ঢাকা, মঙ্গলবার 2 January 2018, ১৯ পৌষ ১৪২৪, ১৪ রবিউস সানি ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

আবারও বর্ণবাদী মন্তব্য!

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বিতর্কিত জেরুসালেম নীতি ঘোষণার জেরে ফিলিস্তিনীদের প্রতিক্রিয়া নিয়ে ইসরাইলে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূতের মন্তব্যকে ‘বর্ণবাদী’ বলে উল্লেখ করেছে ফিলিস্তিনী মুক্তি আন্দোলনের সংগঠন হামাস। তুরস্কের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আনাদুলো ও জেরুসালেম পোস্ট এ খবর জানিয়েছে। গত বৃহস্পতিবার এক সাক্ষাৎকারে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ডেভিড ফ্রেইডম্যান ফিলিস্তিনীদের প্রতিক্রিয়াকে ‘কুৎসিত, অবাঞ্ছিত উত্তেজক ও সেমিটিক বিরোধী’ বলে মন্তব্য করেন। শনিবার এক বিবৃতিতে হামাসের মুখপাত্র ফোউজি বারাহাউস বলেন, ‘ফিলিস্তিনীদের প্রতিক্রিয়া নিয়ে ফ্রেইডম্যানের বিবরণে বর্ণবাদ, ইতিহাসকে অবহেলা, ফিলিস্তিনীদের অধিকার ও আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি অবজ্ঞাই প্রতিফলিত হয়েছে। এই নীতিতে আমাদের জনগণের বিরুদ্ধে সব ধরনের অপরাধ ও নিষেধাজ্ঞায় তারা (মার্কিনীরা) দখলদারিত্বের অংশীদার।’ ফ্রেইডম্যানের বক্তব্য যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসনের সঙ্গে ফিলিস্তিনের সম্পর্ক ছিন্ন করা ও অসলো চুক্তি বাতিলের বৈধতা দিয়েছে বলেও হামাসের বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
উল্লেখ্য যে, ১৯৯৩ সালের সেপ্টেম্বরে ফিলিস্তিনী স্বাধীনতা সংস্থা ও ইসরাইলের মধ্যে অসলো শান্তিচুক্তি সম্পাদিত হয়। ওই চুক্তিতে পশ্চিমতীর ও গাজা উপত্যকায় ফিলিস্তিনীদের নিজস্ব শাসনব্যবস্থা চালুর কথা বলা হয়। চুক্তিতে ফিলিস্তিনীদের সশস্ত্র প্রতিরোধ থেকে বিরত থেকে ইসরাইলের সঙ্গে নিরাপত্তা সহায়তা বাড়ানোর কথা বলা হয়। প্রসঙ্গত আরো উল্লেখ করা প্রয়োজন যে, মধ্যপ্রাচ্য সংকটের মূলে রয়েছে জেরুসালেম। ফিলিস্তিনীরা পূর্ব জেরুসালেমকে তাদের ভবিষ্যৎ রাষ্ট্রের রাজধানী হিসেবে বিবেচনা করে। আর গত ৬ ডিসেম্বর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জেরুসালেমকে ইসরাইলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে নতুন এক সংকটের জন্ম দেয়।
পৃথিবীবাসী ট্রাম্পের এই স্বীকৃতিকে সমর্থন করেনি। চীনসহ পৃথিবীর অধিকাংশ রাষ্ট্র পূর্ব জেরুসালেমকে ফিলিস্তিনীদের রাজধানী হিসেবে সমর্থন জানিয়েছে। এমন অবস্থায় মার্কিন রাষ্ট্রদূত বর্ণবাদী মন্তব্য করে সংকটের মাত্রা বাড়ালো। এখন যুক্তরাষ্ট্রের কাজ কি সংকটের মাত্রা বাড়িয়ে যাওয়া।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ