শুক্রবার ২১ মে ২০১০
Online Edition

কবি গোলাম মোহাম্মদের দুটি পত্র ও প্রাসঙ্গিক প্রসঙ্গ -ওমর বিশ্বাস

আশির দশকের কবি ছিলেন গোলাম মোহাম্মদ। নববই দশকের শেষের দিকে এসে তার কবিতাগ্রন্থ প্রকাশিত হয়। এর আগেই তিনি গানের জগতে বিস্ময়কর সাড়া জাগাতে পেরেছিলেন। উন্নত সাহিত্য সৃষ্টিতে তিনি ছিলেন একনিষ্ঠ। কবিতার প্রেমে ডুবে ছিলেন সবসময়। তিনি ছিলেন সৎ, বিশ্বাসী, শাশ্বত চেতনার প্রচারক। চিত্ত ছিল তার উৎফুল্ল, যেটুকু বেদনা-বিরহ ছিল- তার অধিকাংশই কাব্যে, গানে, গদ্যে মিশে গেছে। খুব অল্পই ছিল হৃদয়ের গহীনে যত্নে গাঁথা- সেটুকুর আবার কিছু জানা গেছে মৃত্যুর পরে। জানা-অজানার এইসবই তার কবিতায় ঢেকেছে- কবিতার গন্ধ ছড়িয়েছে। কবি গোলাম মোহাম্মদ রচনাসমগ্র নামে আবদুল মান্নান সৈয়দ সম্পাদিত একটি খন্ড বাংলা সাহিত্য পরিষদ থেকে প্রকাশিত হয়েছে ২০০৫ সালে। অনেক রচনাই সেখানে স্থান পেয়েছে। তার সমগ্র প্রকাশের পর অনেক অনুদঘাটিত দিক উন্মোচিত হলো। আরও অসংখ্য রচনা সংগ্রহ ও সংকলনবদ্ধ করার প্রচেষ্টা চলছে। সাহিত্য ত্রৈমাসিক চাঁড়ুলিয়ায় তার দুটি পত্র প্রকাশিত হয় ১ম বর্ষ ২য় সংখ্যা ও ১ম বর্ষ ৩য় সংখ্যায় ২০০১ সালে। পত্র দুটিই ছিল বেনামে প্রকাশিত। তার ভক্তবৃন্দ, পাঠক শুভাকাঙ্ক্ষীদের হয়তো খুব কম সংখ্যক জনেই তা জানে। পত্রদুটিতে তিনি অকপটে অনেক কথা সহজ ও সুন্দর করে বলেছিলেন। বলাবাহুল্য, তাকেও জীবনে অনেক সত্যের নির্মমতা সহ্য করতে হয়েছিল। ব্যক্তিগতভাবেই নয় শুধু সাহিত্যের প্রতিও তার প্রবল অনুরাগ, আবেগ আমরা তাতে দেখি। প্রথম পত্রটি- প্রিয় সম্পাদক, ভালোবাসা নিন ১১২ পৃষ্ঠার সানন্দ সাহিত্য পত্রের জন্য। আমাদের চারপাশে তরুণরা যখন নানারকম হৈ হুল্লোড় আর ককটেলবাজি করছে সেই বয়সে পত্রিকা সম্পাদনার মতো গুরু দায়িত্ব বহনের জন্য আপনাকে ধন্যবাদ। অভিজ্ঞরা মনে করেন টিনএজাররা কল্পনাবিলাসী এবং সুযোগ পেলেই কবিতা লেখে, কবি কবি ভাব দেখায়; দৃষ্টি আকর্ষণের আবেগে প্রজাপতির মতো বাতাসে ডানা মেলে ঘুরে বেড়ায়। সেই বান্দরীকে সুন্দরী দেখার বয়সে সহবন্ধুদের লেখা ছাপিয়ে পত্রিকা বের করছেন তবুও আপনাকে ধন্যবাদ দেবো না। আপনি এজন্য ভাগ্যবান যে অনেক কবির কবিতা পেয়েছেন, অনেক গল্পকার, প্রাবন্ধিক, নিবন্ধকার আপনাকে লেখা দিয়ে সহযোগিতা করেছেন। অন্য কথায় অনেকের লেখা একত্রিত করতে সমর্থ হয়েছেন। সেদিন সাহিত্য সমালোচক শাহাবুদ্দীন আহমদ এক আড্ডায় বলেছিলেন, তারুণ্যের সময় বেশি কাজে ব্যবহার করা দরকার। অর্থাৎ তিনি লেখালেখির দিকে ইঙ্গিত করছিলেন। এও বললেন, আসলে বিয়ের আগেই অনেক পড়ে ফেলা দরকার- অনেক লিখে যাওয়া দরকার। আমি মনে করি আপনি তাঁকেই অনুসরণ করছেন। সম্পাদক, আপনার কষ্ট হয়তো কেউ বুঝবে না। কিন্তু যে গুরুভার আপনি নিজ কাঁধে তুলে নিয়েছিলেন তা কি কোনো বিষয়মূল্যে হিসেব করা ঠিক হবে? ৭টি ফর্মা প্রচ্ছদে মোড়া সংকলন বাঁধাই হয়ে আসলে তা দেখতে মনোহর লাগে। কিন্তু এর পেছনের কষ্টগুলো গোখরা সাপের ফনার মতো বিপজ্জনক। এরপরও মন্তব্যের ছুরিগুলো আপনার বুকটাকেই ফালাফালা করবেই। কারণ সে অধিকার ও আপনিই ঘোষণা করেছেন। এই বাজারের এতো টাকায় আপনি অনেক আনন্দ কিনতে পারতেন, কিন্তু কিনেছেন একডালা সমালোচনা। এ জন্যই আপনাকে সাহসী বলি। এ টাকায় আপনার বিয়ের গয়না হতে পারতো কিম্বা কত মানুষের খুশি সংগ্রহ করতে পারতো। নোটগুলো দিয়ে কাতান শাড়ির রঙিন অাঁচল কিনতে পারতেন অথচ তাই দিয়ে কিনেছেন চাঁড়ুলিয়ার মলাট। প্রেমিক বটে আপনি! কি বাণিজ্য হবে এতে বলুন! দেখুন, সাহিত্য করা, ছেলেদের কেউ মেয়ে দিতে চায় না। সে রকম কষ্টে আপনি না পড়ুন। ভাবের আকাশে যারা পাখা মেলেন বাস্তবের মানুষেরা তাদের দেখে ভয় পায়। এই দুঃসহ বন্ধুর পথে চলার শক্তি আল্লাহ আপনাকে দান করুন। দীর্ঘজীবী হোক চাঁড়ুলিয়া। সমস্ত মড়ক অতিক্রম করে বেঁচে থাক আপনার এ প্রয়াস। সফল হোন আপনারা। পত্র লেখক (নাম ঠিকানাবিহীন) কবির বিশেষ অনুরোধেই গোপন রাখতে হয়েছিল পত্র লেখকের নাম। তারপরও পাঠক মহলে পত্রটির প্রশংসা শুনেছিলাম। জীবন বাস্তবতা ও গভীর সাহিত্যপ্রেমের মিশেল এই চিঠিটি অনেককেই আলোড়িত করেছিল। অত্যন্ত সত্য ছিল পত্রটিতে, সে সত্য ছিল নির্মম, ছুরির ফলার মতো তীক্ষ্ণ। কবির ভাষায় তা ছিল গোখরা সাপের ফণার মতো বিপজ্জনক। এরপরও মন্তব্যের ছুরিগুলো যে বুকটাকেই ফালাফালা করবে তা জানা সত্ত্বেও তিনি কখনো থেমে থাকতে বলেছেন এরকম কাজে তা কখনো শুনিনি। বাস্তবতাকে বিদ্রূপ করলেও তার রোমান্টিক মনের পরিচয় পাই চিঠির পরতে পরতে। তার কাব্যেও এই পরিচয় ছিল পুরোটাই স্পষ্ট। তোমার খোঁপায় শিউলী গুঁজেছে মেয়ে অাঁচলে তোমার করুতা পাগল করা কোথায় চলেছ সুঘ্রাণে গান গেয়ে অধরে তোমার গোলাপ জোছনা ভরা। স্রোত চঞ্চল উচ্ছবল তুমি নদী ফসলের মাঠ ভেঙ না, ভেঙ না গ্রাম তোমার জোয়ারে ভেসে যায় সব যদি বিনষ্ট হবে বাসনার নীল খাম। দ্বাদশী-চন্দ্র হয়ো না কক্ষচ্যুত তাহলে বিনয় নেমে আসে অতি দ্রুত তোমার আলোয় আলোয় কর ঘর চাঁদ সুন্দরে হোক বসবাস আস্বাদ সুবাসে পু সাজাও পৃথিবী ঘর তাহেরার মতো তুমি কর সুন্দর। (কবি হয়ো না কক্ষচ্যুত; অদৃশ্যের চিল : কবি গোলাম মোহাম্মদ রচনা সমগ্র : পৃষ্ঠা ৩৬) কবি গোলাম মোহাম্মদ প্রকৃতই সুন্দরের কবি ছিলেন। সুন্দরকে ভালোবাসতেন। তার কবিতার ‘তাহেরা'র মতো সবার জীবনকেই তিনি সুন্দর করতে বলেছেন। আমরা চমৎকার রোমান্টিকতার মধ্যেই একটি শ্বাশত সত্যের সন্ধান পাই, পাই জীবনের এক দিকনির্দেশনা। অথচ বাস্তব সত্য যে তাকেও জীবনে কাঠখড় পোড়াতে হয়েছে। কবি খ্যাতি তার পিছনে ধাওয়া করলেও স্বীকৃতির লাগাম টেনে রাখার চেষ্টা করা হয়েছে অনেক। সমকালীন কবিরাও তাকে নিয়ে ছলনার আশ্রয় নিয়েছেন। তাকে নিয়ে কাব্য আলোচনার ক্ষেত্রে অনীহা প্রকাশ করতে দেখা গেছে। কিন্তু কবি গোলাম মোহাম্মদ ছিলেন উদার চিত্তের। উদার বড় মনের মানুষই যে বড় হয় সেই সত্য তো গোপন রাখা যায় না। তার ব্যাপারে যৎসামান্য দু'একটি কাজ করতে গিয়েও ব্যক্তিগতভাবে বাণিজ্যের অভিযোগ শুনতে হয়েছিল- এটা তার মৃত্যুর পরের কথা। কিন্তু তার সামনে যখন বিরূপ সমালোচনা নিয়ে আলোচনা হতো তখন তিনি নির্ভয়ে, কোন কিছু পরওয়া না করেই এগিয়ে যেতে বলতেন। তিনি নিজে তা বিশ্বাস করতেন বলেই তার উচ্চারণও ছিল নির্ভীক। সেই সংগ্রামী মানুষের সারিতে আমাকেও রাখিও রহমান, যারা কুরআনের আহবানে নির্ভীক নির্ভয়ে সব করে দান। (কবি গোলাম মোহাম্মদ রচনা সমগ্র, পৃষ্ঠা : ২১৩) কবি গোলাম মোহাম্মদের লেখায় কবিতার স্বাদই পাওয়া যায়। বিশ্বাস আর নান্দনিকতার মিশ্রণ আছে তাতে। ব্যক্তিগতভাবেও অসম্ভব ভালো মানুষের পর্যায়েরই ছিলেন। তার নাম ঠিকানাবিহীন লেখাটি চাঁড়ুলিয়ার ১ম বর্ষ ২য় সংখ্যায় ২০০১ সালে প্রকাশিত হয়। পত্রের শেষে সম্পাদকীয় উত্তরে লেখা হয়েছিল- ‘পত্র লেখক ভিন্ন ধরনের চিঠির জন্য আন্তরিক ধন্যবাদ। গতানুগতিক মূল্যায়ন, পরামর্শকে বাদ দিয়ে এই ব্যতিক্রমী লেখাটি আমরা পত্র লেখকের মূল নামে ছাপাতে পারে খুশি হতাম। আশা করি ভবিষ্যতেও আপনি আপনার মূল্যবান অনুভূতিকে জানিয়ে আমাদের অনুপ্রাণিত করবেন এবং আপনার নাম ঠিকানা জানাবেন।' কবি গোলাম মোহাম্মদের ভিতর ব্যক্তিগত ঈর্ষাকাতর মনোভাব দেখা যায়নি। সামান্য কোনো কবিতার লাইনকে তিনি সবসময় প্রশংসা করতেন তা যার লেখাই হোক না কেন। তিনি তার স্বভাবজাত মহত্ত্ব ও উদারতা দিয়েই তা সবসময় প্রকাশ করে গেছেন। তিনি চাঁড়ুলিয়ার ৩য় সংখ্যার জন্যও পত্র লিখেছিলেন। পত্রটি চাঁড়ুলিয়ার ১ম বর্ষ ৩য় সংখ্যায় ২০০১ সালে প্রকাশিত ‘জনৈক পাঠকে'র নামে। তিনি লিখেছিলেন- ‘প্রিয় সম্পাদক, আবারও সুন্দর পচ্ছদে আবৃত্ত চাঁড়ুলিয়া আমাদের হাতে এলো। দেখে ভালো লাগলো পড়েও মুগ্ধ হলাম। কিন্তু এতো কম বিজ্ঞাপন দিয়ে আপনি কিভাবে আত্মরক্ষা করবেন? ভালোবাসায় একটা বিপদ থাকে সে মুগ্ধতায় দড়ি নাকে বেঁধে এমন জায়গায় নিয়ে যায়, সেখান থেকে আর ফেরার সুযোগ থাকে না। সাহিত্যকে সেবামূলক কমকান্ড বললে আপনি অবশ্যই আপনার জাতির সেবা করবেন। কিন্তু সেবার চেয়ে জীবনের মূল্য অনেক বেশি। বেশি এ জন্য যে আপনি না বাঁচলে আপনার আগ্রহ ভালোবাসা কিছুই বাঁচবে না। এ দেশে কি এমন নজির কম আছে ১ম, ২য় ও ৩য় সংখ্যার পরে আর মাথা তোলেনি সাহিত্য পত্রিকা। কেন? কোনো অবলম্বন পায়নি বলে। আপনি বলবেন সাহিত্য তো লতা নয় যে বেয়ে বেয়ে উঠবে। আসলে সাহিত্য লতার চেয়ে রোহিনী, আরোহী। অবলম্বন না পেলে মোটেই উঠতে পারে না। জমিদার রবীন্দ্রনাথের পিতার জমিদারী ছিল, কাজেই তাকে হয়তো পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। হয়তো আপনারও খুঁটির জোর কম নয়। অহরহ যেখানে অপমৃত্যু ঘটে সেখানে এমন ভীতি আসাই স্বাভাবিক। অনেক কবিতা, গল্প, প্রবন্ধ, সাক্ষাৎকার নিয়ে এবারের সংখ্যা বেরুলো। আল মাহমুদের সংখ্যার মতো কষ্টসাধ্য একটা সংখ্যা সত্যিই কি বেরুতে পারবে? আমি আপনাকে নিরুৎসাহিত করছি না, কেবল শংকার কথা বললাম। আপনার পা আরও শক্ত হোক, মাথা আরও উন্নত হোক এবং আপনার পত্রিকা আরও মনোমুগ্ধ হোক এ কামনা করি। জনৈক পাঠক।' উল্লেখ্য, চাঁড়ুলিয়ার ৩য় সংখ্যাটিই ছিল আধুনিক বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি আল মাহমুদের ওপর। সব সংখ্যাতেই তার নিবিড় ছোঁয়া এখনো জীবন্ত মনে হয়। পত্রিকা ঠিকই বেরিয়েছিল ঢাউস আকারে। প্রশংসা আর স্তূতি সম্পাদকের পিছনে আরও প্রবল হয়েছিল। কিন্তু কবি গোলাম মোহাম্মদের পত্রখানার প্রতিটি উচ্চারণই ছিল প্রযোজ্য ক্ষেত্রগুলোতে সত্য। একজন প্রকৃত কবির দৃষ্টি কতটা প্রখর ছিল তা বোঝা যায় পত্রপাঠে। ‘আসলে সাহিত্য লতার চেয়ে রোহিনী, আরোহী'-কে অস্বীকার করবে এই রূঢ় সত্যকে। সত্য বলেই তিনি সমকালীন কাব্য খ্যাতির দৌঁড়ে সততার কারণে গুটিয়ে রেখেছিলেন। সেই স্থানই দখল করে বসে ছিল কত সুবিধাবাদীরা। নির্মম সত্য ছিল, কবি গোলাম মোহাম্মদের কাব্য আলোচনারও কোনো প্রয়োজন আছে কিনা উচ্চারণ শুনতে হয়েছিল। আর আগেই তো উল্লেখ করেছি তাকে নিয়ে বাণিজ্যের কথা। এরপরও বলতে হয় কবি গোলাম মোহাম্মদ অন্যদের থেকে আলাদা। তার বিপুল সাহিত্যসম্ভার এখনো অপ্রকাশিত। কবিতায় তাকে যতটুকু চেনা যায় তার জীবনকালে, মৃত্যু পরবর্তী রচনাসমগ্র প্রকাশের পর তাকে আরও গভীরভাবে চিনতে সুবিধা হয়। তিনি বেঁচে থাকতে ‘অদৃশ্যের চিল (১৯৯৭), ফিরে চলা এক নদী (১৯৯৮), হিজল বনের পাখি (১৯৯৯), ঘাসফুল বেদনা (২০০২), হে সুদূর হে নৈকট্য (২০০২) কাব্যগ্রন্থ বের হয়। দুটি ছড়াগ্রন্থ ছড়ায় ছড়ায় সুরের মিনার (২০০১) ও নানুর বাড়ির (২০০২) পাঠক মহলে সাড়া ফেলে। গানের জগতে তিনি তার সৃষ্টি দিয়ে অবিস্মরণীয় হয়ে আছেন। আরও যেসব সৃষ্টি তার কিছুটা রচনাসমগ্রে প্রকাশিত হয়। এর সম্পাদনার দায়িত্ব অত্যন্ত আন্তরিকতার সাথে করেছেন কবি সমালোচক, স্বতন্ত্রধর্মী লেখক আবদুল মান্নান সৈয়দ। রচনা সমগ্রের ভূমিকায় তিনি কবি গোলাম মোহাম্মদের সমগ্র সাহিত্য সম্পর্কে মূল্যায়ন করতে গিয়ে বলেছেন- ‘কবি গোলাম মোহাম্মদ (১৯৫৯-২০০২) এই আশির দশকের কবিদলেরই একজন। মাত্র ৪৩ বছরের আয়ুষ্কালে গোলাম মোহাম্মদ কবিতা লিখেছেন, শিশুতোষ রচনা লিখেছেন, গদ্য লিখেছেন, প্রচ্ছদ অঙ্কন করেছেন, অলংকরণ করেছেন। বিভিন্ন বৃত্তি অবলম্বন করেছিলেন গোলাম মোহাম্মদ, কিন্তু সর্বাবস্থায় শিল্পসাহিত্যে সংযুক্ত থেকেছেন। স্বনামে শুধু নয়- কয়েকটি ছদ্মনামেও লিখেছেন, প্রচ্ছদ অঙ্কনেও কেবল নিজের নাম ব্যবহার করেননি, নিজস্ব প্রতিষ্ঠান ‘শিল্পকোণ' কথাটি বসিয়েছেন কখনো কখনো। বিনয়ী, সুশান্ত, হাস্যোজ্জ্বল গোলাম মোহাম্মদ কবিতা গান গদ্যর রচনায়ও যেন একটি নিভৃত নীড় রচনা করেছিলেন : সমসাময়িক কবিদের থেকেও আলাদা করে চেনা যায়।' তিনি কবি গোলাম মোহাম্মদ সম্পর্কে আরও বলেছেন, ‘বাংলা সাহিত্য পরিষদ গোলাম মোহাম্মদের অকাল প্রয়াণের পরে তাঁর রচনাবলী প্রকাশের একটি সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। সম্পাদনার ভার দেয়া হয় আমার ওপরে। কাজে নেমে দেখা যায়- গোলাম মোহাম্মদ প্রণীত সমগ্র রচনার পরিমাণ অনেক। এখন মনে হচ্ছে প্রাথমিকভাবে কয়েক খন্ডে তার রচনা সম্পূর্ণ করা যাবে। গোলাম মোহাম্মদের কাব্যশক্তিকে ইচ্ছে করলেও চাপা দিয়ে রাখা যাবে না- কাব্যের, সাহিত্যের যে সুধা তিনি রেখে গেছেন তা পুরোপুরি উদঘাটিত করতে পারলে, তুলে ধরতে পারলে আমরাই লাভবান হবো- লাভবান হবে সমগ্র বাংলা সাহিত্য।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ