ঢাকা, মঙ্গলবার 2 January 2018, ১৯ পৌষ ১৪২৪, ১৪ রবিউস সানি ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

দিনাজপুরে বন বিভাগের গাছ কেটে জমি দখলের হিড়িক

নবাবগঞ্জ (দিনাজপুর) এম. রুহুল আমিন প্রধান : গাছ কর্তন করে বনের কোটি টাকা মূল্যের জমি দখলে এলাকার একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট সক্রীয় হয়ে উঠেছে। জবর দখল হওয়া অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করতে প্রকাশ্যে বিট কর্মকর্তাকে হত্যাসহ গুরুত্বর অপরাধের তথ্য পাওয়া গেছে। একাধিক সূত্র থেকে প্রকাশ দিনাজপুর জেলার সামাজিক বন বিভাগের অধিনে চরকাই ফরেস্ট রেঞ্জ’এর আওতায় নবাবগঞ্জ সদর বিট, হরিপুর বিট, ভাদুরিয়া বিটসহ মধ্যপাড়া ফরেস্ট রেঞ্জ’এর কুশদহ বিটে এখন গাছ কেটে জমি দখলের প্রতিযোগিতায় নেমেছে সুবিধাবাদী সিন্ডিকেটের সদস্যরা। নবাবগঞ্জ সদর বিটে ১৯৮০ সালে বিট কর্মকর্তা মোঃ আতাউর রহমান রাতের আধারে বন রক্ষা করতে গিয়ে দুষ্কৃতির হাতে নির্মমভাবে হত্যা হয়। এছাড়াও হরিপুর বিটে চলতি ইট-ভাটা পোড়ার মওসুমে কাঠ কেটে বন উজাড় হওয়াসহ জমি দখলে চলছে প্রতিযোগিতা। কেউবা রাতের আধারে আবার কেউবা প্রকাশ্যে দিনের বেলায় বন বিভাগের সংরক্ষিত জমি অথবা গাছ কেটে জমি উদ্ধার করে পাকা ইমারতসহ বাঁশের টিনসেড বাড়ি করে দখলে নিচ্ছে। এর ফলে ক্রমশই দিন দিন সংরক্ষিত ও বনের জমি কমে গিয়ে বেড়ে উঠেছে অবৈধ স্থাপনা। সম্প্রতি হরিপুর বিটে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করতে গিয়ে দখলকারীদের সাথে সংঘর্ষসহ ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় নবাবগঞ্জ থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) ও মধ্যপাড়া রেঞ্জ’এর রেঞ্জ কর্মকর্তাসহ ৮ জন গুরুত্বর আহত হয়। বন বিভাগের স্টাফদের হামলাকারী দখলদারেরা পুলিশের মামলায় গ্রেফতার তো দূরের কথা বীরদর্পে ঘুরে বেড়াছে। স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন- সরকারি কর্মকর্তা কর্মচারীদের হামলা করেও দুর্দান্ত প্রকৃতির দখলকারীরা কিভাবে ঘুড়ে বেড়ায়? চরকাই ফরেস্ট রেঞ্জ’এর আওতায় ভাদুরিয়া বিটে বন বিভাগের গেজেট নোটিফিকেশন এর তিন’শত বিঘা বনায়ন ভূমির রোপন করা গাছ অপসারণ করে পদুমহার মৌজায় বন বিভাগ হারিয়ে ফেলেছে তিন’শ বিঘা জমি। সরেজমিন গিয়ে দেখা গেছে- কাগজপত্রেই বনের জমি, দখলদারদের কবলে। এছাড়াও ওই বিটে বন বিভাগের জমির পজেশন বিক্রির হিড়িক পড়েছে। কেউ দেখাচ্ছে ক্রয়কৃত জমির দলিল, আবার কেউ দেখাচ্ছে দীর্ঘদিনের দখল। আবার বন বিভাগ দেখাচ্ছে গেজেট নোটিফিকেশনের তথ্য। গত ডিসেম্বর মাসের নবাবগঞ্জ উপজেলা আইন-শৃঙ্খলা সমন্বয় সভায় ৮নং মাহমুদপুর ইউপি চেয়ারম্যান আঃ রহিম বাদশা অভিযোগ করে জানান- ভাদুরিয়া বিটের ১০২ নং দাগের বনের জমি সাবেক মাহমুদপুর ইউপি চেয়ারম্যান নায়েব আলী ১৫০ টাকার নন জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে লক্ষাধিক টাকার বিনিময়ে একাধিক স্থানে গেজেট নোটিফিকেশনের জমি বিক্রি করে দিয়ে হাতিয়ে নিয়েছে মোটা অংকের অর্থ। এ বিষয়ে সাবেক চেয়ারম্যান নায়েব আলীর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান- বনের জমি বিক্রি করিনি, পজেশন বিক্রির যে জমি তা আমার ক্রয় সম্পত্তি। কোনটা সঠিক? গেজেট নোটিফিকেশন বন বিভাগ না ব্যক্তি মালিকানাধিন, এ নিয়ে দেখা দিয়েছে আইনি জটিলতা। বনে গাছ কাটা গেলেই দুই চেয়ারম্যানের চলে পাল্টা অভিযোগ। আর এর মাঝে নিরব দর্শকের ভূমিকা পালন করে বন বিভাগ। নবাবগঞ্জ থানাসহ জেলা প্রশাসনে বন বিভাগ অভিযোগ না করলেও বনের সম্পদ নিয়ে তৃতীয় পক্ষ হয়ে পাবলিক প্রতিকার চাচ্ছে। এলাকার সুশিল সমাজসহ সচেতন মহলের নিকট বিষয়টি রহস্যের জন্ম দিয়েছে। সম্প্রতি মাহমুদপুর মৌজা থেকে উন্নত জাতের হাড়ি ভাঙ্গা, আম রোপালিসহ প্রায় ১১৫ টি কোটি টাকা মূল্যের গাছ রাতের আধারে কেটে সাবাড় করে দিয়েছে দুষ্কৃতিকারীরা। এ রিপোর্ট সংগ্রহ করতে  গেলে কর্তন হওয়া গাছগুলো জব্দ করছে বন বিভাগ। এ বিষয়ে ভাদুরিয়া বিট কর্মকর্তা মোঃ রফিকুল ইসলামের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান- গাছগুলো জব্দ করে প্রকৃত অপরাধীদের সনাক্ত করে বন আইনে মামলা করা হবে। নবাবগঞ্জ সদর বিট কর্মকর্তা নিশিকান্ত মালাকার জানান- বনের পাশে বে-পরোয়াভাবে ইট ভাটা হওয়ায় অসাধু ভাটা মালিকেরা বন আইন অমান্য করে ইট ভাটা স্থাপন করেছে। বন থেকে জ্বালানী কাটতে পারছে না গ্রাম-গঞ্জ থেকে জনসাধারণের কাঠ ক্রয় করে ইট পুড়ছে। এ বিষয়ে চরকাই ফরেস্ট রেঞ্জ কর্মকর্তা গাজী মনিরুজ্জামান জানান- পদুমহার এলাকার বনের জমি দখলের ঘটনায় একাধিক মামলা দেয়া হয়েছে। এ বিষয়ে দিনাজপুর-৬ আসনের সংসদ সদস্য শিবলী সাদিক জানান- বন বিভাগের জমি যদি কেউ দখল করে উদ্ধার করে সৃষ্টি করতে হবে বনায়ন। তিনি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর তার সহযোগিতায় কুশদহ বিট এলাকায় বনের অবৈধভাবে দখল হয়ে যাওয়া জমি উদ্ধার করেছে। তিনি আরও জানান- দখলের সাথে যতবড়ই প্রভাবশালীরা জড়িত থাক না কেন, তাদেরকে আইনের আওতায় আসতে হবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ