ঢাকা, সোমবার 1 January 2018, ১৮ পৌষ ১৪২৪, ১৩ রবিউস সানি ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

দেশের উন্নয়ন অগ্রগতির ধারা বজায় রাখতে আবারও নৌকায় ভোট দিন

গতকাল রোববার যশোর ঈদগা ময়দানে এক বিশাল জনসভায় ভাষণ দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা -বাস

যশোর সংবাদদাতা : যশোরের জনসভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আবার নৌকায় ভোট চেয়েছেন। তিনি বলেছেন, আপনারা আগেও যেমন নৌকায় ভোট দিয়েছেন, আমি আশা করি আগামীতেও নৌকায় ভোট দিয়ে আওয়ামীলীগকে দেশ পরিচালনার দায়িত্ব দেবেন। দেশের উন্নয়ন-অগ্রগতি অব্যাহত রাখবেন।
প্রধানমন্ত্রী গতকাল রোববার যশোর কেন্দ্রীয় ঈদগাহে জেলা আওয়ামীলীগ আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এসব কথা বলেন।
৩২ মিনিটের টানা বক্তৃতায় প্রধানমন্ত্রী তার শাসনামলের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড তুলে ধরেন। তীব্র সমালোচনা করেন বিএনপি-জামায়াত শাসনামলের।
এর আগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যশোরস্থ মতিউর রহমান ঘাঁটিতে বাংলাদেশ বিমানবাহিনী অ্যাকাডেমির রাষ্ট্রপতি কুচকাওয়াজে যোগ দেন। সেখান থেকে বিকেল সাড়ে তিনটার কিছু সময় আগে জনসভায় যোগ দিতে শহরের কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দানে আসেন।
দীর্ঘ ৩২ মিনিটের বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, খালেদা জিয়ার দুই ছেলে জনগণের টাকা বিদেশে পাচার করেছে। এক ছেলে বিদেশী কোম্পানির কাছ থেকে ঘুষ খেয়েছে। ধরা পড়েছে আমেরিকায়। আরেক ছেলের টাকা পাওয়া গেল সিঙ্গাপুরে। আমরা সেই টাকা ফেরত এনে জনগণের কাজে লাগাচ্ছি। তাদের মা এতিমের টাকা মেরে খায়। এরপর আর কোন মুখে কথা বলবে তারা?  যোগ করেন প্রধানমন্ত্রী।
তিনি বলেন, আমরা উন্নয়ন করি। বিএনপি-জামাত জোট মানুষ হত্যা করে। ১৯৯৬ সালে আমরা বিদ্যুতের উৎপাদন ১৬শ’ মেগাওয়াট থেকে বাড়িয়ে ৪৩শ’ মেগাওয়াট করেছিলাম। ২০০১ সালে ক্ষমতায় এসে বিএনপি-জামাত জোট উৎপাদন কমিয়েছিল। এখন দেশ ১৬ হাজার ৮০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনে সক্ষম। দেশের ৮৩ ভাগ মানুষ বিদ্যুৎ সুবিধা পাচ্ছে। ২০২১ সালের মধ্যে কোনো ঘর অন্ধকার থাকবে না। যেখানে বিদ্যুৎ পৌঁছানো সম্ভব না, সেখানে সোলার প্যানেল দিচ্ছি।
জনসভাস্থলে এসে প্রধানমন্ত্রী যশোরের ২৮টি উন্নয়ন প্রকল্প উদ্বোধন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন।
তিনি বলেন, আমি জাতির পিতার সন্তান। আমার তো কিছু চাওয়া-পাওয়ার নেই। আমি দেশের মানুষের সেবা করতে এসেছি। আমি দেশের উন্নয়ন চাই, শান্তি চাই। কোনো রক্তপাত চাই না।
প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের আগে জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি  জেলাবাসীর পক্ষ থেকে কয়েকটি দাবি তুলে ধরেন। এগুলো হলো যশোরে অর্থনৈতিক জোন স্থাপন, যশোর- বেনাপোল মহাসড়ক ছয় লেনে উন্নীতকরণ, বেনাপোল স্থলবন্দরকে আন্তর্জাতিক বন্দরে উন্নীতকরণ, প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহ, সাগরদাঁড়ীতে মধুসূদন সাংস্কৃতিক বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন, খুলনা-কলকাতা রুটে চলাচলকারী যাত্রীবাহী ট্রেন ‘বন্ধন এক্সপ্রেসের’ যশোরে স্টপেজ চালু এবং ভবদহ জলাবদ্ধতা সমস্যার স্থায়ী সমাধান।
প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে কপোতাক্ষ খনন প্রকল্প হাতে নেওয়ার কথা উল্লেখ করে বলেন, এর মাধ্যমে ভবদহ সমস্যার সমাধান হবে। অন্য দাবি-দাওয়াগুলোর ব্যাপারে তিনি কিছু বলেননি।
এর আগে ২০১২ সালে একই স্থানে আয়োজিত জনসভায় শেখ হাসিনা তার দলকে আবার ক্ষমতায় আনলে যশোর পৌরসভাকে সিটি করপোরেশনে উন্নীত করার আশ্বাস দিয়েছিলেন। এসব বিষয়ে জনসভায় প্রধানমন্ত্রী ও দলের অন্যান্য নেতারা কোনো কথা বলেননি।
জনসভায় সভাপতিত্ব করেন যশোর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শহিদুল ইসলাম মিলন। সঞ্চালন করেন জেলা সেক্রেটারি শাহীন চাকলাদার ও কেন্দ্রীয় নেতা আব্দুল মজিদ।
জনসভায় আরো বক্তব্য দেন দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য পীযূষকান্তি ভট্টাচার্য, যুগ্মসাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল-আলম হানিফ, এ্যাড. মনিরুল ইসলাম মনির এমপি প্রমুখ।
প্রধানমন্ত্রীর জনসভা নিয়ে প্রায় তিন সপ্তাহ ধরে যশোরে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়। প্রথমে জনসভাস্থল নির্ধারণ করা হয় শামস-উল-হুদা স্টেডিয়াম। কিন্তু তিনদিন আগে হঠাৎই স্থান বদল করে কেন্দ্রীয় ঈদগাহে আনা হয়। জনসভা উপলক্ষে শুক্রবার থেকে আজ পর্যন্ত ঈদগাহসহ আশপাশের এলাকায় সব দোকানপাট বন্ধ রাখার নির্দেশ দেয় জেলা ও পুলিশ প্রশাসন। শহরে ছোট ছোট যানবাহনও নিয়ন্ত্রণ করা হয়।
প্রধানমন্ত্রী বিকাল ৩টা ৩১ মিনিটে জনসভায় উপস্থিত হন। গাড়ী থেকে নেমে জনতার উদ্দেশ্যে হাত নেড়ে তাদেরকে শুভেচ্ছা জানান। এর পর তিনি উদ্বোধন মঞ্চের দিকে এগিয়ে যান এবং  সুইচ টিপে ২৮টি উন্নয়ন প্রকল্পের কাজের ফলক উন্মোচন করেন। এর মধ্যে বেশ কিছু প্রকল্পের কাজ ইতিমধ্যে শেষ হয়েছে। কিছু প্রকল্প চলমান। আর কিছু প্রকল্পের কাজ আগামী বছরে শুরু হবে। এসব প্রকল্পের মধ্যে কপোতাক্ষ নদের জলাবদ্ধতা দূরীকরণ প্রকল্প ( প্রথম পর্যায়),তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় শিক্ষার মানোন্নয়নের লক্ষ্যে নির্বাচিত বেসরকারী কলেজ গুলোর উন্নয়ন শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় নির্মিত যশোর সদরের আমদাবাদ ডিগ্রি কলেজ, শার্শার পাকশিয়া আইডিয়াল কলেজ, বাঘারপাড়া ডিগ্রি কলেজ, বাঘারপাড়ার মির্জাপুর মহিলা কলেজের নবনির্মিত ভবন উদ্বোধন, মণিরামপুর উপজেলার ৫০০ আসনে শহীদ মশিয়ুর রহমান মাল্টিপারপাস অডিটোরিয়াম,যশোর পাবলিক লাইব্রেরি উন্নয়ন প্রকল্প, যশোর মেডিকেল কলেজরে একাডেমিক ভবন ,হৈবতপুর, পাতিবিলা, নরেন্দ্রপুর ও মহাকাল ইউনিয়ন ভূমি অফিস ভবন, যশোরের পুলিশ সুপার ভবন ও পুলিশ হাসপাতাল, শেখ রাসেল ভাস্কর্য, যশোর পৌর সভার অধীনে শহরের ১৩ কিলোমিটার সড়ক ও ২২ কিলোমিটার ড্রেন নির্মাণ প্রকল্পঝিকরগাছা উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ও অভয়নগরের মালোপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভবন নির্মান প্রকল্প, ভৈরব নদ খনন প্রকল্প, যশোর বেনাপোল ও যশোর খুলনা জাতীয় মহাসড়কের অংশ বিশেষ প্রশস্তকরণ  কাজ, শহরের ২৫ কিলোমিটার সড়ক ও ২৪ কিলোমিটার ড্রেন নির্মাণ কাজ, ঝুমঝুমপুর ময়লাখানায় কম্পোষ্ট প্লান,প্রি-ট্রিটমেন্ট প্লান্ট,বায়োগ্যাস প্লান্ট,কল্ট্রোল ল্যান্ড ফিল্ড সেল নির্মাণ, ঝিকরগাছা উপজেলা পরিষদের সম্প্রসারিত প্রশাসনিক ভবন ও হলরুম নির্মাণ,বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষনের ম্যুরাল, যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শেখ রাসেল জিমনেসিয়াম ভবন ও ছাত্র শিক্ষক মিলনায়তন নির্মাণ, কেশবপুর কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র নির্মাণ ও যশোর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার নির্মাণ প্রকল্প বিশেষ ভাবে উল্লেখযোগ্য।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ