্ন রাসায়নিক সার ব্যবহার করেছি। কিন্তু কেঁচোসার আসার পর থেকে এ সারই ব্যবহার করছি। আগের তুলনায় এখন আমার খরচ কম হয় এবং ফসলের ফলন বেশি হয়। আমার দেখাদেখি এলাকার আরো অনেক কৃষক এই সার ব্যবহারে আগ্রহী হয়ে উঠেছে।’
সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. রোস্তম আলী বলেন, ‘কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলায় রাজস্ব খাতের অর্থায়নে এবং এনএটিপি প্রকল্পের আওতায় কেঁচোসার প্রদর্শনী করে কৃষকদের হাতে-কলমে উৎপাদন কলাকৌশল শিখিয়ে দেওয়ায় কৃষকদের মাঝে এ সার তৈরির আগ্রহ বেড়েছে। মাটিবাহিত যে সমস্ত ছত্রাক রাসায়নিক ছত্রাক দ্বারা নিয়ন্ত্রণ করা যায় না, কেঁচোসারের মধ্যে থাকা ট্রাইকোডার্মা নামক অণুজীব সেগুলোকে ধ্বংস করে। ট্রাইকোডার্মা অনুজীব গাছের শিকড়ে অবস্থান করে। ফলে অপকারী ছত্রাকগুলোর সেল ওয়াল ভেঙে দেয় এবং নেমাটোড ধ্বংস করে। এই সারে পুষ্টিগুণ বেশি থাকায় বাজারে সারের চাহিদা আছে। কৃষকদের এই সার তৈরিতে আগ্রহী করার লক্ষ্যে ইতোমধ্যেই সিরাজগঞ্জ সদর কৃষি অফিসের উৎপাদিত কেঁচোসার কৃষকদের মাঝে বিনা মূল্যে সরবরাহ করায় কৃষকরা এ সার উৎপাদনে আগ্রহী হয়েছে এবং সারের গুণগতমান ভালো হওয়ায় সারের ব্যবহারও দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। এতে এক দিকে যেমন কৃষকের আর্থিক সাশ্রয় হচ্ছে, অপর দিকে তাদের ফসলের ফলন ভালো হওয়ায় তারা লাভবান হচ্ছে।’

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ