ঢাকা, মঙ্গলবার 2 January 2018, ১৯ পৌষ ১৪২৪, ১৪ রবিউস সানি ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

যুক্তরাষ্ট্রে মন্দাভাবের কারণে গলদা চিংড়ির দাম অর্ধেকে নেমে আসায় রফতানি কমেছে

খুলনা অফিস : যুক্তরাষ্ট্রে মন্দাভাবের কারণে গলদা চিংড়ির দাম অর্ধেক নেমে আসায় রফতানির পরিমাণ কমেছে। খুলনাঞ্চলের চিংড়ি সেক্টর এখন হতাশার মধ্যে। উপকূলের উপজেলা দাকোপ ও বটিয়াঘাটায় বাগদা চিংড়ি চাষের পরিমাণ বহুলাংশে কমেছে। জমির হারির মূল্য বেশি, লোনা পানি তুলতে বাধা, প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও ভাইরাস নামক রোগের কারণে চাষিরা ক্রমাগত লোকসান দিয়ে বাগদা চাষ থেকে সরে এসেছে।
খুলনা জেলা মৎস্য অফিসের সূত্র জানায়, সুন্দরবন সংলগ্ন দাকোপে বিত্তবানরা আধানিবিড় পদ্ধতিতে চিংড়ি চাষ করছে। লোনা পানি তুলতে বাধা এবং রোগ বালাইয়ের কারণে ছোট ছোট ঘেরগুলোর উৎপাদন বন্ধ হয়েছে। ২০১৫-’১৬ অর্থ বছরে জেলার ৯ উপজেলায় ১৩ হাজার ৯৫৯ মেট্রিক টন গলদা এবং ১০ হাজার ৮৪০ মেট্রিক টন বাগদা উৎপাদন হয়। ২০১৬-’১৭ অর্থ বছরে গলদার উৎপাদন ১৩ হাজার ৬৬৭ মেট্রিক টন এবং বাগদার উৎপাদন ১২ হাজার ৪১১ মেট্রিক টন।
রফতানি উন্নয়ন ব্যুরোর সূত্র জানায়, গেল জুলাই মাসে চার কোটি ৩৮ লাখ ৮ হাজার ডলার, আগস্ট মাসে চার কোটি ৩০ লাখ ৮১ হাজার ডলার, সেপ্টেম্বর মাসে দুই কোটি ১০ লাখ ডলার, অক্টোবর মাসে তিন কোটি ১১ লাখ ডলার এবং নবেম্বর মাসে দুই কোটি ৪২ লাখ ২২ হাজার ডলার মূল্যের হিমায়িত চিংড়ি বিদেশে রফতানি হয়। রফতানিকারক দেশগুলো হচ্ছে-নেদারল্যান্ড, বেলজিয়াম, রাশিয়া, ডেনমার্ক, সাইপ্রাস, অস্ট্রিয়া, ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য, ইতালি, জার্মানি, জাপান, পর্তুগাল, গ্রীস, সুইজারল্যান্ড, লিথুনিয়া, স্পেন ও পোল্যান্ড।
মৎস্য মান উন্নয়নের উপ-পরিচালক প্রফুল্ল কুমার সরকার জানান, অর্থনৈতিক সংকটের কারণে ইউকেতে গলদার চাহিদা কমেছে। গেল অর্থ বছরের তুলনায় চলতি অর্থ বছরের এই ক’মাসে ১১শ’ মেট্রিক টন কম হিমায়িত চিংড়ি রফতানি হয়। আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশী গলদার দাম কমেছে।
ফ্রোজেন ফুডস এক্সপোর্টার্স এসোসিয়েশনের সহ-সভাপতি শেখ আব্দুল বাকি জানান, ইউকের বাজারে অন্যান্য বছরগুলোতে এক কেজি হিমায়িত চিংড়ি ১৫ ডলার দামে বিক্রি হলেও এখন তার মূল্য অর্ধেক। সেখানকার মানুষের ক্রয় ক্ষমতা কমে এসেছে। গলদার দাম কমে যাওয়ায় স্থানীয় চাষিরা ডিপোতে বিক্রি না করে হাটে বাজারে বিক্রি করছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ