ঢাকা, সোমবার 1 January 2018, ১৮ পৌষ ১৪২৪, ১৩ রবিউস সানি ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

খুলনায় আন্দোলন-বিক্ষোভের পর সোলার প্রকল্পের ৭৫ কর্মীকে গণশোকজ

 

খুলনা অফিস : সীমাহীন দুর্নীতি-অনিয়ম ও স্বেচ্ছাচারিতা ধামাচাপা দিতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন পল্লী দারিদ্র্য বিমোচন ফাউন্ডেশন-পিডিবিএফ’র ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক মদন মোহন সাহা। তার অপসারণের দাবিতে চলমান আন্দোলন থামাতে গণ শোকজসহ নানা ধরনের হয়রানির মাধ্যমে কর্মী জব্দের পথ বেছে নিয়েছেন তিনি। ইতোমধ্যেই আন্দোলনে অংশ নেয়া সোলার প্রকল্পের ৭৫ জন কর্মীকে ব্যাকডেটে গণ শোকজ করা হয়েছে। খুলনা অঞ্চলে প্রতিষ্ঠানের সৌরশক্তি প্রকল্পে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা জানান, ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক মদন মোহন সাহা দায়িত্ব নেয়ার মাত্র এক বছরের মধ্যে ক্ষুদ্র ঋণ প্রকল্পে খেলাপি বেড়েছে প্রায় ৪০ কোটি টাকা। আর সয়ম্বরতার (সেলফ সাফিসিয়েন্ট রেট) হার দাঁড়িয়েছে ৮০ শতাংশ, যা তিনি দায়িত্ব নেয়ার সময় ছিল ১০৫ শতাংশ। খেলাপির কারণ হিসেবে তিনি জাতীয় দুর্যোগকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করছেন। বাস্তবতা হলো চলতি বছর দেশে উত্তরাঞ্চল ছাড়া কোথাও দুর্যোগ ছিল না। এছাড়া সোলার প্রকল্পের ৭ কোটি ৭৪ লাখ টাকার মালামাল ক্রয়ে অনিয়মসহ বিজ্ঞাপন না দিয়ে গাড়ি চালক নিয়োগ দিয়েছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। সূত্রের দাবি, কম্পট্রোলার এন্ড অডিটর জেনারেলের ২৯তম বৈঠকে নিরীক্ষা প্রতিবেদনে তার নিয়োগকে অবৈধ ও গ্রহণ করা বেতন ফেরত দেয়ার কথা বলা হয়েছে। বিষয়টি নিষ্পত্তি করার জন্য স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়, বৈদেশিক সাহায্যপুষ্ট অডিট অধিদপ্তর ও পিডিবিএফ’র সমন্বয়ে ত্রিপক্ষীয়  বৈঠক এবং ঘটনা তদন্তে যুগ্ম সচিবের নেতৃত্বে গঠিত তদন্ত কমিটিকে দিয়ে তিনি তার পক্ষে রিপোর্ট করানোর চেষ্টা করছেন বলে জানা গেছে। বিষয়টি নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত ওই পদে কর্মরত থাকা সম্পূর্ণ অবৈধ বলেও সূত্র জানিয়েছে। এ সব বিষয় নিয়ে রাজপথে আন্দোলনরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পক্ষে প্রতিষ্ঠানের সিনিয়র ফিল্ড এসিস্ট্যান্ড মো. সুমন হোসেন বলেন, সরকার যেখানে কর্মসংস্থান বাড়ানোর জন্য কাজ করছে সেখানে তিনি সোলার প্রকল্প বন্ধ করার জন্য পাঁয়তারা করছেন। ইতোমধ্যে প্রকল্পের ২৮৫ জন কর্মীর ‘চাকরি আছে বেতন নেই’ অবস্থা করে রেখেছেন। সেই সাথে বিভিন্ন অজুহাতে শতাধিক কর্মীকে চাকরি থেকে অপসারণ করেছেন। আর এতে সরকারের ভাবমূর্তি নষ্ট হচ্ছে। তিনি মূলত দুর্নীতি ও অনিয়ম করে প্রতিষ্ঠানটি ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে গেছেন। সংক্ষুব্ধ কর্মীরা যাতে কোন ধরনের পদক্ষেপ নিতে না পারে এ জন্য তিনি সার্বক্ষণিক বহিরাগত লোক দ্বারা বেষ্টিত থাকেন। অন্যদিকে, খুলনা সফরকালে গত ২৫ থকে ২৭ ডিসেম্বর সোলার প্রকল্পের কর্মীদের আন্দোলনের মধ্যে পড়েন ভারপ্রাপ্ত এমডি। অনিয়ম, দুর্নীতি ও স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ তুলে তার অপসারণ দাবিতে প্রতিষ্ঠানের সাড়ে তিনশ’ কর্মকর্তা-কর্মচারী ২৫ ডিসেম্বর খুলনা প্রেসক্লাবে সাংবাদিক সম্মেলন করেন। পরে তারা চাকরিতে স্থায়ীকরণ ও নিয়মিত বেতনের দাবিতে মাবনবন্ধন কর্মসূচি পালন করেন। এ ঘটনায় তিনি ক্ষুব্ধ হয়ে ব্যাকডেটে সোলার প্রকল্পের ৭৫ জন কর্মীকে গণ শোকজ করেছেন। 

 

এ ব্যাপারে ভারপ্রাপ্ত এমডি মদন মোহন সাহা খুলনা সফরকালে গত ২৭ ডিসেম্বর সাংবাদিকদের বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে খেলাপি ঋণ বেড়েছে। সোলার প্রকল্পে অনিয়ম হওয়ার ব্যাপারে তদন্তের আশ্বাস দেন। সেই সাথে নিজের নিয়োগের ব্যাপারে তিনি বলেন, তদন্ত কমিটির রিপোর্ট জমা হলেই বিষয়টি নিষ্পত্তি করা সম্ভব হবে। নতুন প্রকল্প না থাকায় কর্মীদের কাজ দেয়া সম্ভব হচ্ছে না বলে তিনি জানান। তবে রেলওয়ে এবং কৃষি সেক্টরে শিগগিরই কাজ পাওয়া যাবে। সেখানে সোলার প্রকল্পের কর্মীদের কাজে লাগানো হবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ