ঢাকা, মঙ্গলবার 2 January 2018, ১৯ পৌষ ১৪২৪, ১৪ রবিউস সানি ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

গত কয়েক বছর ধরে খুলনার ক্রীড়াঙ্গন ছিল স্থবির

 

 

আব্দুর রাজ্জাক রানা : গত কয়েক বছরে খুলনার ক্রীড়াঙ্গনে ছিল স্থবিরতা। বিচ্ছিন্নভাবে বিভিন্ন প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হলেও খেলাধুলার নিয়মিত আয়োজন সেভাবে ছিল না। তবে নতুন সুর্যোদয়ে নতুন বছর শুরু হয়ে গেছে। খুলনার ক্রীড়াঙ্গনে এ বছর রয়েছে নতুন নতুন অনেক প্রত্যাশা আর চ্যালেঞ্জ। তবে ক্রীড়াঙ্গনে আশার কথা হচ্ছে বিদায়ী বছরের শেষদিকে মাঠে গড়িয়েছে ডিএসএ কাপ ক্রিকেট ও শেখ আবু নাসের ক্রিকেট টুর্নামেন্ট। তৃতীয় বিভাগ আর দ্বিতীয় বিভাগ ফুটবল লীগ শেষ হয়েছে। দ্বিতীয় বিভাগ ফুটবলও সম্পন্ন হওয়ার পথে। খুলনা জেলা স্টেডিয়ামের মাঠও নতুন করে সংস্কার করা হচ্ছে। ফলে মাঠ সঙ্কটও দূর হতে যাচ্ছে এ বছরে। খুলনার ক্রীড়াঙ্গনের সাথে সংশ্লিষ্টরা নতুন করে আশায় বুক বাঁধছেন নতুন বছরে দূর হবে খুলনার ক্রীড়াঙ্গনের সব ধরনের প্রতিবন্ধকতা। ক্রীড়া সংগঠকরাও জানাচ্ছেন নতুন বছরের চ্যালেঞ্জ নিতে প্রস্তুত তারা। 

বিগত কয়েক বছরে খুলনার ক্রীড়াঙ্গনে এক প্রকার অচলাবস্থা ছিলো। ক্রিকেট, ফুটবলসহ বড় ধরনের কোন খেলার আয়োজন ছিল না খুলনায়। গত তিন বছর ধরে খুলনা জেলা স্টেডিয়ামে সংস্কার কাজ চলায় এ মাঠেও কোন খেলাধুলার আয়োজন করা যায়নি। তবে আশার কথা হচ্ছে ক্রীড়া সংগঠকরাই বলছেন, ২০১৮ সাল হবে খুলনার খেলাধুলার বছর। 

নতুন বছরে খুলনার ক্রীড়াঙ্গনে আশাবাদের বেশ কিছু কারণও আছে ক্রীড়ামোদীদের কাছে। গত বছর জেলা ক্রীড়া সংস্থার সভায় বার্ষিক বর্ষপঞ্জী করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল তারা। যদিও এখনও পর্যন্ত সে বর্ষপঞ্জী তৈরি করা হয়নি। তবে বর্ষপঞ্জী তৈরি হলে এক বছরের সব খেলাধুলাই হবে বলে ক্রীড়ামোদীরা আশা করছেন। ফুটবলে সিনিয়র ডিভিশন লীগ মাঠে না গড়ালেও কোয়ালিফাইং, তৃতীয় বিভাগ ফুটবল সম্পন্ন হয়েছে। সম্পন্ন হওয়ার পথে তৃতীয় বিভাগ ফুটবল লীগও। 

খুলনা জেলা ক্রীড়া সংস্থার সহ-সভাপতি ও জেলা ফুটবল এসোসিয়েশনের সভাপতি এডভোকেট সাইফুল ইসলাম বলেন, ২০১৮ সাল হবে খুলনার খেলাধুলার বছর। জেলা ক্রীড়া সংস্থা ইতোমধ্যে ডিএসএ কাপ ক্রিকেট শেষ করেছে। জেলা ক্রীড়া সংস্থার আয়োজনে অন্যান্য সব খেলাও হবে। শুধু অন্যান্য খেলাই না জেলা স্টেডিয়াম রেডি হলে এখানে সিনিয়র ডিভিশন ফুটবল লীগ হবে। আমাদের পরিকল্পনায় রয়েছে, মাঠ তৈরির পর বড় ধরনের একটি ফুটবল টুর্নামেন্টও হবে। সব মিলিয়ে আমি আশাবাদী ২০১৮ সালে খুলনার খেলাধুলার জন্য স্বর্ণযুগ হবে। নতুন নতুন খেলোয়াড়ও তৈরি হবে তাতে করে। 

খুলনা জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক কাজী শামীম আহসানও একই রকম আশাবাদ করেন। তিনি বলেন, আমি কথা দিচ্ছি ২০১৮ সালে সব ধরনের খেলাধুলাই মাঠে গড়াবে। জেলা ক্রীড়া সংস্থার নিয়মিত আয়োজনের সব খেলা তো অনুষ্ঠিত হবেই, এর বাইরেও বেশ কিছু খেলাধুলার আয়োজন করা হবে। তিনি আরও বলেন, এ বছর নতুন করে হতে পারে অনূর্ধ্ব-১৩ ফুটবল লীগ, একাডেমি কাপ ক্রিকেট, এ্যাথলেটিক্স প্রতিযোগিতাও অনুষ্ঠিত হবে। বার্ষিক ক্রীড়াপঞ্জি আমাদের রাফ করা আছে। আগামী বছর থেকে বই আকারে ক্রীড়াপঞ্জি করা হবে।

বিগত বছরগুলোতে খুলনায় খেলাধুলা না থাকায় তার প্রভাব পড়েছে জাতীয় পর্যায়ে খুলনার বিভিন্ন অংশ গ্রহণেও। তবে নিয়মিত খেলাধুলার আয়োজন হলে আবারও খুলনা জাতীয় পর্যায়ে নিয়মিত সাফল্য পাবে বলে তিনি আশা করেন। বলেন, আমরা যতই প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করি, মাঠে খেলা না হলে তার প্রমাণ পাওয়া যায় না। এ বছর খেলাধুলা হলে অবশ্যই নতুন মুখ বেরিয়ে আসবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ