ঢাকা, মঙ্গলবার 2 January 2018, ১৯ পৌষ ১৪২৪, ১৪ রবিউস সানি ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

চৌগাছায় পৌর কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে অধ্যক্ষের বেড-রুমে ঢুকে স্ত্রী-পুত্রসহ মারপিট ও চাঁদা দাবির অভিযোগ

চৌগাছা (যশোর) প্রতিনিধি: যশোরের চৌগাছা পৌরসভার ৫নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর গোলাম মোস্তফা ওরফে জিএম মোস্তফার বিরুদ্ধে এক প্রি-ক্যাডেট স্কুলের অধ্যক্ষের বেডরুমে প্রবেশ করে স্ত্রী সন্তানসহ পিটিয়ে আহত করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ সময় অধ্যক্ষের কাছে স্কুল পরিচালনা করতে হলে পাঁচ লক্ষ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। এ ঘটনায় চৌগাছা থানায় মামলা দায়ের হয়েছে। শুক্রবার দুপুর বারটায় চৌগাছা প্রেসক্লাবে চৌগাছা পৌর এলাকার নব কিশলয় প্রি-ক্যাডেট স্কুলের অধ্যক্ষ আবুল কালাম আজাদ এক সাংবাদ সম্মেলনে লিখত বক্তব্যে বলেন, কিছুদিন যাবৎ পৌরসভার ৫নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর গোলাম মোস্তফা স্কুলটি চালাতে হলে তাকে ৫ লক্ষ টাকা চাঁদা দিতে হবে বলে দাবি করে আসছিল। গত ২৭ ডিসেম্বর সন্ধ্যা ছয়টার দিকে আমার স্ত্রী শিক্ষার্থীদের পড়াচ্ছিলেন। আমি এবং সহকারী শিক্ষক ফরহান যশোর থেকে স্কুলের কিছু আসবাবপত্র কিনে বাড়ি এসে পৌছলে কাউন্সিলর গোলাম মোস্তফা, তার সঙ্গী শিমুল হোসেন, ফারুক হোসেন, হিরাসহ চাঁদার দাবিতে আমার বাড়ি এবং স্কুলে ঢুকে দোতলায় আমার বেডরুমে ঢুকে লোহার রড এবং বাশ দিয়ে এলোপাতাড়ি মারতে থাকে এসময় আমার স্ত্রী ও স্কুলের সহকারী শিক্ষক সুরাইয়া এবং ছেলে ৪র্থ শ্রেণীর শিক্ষার্থী সাজ্জাদ ইশতিয়াক ঠেকাতে গেলে তাদেরকেও মারপিট করে। আমাদের আর্তচিৎকারে স্কুলের সহকারী শিক্ষক ফারহান আহম্মেদ এবং শিক্ষার্থীরা দোতালায় আসলে শিক্ষক ফারহান, শিক্ষার্থী পিয়াস (১০), ফরহাদ (১০), সাগর (৯), তন্ময় (৯)সহ আরো কয়েকজনকে এলোপাতাড়ি মারপিট করে। এসময় কাউন্সিলর মোস্তফার নির্দেশে তার সঙ্গীরা স্কুলের আসবাবপত্র ভাংচুর করে এবং আমার শার্টের পকেট থেকে ২০ হাজার টাকা জোরপূর্বক ছিনাইয়া নেয় এবং বাকি টাকা ৩০ তারিখে নিতে আসবে বলে শাসিয়ে যায়। এ ঘটনায় আমি বৃহস্পতিবার চৌগাছা থানায় একটি মামলা দায়ের করেছি। যার নম্বর ১৮। সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি বলেন, এদের মধ্যে আসামী হিরা চৌগাছা উপজেলা পরিষদের সার্ভেয়ার জাহাঙ্গীর হোসেন হত্যা মামলার এজহারভূক্ত আসামী। এছাড়া অন্যদের বিরুদ্ধ্ওে ছিনতাই ও চাঁদাবাজির অভিযোগ রয়েছে। সহকারী শিক্ষক সুরাইয়া বলেন, তারা আমাদের বেডরুমে প্রবেশ করে আমার স্বামীকে মারপিট করেছে, টাকা ছিনিয়ে নিয়েছে, আমাকে ও আমার শিশুপুত্রকে মারপিট করেছে, আবার পাঁচ লক্ষ টাকার বাকিটা নিতে ৩০ ডিসেম্বর আসবে বলে শাসিয়েছে। আমি তাদের বলেছি আমাদের বেডরুমে ঢুকে এভাবে মারপিট করছেন? কাউন্সিলর মোস্তফা তখন উত্তর দিয়েছে, ‘আমি এই ওয়ার্ডের কাউন্সিলর, বেড রুম কেন বাথ রুমেও ঢুকতে পারি। সব জায়গায় ঢুকার ক্ষমতা আমার আছে। এখানে স্কুল চালাতে গেলে আমাদের পাঁচ লক্ষ টাকা দিতে হবে।’ সাংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন অধ্যক্ষের স্ত্রী ও সহকারী শিক্ষক সুরাইয়া স্কুলের সহকারী শিক্ষক শামীমা আক্তার, আকলিমা, কনা রহমান, নাইস, নূর মোহাম্মদ, ফরহান হোসেন ফ্রাঙ্ক, ৪র্থ শ্রেণীর শিক্ষার্থী সাজ্জাদ ইশতিয়াক, ৫ম শ্রেণীর জিদান, শাওন, ফরহাদ ও ফাহিম, ৪র্থ শ্রেণীর তন্ময়, ৩য় শ্রেণীর শিক্ষার্থী নাহিদ ও শাফি প্রমুখ। এসময় সহকারী শিক্ষক ফারহান এবং শিক্ষার্থীরা তাদের মারপিটের অভিযোগ করে। এ বিষয়ে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা চৌগাছা থানার উপ-পরিদর্শক সালাউদ্দিন বলেন, ‘আসামীদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে। তারা চৌগাছার বাইরে পালাতক রয়েছে। অচিরেই আসামীরা গ্রেফতার হবে।’ এবিষয়ে অভিযুক্ত ওয়ার্ড কাউন্সিলর গোলাম মোস্তফা বলেন, ‘ঘটনার সময় আমি চৌগাছা থানার ওসি (তদন্ত) মারুফ হোসেন এবং সেকেন্ড অফিসার আকিকুল ইসলামের সাথে শহরের ধনী প্লাজায় বসে চা খাচ্ছিলাম। বিষয়টি জানতে পেরে ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদেরকে নিবৃত্ত করে অধ্যক্ষকে উপযুক্ত বিচারের আশ্বাস দিয়ে আসি। কিন্তু আমার সম্মানহানী করতে একটি পক্ষ তাকে দিয়ে মামলা এবং সংবাদ সম্মেলন করিয়েছেন।’

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ