শুক্রবার ২১ মে ২০১০
Online Edition

স্পেনের জন্য এবারের আসরই বড় কিছু করে দেখানোর সেরা সুযোগ

মাদ্রিদ থেকে এএফপি : বড় টুর্নামেন্টে বেশ কয়েকবার খেলার যোগ্যতা অর্জন করলেও এখন পর্যন্ত বিশ্বকাপসহ কোন শিরোপাই তারা লাভ করেনি। কিন্তু দক্ষিণ আফ্রিকায় ২০১১ সালের বিশ্বকাপ চূড়ান্ত পর্বের মাধ্যমে শেষ পর্যন্ত তাদের ফুটবলের সর্বোচ্চ শিরোপা লাভের সেরা সুযোগ আসছে বলে সংশ্লিষ্টরা আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। অস্ট্রিয়া এবং সুইজারল্যান্ডে অনুষ্ঠিত ইউরো ২০০৮ এ জার্মানীকে ১-০ গোলে পরাজিত করে ৪৪ বছর শিরোপাহীন থাকা স্পেন কিছুটা হলে বন্ধ্যাত্ব ঘোচাতে সক্ষম হয়। আর এই শিরোপা স্প্যানিশদের বাড়তি আত্মবিশ্বাস দিচ্ছে বলেই ধারণা করা হচ্ছে যা অতীতের টুর্নামেন্টগুলোতে অনুপস্থিত ছিল। বাছাইপর্বে ১০টি ম্যাচের সবকটিতে জয়লাভ করে তার কিছুটা প্রমাণও তারা রেখেছে। আর এর মাধ্যমে ব্রাজিলের সাথে টানা ৩৫টি ম্যাচ জয়ের রেকর্ডও গড়েছে স্প্যানিশরা। এর মধ্যে ফেব্রুয়ারি ২০০৭ থেকে জুন ২০০৯ পর্যন্ত একটানা ১৫টি ম্যাচ জয়ের ইতিহাস রয়েছে। তবে ২০০৯ সালের কনফেডারেশন কাপের সেমিফাইনালে আন্ডারডগ যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ২-০ গোলে পরাজিত হয়ে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় সকলকে হতাশ করেছিল। তবে ইউরোপীয়ান চ্যাম্পিয়নশীপ জয়ের আত্মবিশ্বাসের সাথে সাথে বর্তমান ফর্ম এ সবই স্পেনকে বিশ্ব র্যা ঙ্কিংয়ে প্রথমবারের মত শীর্ষস্থানে পৌঁছাতে সাহায্য করে। এর অর্থ হচ্ছে ব্রাজিলের সাথে এবারের বিশ্বকাপ আসরে অন্যতম ফেবারিট দল হিসেবে স্পেনের নামও থাকবে। আর এবারের দলটিকে স্পেনের ফুটবলের ইতিহাসে স্বর্ণালী জেনারেশনের দল হিসেবেই বিবেচনা করা হচ্ছে। সে কারণেই এবারের দল চূড়ান্ত করতে কোচ ভিসেন্ট ডেল বস্কোকে দারুণ কষ্ট করতে হয়েছে। বিশেষ করে গোলবারে অজেয় প্রহরীর মত রয়েছেন ২৮ বছর বয়সী বর্তমান বিশ্বের সেরা গোলরক্ষক ইকার ক্যাসিলাস। এই বয়সেই জাতীয় দলের পক্ষে ১০২ টি ম্যাচ খেলা ক্যাসিলাসকে নিয়ে পুরো বিশ্বের রয়েছে আলাদা আগ্রহ। এছাড়া বার্সেলোনার তারকা জুটি গেরার্ড পিক এবং কার্লস পিয়ুল সেন্ট্রাল ডিফেন্সে ক্যাসিলাসের সামনে যেন দৃঢ় রণবুহ্য হিসেবে দাঁড়িয়ে থাকবেন। বাছাইপর্বে মাত্র ৫ গোল হজম করা তারই উদাহরণ। একইসাথে রিয়াল মাদ্রিদের জাবি আলোন্সো এবং বার্সেলোনার তারকা জাভি, আর্সেনালের কেস ফাব্রেগাস এবং বার্সেলোনার আন্দ্রেস ইনিয়েস্টাকে নিয়ে গঠিত স্পেন দল এবারের বিশ্বকাপে যেকোন দলের জন্য কঠিন প্রতিপ তাতে কোন সন্দেহ নেই। আক্রমণভাগে বার্সেলোনার নতুন চুক্তিভূক্ত খেলোয়াড় ডেভিড ভিলা এবং লিভারপুলের মার্কসম্যান ফার্নন্দো টরেনসকে বর্তমান সময়ের সেরা স্ট্রাইকার হিসেবেই মানা হচ্ছে। ইউরো ২০০৮ এ চার গোল করে ভিলা গোল্ডেন বুট এ্যাওয়ার্ড লাভ করেছিলেন। আর জার্মানীর বিপক্ষে ফাইনালে জয়সূচক গোলটি করেছিলেন টরেস। স্পেন সবসময়ই বার্সেলোনার আদলে খেলোয়াড়ের পজিশন বজায় রেখে মাঠে আধিপত্য বিস্তার করে এবং প্রতিপক্ষকে হতাশ করে তোলে। একইসাথে প্রতিপক্ষের শক্তিকে ভাঙ্গতে যেকোন কৌশল অবলম্বন করতে তারা পিছপা হয়না। ৫৯ বছর বয়সী ডেল বস্কোর অধীনে স্প্যানিয়ার্ডরা তাদের ফুটবল ইতিহাসে সর্বোচ্চ পর্যায়ের সাফল্য অর্জন করেছেন। তারই তত্ত্বাবধানে ২০০১, ২০০৩ সালের লা লিগা শিরোপা এবং ২০০০ ও ২০০২ সালে রিয়াল মাদ্রিদের সাথে দুটি চ্যাম্পিয়ন লীগ শিরোপা লাভ করে স্পেন। ২০০৮ সালের ইউরো সাফল্যের পরে ডেল বস্কো লুইস আরাগনেসের স্থলাভিষিক্ত হন। ক্লাব পর্যায়ে বার্সেলোনা জুটি পিক এবং সার্জি বাসকুয়েটের অসাধারণ পারফরমেন্সের পরে জাতীয় দলের কৌশলগত দিকও খুব একটা পরিবর্তন করেননি বস্কো। তবে এবারের বিশ্বকাপে নিজের দল নিয়ে বস্কোর একটিই দুঃশ্চিন্তা হলো ইনজুরি। টরেস, ফাব্রেহাস এবং ইনিয়েস্টারের মত তারকা খেলোয়াড়রা মৌসুমের শেষের দিকে ইনজুরিতে পড়ায় তাদের নিয়ে চিন্তিত হয়ে পড়েছেন কোচ। বিশ্বকাপে নিয়মিত অংশগ্রহণকারী দল হিসেবে স্পেনের সুনাম রয়েছে। মাঝে ১৯৭৪ সালে জার্মানীতে একবার মাত্র তারা বাছাইপর্বে বাধা পেরুতে ব্যর্থ হয়েছিল। ১৯৫০ সালে ব্রাজিল বিশ্বকাপে চতুর্থ স্থান লাভ করেছিল স্পেন। এখন পর্যন্ত সেটাই বিশ্বকাপে তাদের সেরা সাফল্য। বর্তমান সময়ে এখন পর্যন্ত স্পেন কোয়ার্টার ফাইনালের পর্ব পার করতে পারেনি। এমনকি ১৯৮২ সালে স্বাগতিক দেশ হিসেবেও শেষ ১৬তে জার্মানীর কাছে ৩-১ গোলে পরাজিত হয়ে বিদায় নেয়। ২০০৬ সালের জার্মানী বিশ্বকাপেও তাদের একই ফলাফল ছিল। এবারের আসরেও দুর্ভাগ্যজনকভাবে ড্রটা স্পেনের সহায়ক হয়নি। গ্রুপ পর্বে সুইজারল্যান্ড, চিলি এবং হন্ডুরাসের মোকাবিলা করার পরে হয়তবা শেষ ১৬তে তাদের পর্তুগাল, আইভরি কোস্ট অথবা ব্রাজিলের মুখোমুখি হতে হবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ