ঢাকা, মঙ্গলবার 2 January 2018, ১৯ পৌষ ১৪২৪, ১৪ রবিউস সানি ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

দর্শনা চিনিকলে সাড়ে ১২ হাজার একর জমিতে আখ চাষের পরিকল্পনা গ্রহণ

চুয়াডাঙ্গা : আখ রোপণ উদ্বোধন

এফ.এ আলমগীর, চুয়াডাঙ্গা সংবাদদাতা: দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়াত্ব শিল্প কমপ্লেক্স চুয়াডাঙ্গার দর্শনা কেরু অ্যান্ড কোম্পানীর চিনিকলে চলতি আখ রোপন মওসুমে আখ রোপনের ব্যাপক কর্মসুচী গ্রহন করা হয়েছে। দীর্ঘ মেয়াদী এই ফসলে ক্রমাগত লোকসান ও হয়রানীতে অতিষ্ঠ কৃষকরা মুখ ফিরিয়ে নেয়ায় লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে চাষীদের পাশাপাশি লাঙ্গল কোদাল নিয়ে কর্মকর্তা/কর্মচারীরাও সুগার কর্পোরেশনের নির্দেশে ঘুম থেকে উঠে মাঠের পানে ছুটছেন। চিনিকল সুত্রে জানাগেছে- চলতি ২০১৭-১৮ রোপন মওসুমে সর্বমোট ১২ হাজার ৫ শত একর জমিতে আখ চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারন করা হয়েছে। এর মধ্যে চিনিকলের নিজস্ব খামারে ১ হাজার ৬৪৫ একর এবং চাষীদের জমিতে ১০ হাজার ৮৫৫ একর জমিতে আখ চাষ করা হবে। এর মধ্যে ৯ হাজর ৯ শত একর নতুন এবং ২ হাজার ৬ শত একর জমিতে মুড়ি আখ চাষ করা হবে। লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে চাষীদের চাষীদের সর্বাত্মক সহযোগীতা প্রদান করা হচ্ছে। চাষীদেরকে আখের জমিতে সার প্রয়োগ,বীজ ক্রয়,কীটনাশক প্রযোগ, নালাকাটা, আখবাঁধা প্রভৃতি কাজের জন্য প্রায় ৫ কোটি টাকা ঋণ প্রদানের কর্মসুচী নেয়া হয়েছে। এদিকে বর্তমানে একই জমিতে বছরে ৩ বার ফসল উৎপাদন হওয়ায় বিশেষ করে চুয়াডাঙ্গা অঞ্চলে আল্প খরচে ও স্বল্প সময়ে লাভজনক ভুট্টার আবাদসহ সবজী জাতীয় ফসল জনপ্রিয় হওয়ায় দীর্ঘ মেয়াদী আখ চাষ থেকে কৃষকরা মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে। আখ চাষ ক্রমান্বয়ে হ্রাস পাওয়ায় কাংখিত আখ না পেয়ে নির্দিষ্ট সময়ের বহু পূর্বেই চিনিকলের উৎপাদন বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। বিগত ২/৩ বছর ধরে কেরু চিনিকলে আখ রোপন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হচ্ছে। এ অবস্থা অব্যাহত থাকলে আখের অভাবে চিনিকলটি বন্ধ হয়ে যেতে পারে। চলতি বছর কেরু চিনিকলে আখ রোপনের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে চাষীদের সাথে যোগাযোগ বৃদ্ধি এবং উন্নত প্রযুক্তিতে আখ চাষ করে আর্থিকভাবে লাভবান হওয়ার পরামর্শসহ চাষীদের সর্বাধিক সেবা প্রদানের পদক্ষেপ নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। সুগার কর্পোরেশন কর্মকর্তা/ কর্মচারীদের আখ চাষ বাধ্যতামুলক করায় এর প্রভাব পড়েছে। যে সমস্ত কর্মকর্তা/ কর্মচারীদের বাড়ী চিনিকল এলাকার বাইরে কিংবা নিজস্ব জমি নেই তারা চাষীদের নিকট হতে চাকুরী বাঁচাতে উচ্চমূল্যে হলেও জমি লিজ নিচ্ছেন। এ সুযোগে চাষীরাও লিজ মূল্য বাড়িয়ে দিয়েছে। চাষে অনাভ্যস্থ কর্মকর্তারাও চাকুরী বাঁচাতে তবুও আখ চাষে কোমর বেঁধে নেমে পড়েছেন। কেরু চিনিকলের নবাগত ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী মোঃ এনায়েত হোসেন দৈনিক সংগ্রামকে জানান- কর্পোরেশনের আখ চাষের নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা পুরন কষ্টসাধ্য হলেও সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে। সকলের সহযোগীতা পেলে আমরা একটা সন্মানজনক অবস্থানে পৌঁছাতে পারবো বলে আশা করছি। সরকারও এ বছর আখের মূল্য মিলস গেটে প্রতি কুইন্টাল ২৭৫ টাকা থেকে বৃদ্ধি করে ৩১২ টাকা ৫০ পয়সা নির্ধারন করায় চাষীরাও উৎসাহিত হচ্ছে। চলতি রোপন মওসুম গত ৮ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হয়েছে। ইতিমধ্যে ৪ হাজার একর জমিতে আখ রোপন সম্পন্ন হয়েছে।
আগামী ফেব্রুয়ারী মাস নাগাদ এ রোপন কাজ চলবে বলে জানা গেছে। তবে মাঠ পর্যায়ে চিনিকলের রয়েছে ব্যাপক দক্ষ জনবল সংকট। অবাক হলেও সত্য চিনিকলের ৬টি সাবজোনে ৬ জন কৃষিবীদ থাকার কথা,সেখানে একজনও নেই বরং সে পদগুলি চলছে উপসহকারী ইক্ষু উন্নয়ন কর্মকর্তা দিয়ে আর প্রতিটি ইউনিটে একজন ইক্ষু উন্নয়ন সহকারী থাকার কথা থাকলেও তাদের দিয়ে একাধিক ইউনিট চালানো হচ্ছে। তাদেরকে আবার পাশাপাশি ইউনিট না দিয়ে দূরদুরান্তে দেয়ায় কোনটিই তারা ঠিকমত দেখভাল করতে পারেনা। কর্মকর্তাদের এসব অন্তোষ আর অব্যবস্থাপনা নিয়ে কতটুকু লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা যাবে সেটাই এখন দেখার বিষয়।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ