ঢাকা, মঙ্গলবার 2 January 2018, ১৯ পৌষ ১৪২৪, ১৪ রবিউস সানি ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করাই নতুন বছরের বড় চ্যালেঞ্জ -মির্জা ফখরুল

ছাত্রদলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে গতকাল সোমবার শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের মাজারে পুষ্পস্তবক অর্পণ শেষে মিডিয়া ব্রিফিং করেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর -সংগ্রাম

স্টাফ রিপোর্টার: একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সকলের কাছে গ্রহণযোগ্য করতে সরকারকে আবারো সংলাপে বসার আহ্বান জানিয়েছে বিএনপি। গতকাল সোমবার বিকেলে এক অনুষ্ঠানে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এই কথা জানান। তিনি বলেন, আমরা সব সময় সংলাপের কথা বলে এসেছি। আমরা মনে করি যে, সংলাপ ছাড়া কোনো সমস্যারই সমাধান হবে না। কারণ সরকার যে অবস্থান নিয়ে আছে, সেই অবস্থান হচ্ছে তারা তাদের একদলীয় শাসনব্যবস্থাকে পাকাপোক্ত করার জন্য কোনো আলোচনা ছাড়াই তাদের সেই তথা কথিত সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচন করতে চায়। যা এদেশের মানুষ মেনে নেবে না। এদেশের মানুষ মনে করে একটি নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে ছাড়া এখানে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়।
২০১৮ সালে বিএনপির কাছে বড় চ্যালেঞ্জ কোনটি প্রশ্ন করা হলে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, এই বছরের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনা, জনগনের সরকার প্রতিষ্ঠা করা এবং একটি নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে সকলের কাছে গ্রহণযোগ্য একটি নির্বাচনের ব্যবস্থা করা। আমরা মনে করি, ২০১৮ সাল হচ্ছে জনগনের বছর, গণতন্ত্রের বিজয়ের এবং জনগণই সেটা প্রতিষ্ঠা করবে।
গতকাল বিকেলে জাতীয়তাবাদী ছাত্র দলের ৩৯তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে সংগঠনের সভাপতি রাজীব আহসান ও ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান আসাদের নেতৃত্বে নেতা-কর্মীদের নিয়ে বিএনপি মহাসচিব শেরে বাংলা নগরে দলের প্রতিষ্ঠাদা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কবরে পুস্পমাল্য অর্পন করেন। এ সময়ে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু, চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য আমানউল্লাহ আমান, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেল, কেন্দ্রীয় নেতা ফজলুল হক মিলন, শহীদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, নাজিম উদ্দিন আলম, শফিউল বারী বাবু, সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, আমিরুল ইসলাম খান আলীমসহ ছাত্র দলের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
স্বীকৃতিপ্রাপ্ত সকল নন-এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে এমপিওভুক্ত করতে প্রাথমিক শিক্ষকদের আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানিয়ে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, শিক্ষকদের ন্যায় সঙ্গত আন্দোলনের প্রতি আমাদের পূর্ণ সমর্থন রয়েছে। প্রাথমিক শিক্ষকরা তাদের দাবিতে কয়েকদিন যাবত জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে আমরণ অনশন করছেন।
৫ জানুয়ারি সোহওরায়র্দি উদ্যানের সমাবেশ প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল বলেন, পত্রিকায় এসেছে যে, একটা অপরিচিত নাম-গোত্রহীন ইসলামিক পার্টিকে সেদিন সোহরাওয়ার্দি উদ্যানে জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে একটা সমাবেশ করবার অনুমতি দেয়া হয়েছে। এর থেকে প্রমাণিত হয় এই সরকার আসলে গণতন্ত্রকে হত্যা করে চলেছে এবং ভবিষ্যতে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করবার সমস্ত উদ্যোগে তারা বাধা প্রদান করবে।
নিন্দা ও প্রতিবাদ: এদিকে গতকাল সোমবার এক বিজ্ঞপ্তিতে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ছাত্রদলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠান পালন করতে গিয়ে সোমবার ঠাকুরগাঁও জেলায় ছাত্রদলের অনুষ্ঠানে পুলিশ বিনা উস্কানিতে হামলা চালিয়ে প্রায় ১৫/২০ জন নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করেছে। হামলায় জেলা বিএনপি’র সভাপতি মোঃ তৈমুর রহমানসহ ৩০ জনের অধিক নেতাকর্মী গুরুতর আহত হয়েছেন। সবচেয়ে গুরুতর আহত রানী শংকৈল পৌর ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মোমিনকে রংপুর মেডিকেল কলেজে স্থানান্তর করা হয়েছে, তিনি এখন মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন। এছাড়া একই অনুষ্ঠান পালন করার সময় পাবনাতেও পুলিশ বেপরোয়া হামলা চালিয়ে অনুষ্ঠান পন্ড করে দিয়েছে। পুলিশের ন্যাক্কারজনক হামলায় জেলা বিএনপি’র সভাপতি হাবিবুর রহমান তোতা, সাবেক সংসদ সদস্য সেলিম রেজা হাবিব, বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও এ্যাব এর সদস্য সচিব কৃষিবিদ হাসান জাফির তুহিন এবং জেলা বিএনপি’র দফতর সম্পাদক জহুরুল ইসলাম পুলিশের গুলিতে গুরুতর আহত হয়ে মূমুর্ষ অবস্থায় চিকিৎসাধীন। গুলিবিদ্ধ তিন জন নেতৃবৃন্দ ছাড়াও পুলিশী হামলা ও গুলিবর্ষণে আরো প্রায় ৩০ জন নেতাকর্মী আহত হয়ে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
এছাড়াও ভোলা জেলাধীন চরফ্যাশন উপজেলায় সাবেক সংসদ সদস্য ও বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য নাজিম উদ্দিন আলমের বাসায় অনুষ্ঠিত ছাত্রদলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আলোচনা সভায় হামলা চালিয়েছে আওয়ামী যুবলীগ ও ছাত্রলীগের সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা। সন্ত্রাসীদের নিষ্ঠুর ও বর্বরোচিত হামলায় ৫ জনের অধিক নেতাকর্মী গুরুতর আহত হয়েছেন। সেখানে ৭টি মটরসাইকেলও পুড়িয়ে দিয়েছে সন্ত্রাসীরা। একইভাবে কুমিল্লা জেলার তিতাস ও চান্দিনা উপজেলায় ছাত্রদলের কর্মসূচিতে পুলিশ ও ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীরা ব্যাপক হামলা চালিয়ে অনুষ্ঠান পন্ড করে দিয়েছে। হামলায় গুরুতর আহত হয়েছে চান্দিনা উপজেলা ছাত্রদল সভাপতি কাইয়ুম খান, ছাত্রনেতা সফি মুন্সী, মাজহারুল ইসলাম, দেবিদ্বার উপজেলা ছাত্রদল নেতা ইব্রাহিম খলিল, সুজন, আবু বকরসহ অনেক নেতাকর্মী। ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ তিতাস উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি মনিরুল ইসলাম, ছাত্রদল নেতা আলামীন হক বাবু, রাতুল, চান্দিনা পৌর যুবদল সাধারণ সম্পাদক হাজী নুরু ও তার ছেলে পৌর ছাত্রদল নেতা হানিফ মুন্সী, উপজেলা ছাত্রদল নেতা জাকির হোসেনসহ বেশ কয়েকজনকে গ্রেফতার করেছে। অনুরুপভাবে ফরিদপুর জেলা জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের উদ্যোগে ছাত্রদলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে হামলা চালিয়ে অনুষ্ঠান পন্ড করে দিয়েছে পুলিশ। সেখানে ছাত্রদলের কর্মসূচিতে যোগ দিতে রওয়ানা হলে বিএনপি’র ভাইস চেয়ারম্যান চৌধুরী কামাল ইবনে ইউসুফকে অবরুদ্ধ করে রাখে পুলিশ।
দেশব্যাপী শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত ছাত্রদলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচিতে পুলিশ ও আওয়ামী সন্ত্রাসীদের বর্বর ও পৈশাচিক হামলার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
বিবৃতিতে বিএনপি মহাসচিব বলেন, আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন যতোই ঘনিয়ে আসছে পুনরায় রাষ্ট্রক্ষমতা জোর করে দখল করতে বর্তমান শাসকগোষ্ঠী ততোই হিংস্র আচরণ শুরু করেছে। বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনসহ দেশের বিরোধী দলগুলোর যেকোন শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিকেও সরকার বরদাস্ত করছে না। জনগণের দ্বারা নির্বাচিত নয় বলেই বর্তমান বিনা ভোটের সরকার বিরোধী দল ও মতকে গ্রাহ্য করছে না। মানুষের কল্যাণে কাজ না করে ক্ষমতার দাম্ভিকতায় ত্রাস সৃষ্টির মাধ্যমে দেশকে গভীর সংকটে নিপতিত করেছে সরকার। সারাদেশে গুম, খুন, অপহরণ, বিচার বহির্ভূত হত্যা এবং বিএনপিসহ বিরোধী দলগুলোর কর্মসূচিতে দলীয় সন্ত্রাসী বাহিনী ও পুলিশ দিয়ে হামলা সংঘটনের মাধ্যমে জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি করে আবারো অবৈধ পন্থায় রাষ্ট্রক্ষমতায় আসার পাঁয়তারায় লিপ্ত হয়েছে আওয়ামী লীগ সরকার। এই উদ্দেশ্য পূরণে সরকার এখন আরো বেশী মাত্রায় দানবীয় রুপ ধারণ করেছে। সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের মধ্য দিয়ে দেশে নৈরাজ্য সৃষ্টি করে নিরবচ্ছিন্নভাবে রাষ্ট্রক্ষমতার স্বাদ পেতে জনগণ ও বিরোধী দলগুলোর ওপর বর্তমান নিষ্ঠুর সরকরের নির্যাতন-নিপীড়ণ প্রতিরোধে দলমত নির্বিশেষে সকলকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি। ছাত্রদলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচিতে দেশের বিভিন্ন স্থানে পুলিশ গুলি চালিয়ে এবং আওয়ামী সন্ত্রাসীরা সশস্ত্র হামলা চালিয়ে নেতাকর্মীদেরকে আহত করার ঘৃন্য ঘটনায় ধিক্কার জানাচ্ছি, নিন্দা জানাচ্ছি। গ্রেফতারকৃত নেতাকর্মীদের অবিলম্বে নি:শর্ত মুক্তি দাবি করছি। পুলিশের গুলিতে এবং আওয়ামী সন্ত্রাসীদের  পৈশাচিক হামলায় গুরুতর আহত নেতাকর্মীদের সুস্থতা কামনা করছি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ