ঢাকা, মঙ্গলবার 2 January 2018, ১৯ পৌষ ১৪২৪, ১৪ রবিউস সানি ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

তারেক-বাবরসহ ৪৯ জনের মৃত্যুদণ্ড চেয়েছে রাষ্ট্রপক্ষ

স্টাফ রিপোর্টার : তারেক রহমান, লুৎফুজ্জামান বাবরসহ ৪৯ আসামীর মৃত্যুদন্ড চেয়ে ২১ অগাস্ট গ্রেনেড হামলায় যুক্তি উপস্থাপন শেষ করেছে রাষ্ট্রপক্ষ। গত ২৩ অক্টোবর শুরু হওয়ার পর প্রায় আড়াই মাসে ২৫ কার্যদিবস ধরে যুক্তিতর্ক শুনানির পর গতকাল সোমবার তা শেষ করে। এরপর ঢাকার ১ নম্বর দ্রুত বিচার ট্রাইবুনালের বিচারক শাহেদ নূর উদ্দিন আজ মঙ্গলবার থেকে আসামী পক্ষের যুক্তি উপস্থাপন শুরুর দিন ঠিক করেন। আসামীপক্ষের যুক্তি উপস্থাপন শেষে  মামলাটির রায় ঘোষণার তারিখ পড়বে। পুরানো ঢাকার নাজিম উদ্দিন রোডে ট্রাইব্যুনালের বিশেষ এজলাসে এই মামলার বিচার চলছে। গতকাল সোমবার রাষ্ট্রপক্ষের প্রধান কৌঁসুলি  সৈয়দ রেজাউর রহমান আইনগত বিষয়ে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করে এ শাস্তি দাবি করেন।
গত ২৭ ডিসেম্বর রাষ্ট্রপক্ষ ২৪৫ জনের সাক্ষ্য পর্যবেক্ষণের আলোকে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ করেছিল। গতকাল সোমবার ১ জানুয়ারি আসামীপক্ষে যুক্তিতর্ক এবং রাষ্ট্রপক্ষে আইনগত যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের জন্য দিন ধার্য ছিল।
আসামীপক্ষ সময় চেয়ে আবেদন করায় আদালত তা মঞ্জুর করে  আজ মঙ্গলবার পর্যন্ত শুনানি মুলতবি করেন।
গতকাল সোমবার যুক্তিতর্কে রাষ্ট্রপক্ষের প্রধান কৌঁসুলি সৈয়দ রেজাউর রহমান বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলা, ঝালকাঠীর দুই বিচারক (সোহেল- জগন্নাথ) হত্যা মামলা এবং ভারতের রাজীব গান্ধী হত্যা মামলায় দেওয়া উচ্চ আদালতের সিদ্ধান্ত উপস্থাপন করেন। তিনি বলেন, “২১ অগাস্ট গ্রেনেড হামলা হয়েছিল দেশকে নেতৃত্বশূন্য করার মাধ্যমে গণতান্ত্রিক ধারাকে ধ্বংস করার অসৎ উদ্দেশ্যে।  বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্রকে ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত করতে এই নৃশংস হামলা করা হয়েছিল।”
২০০৪ সালের ২১ আগস্ট ঢাকার বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেতা শেখ হাসিনার সমাবেশে গ্রেনেড হামলা চালানো হয়েছিল। তাতে নিহত হন ২৪ জন। শেখ হাসিনা প্রাণে বেঁচে গেলেও তার শ্রবণশক্তি নষ্ট হয়। বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার আমলে এর তদন্ত ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার অভিযোগ ওঠার পর তত্ত্বাবধায়ক সরকার আমলে ২০০৮ সালের ১১ জুন ২২ জনকে আসামী করে অভিযোগপত্র দেয় সিআইডি। ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় ফেরার পর অধিকতর তদন্তের পর খালেদা জিয়ার ছেলে তারেক, সবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবরসহ আরও ৩০ জন আসামীর তালিকায় যোগ হন।
শুনানিতে রেজাউর বলেন, “আওয়ামী লীগকে, স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষের শক্তিকে নিশ্চিহ্ন করে জামায়াত-বিএনপিকে ক্ষমতায় রেখে হরকাতুল জিহাদকে কাজে লাগিয়ে জঙ্গিদের কর্মকান্ড নির্বিঘ্নে পরিচালনার হীন উদ্দেশ্যই এ হামলার প্রধান কারণ।”
এই মামলার তিন তদন্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিএনপি আমলে ‘জজ মিয়া’ নাটক সাজানোর অভিযোগ আসে। তাদের পাশাপাশি ওই সময়কালের তিন পুলিশ প্রধানও এখন মামলার আসামী।
৫২ আসামীর মধ্যে সাবেক মন্ত্রী ও জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ, জঙ্গি নেতা মুফতি আব্দুল হান্নান ও বিপুলের অন্য মামলায় মৃত্যুদন্ড কার্যকর হওয়ায় এই মামলা থেকে তাদের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। এখন ৪৯ আসামীর মধ্যে তারেক রহমানসহ ১৮ জন পলাতক রয়েছেন। এছাড়া জামিনে আটজন এবং কারাগারে রয়েছেন ২৩ জন।
রাষ্ট্রপক্ষের দাবি, তারা ২২৫ জন সাক্ষী ও আসামীপক্ষের ২০ জন সাফাই সাক্ষীকে জেরার মাধ্যমে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করতে পেরেছেন।
রেজাউর বলেন, “৪৯ আসামীর বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ রাষ্ট্রপক্ষ স্বতন্ত্র ও নিরপেক্ষ সাক্ষীদের সাক্ষ্য প্রমাণে সন্দেহের ঊর্ধ্বে থেকে প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছে। ন্যায়বিচারের স্বার্থে ও বিচার প্রার্থী মানুষের প্রত্যাশা পূরণে আইনের বিধানের আলোকে আসামীদের প্রত্যেককে সর্বোচ্চ সাজা প্রার্থনা করছি।”
২০০৪ সালের ঘটনার পর পর দিন মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) ফারুক আহমেদ বাদী হয়ে এই মামলা করেন। চার বছর পর সিআইডির জ্যেষ্ঠ এএসপি ফজলুল কবির হত্যা ও বিস্ফোরক আইনে আলাদা অভিযোগপত্র দেওয়ায় এখন দুটি মামলার বিচার চলছে, তবে তা চলছে একইসঙ্গে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ