ঢাকা, মঙ্গলবার 2 January 2018, ১৯ পৌষ ১৪২৪, ১৪ রবিউস সানি ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

চলনবিলে সবজি চাষে স্বচ্ছল হচ্ছে কৃষকরা

তাড়াশ (সিরাজগঞ্জ) : চলনবিলে সবজি ক্ষেত পরিচর্যায় ব্যস্ত শ্রমিকরা -সংগ্রাম

তাড়াশ (সিরাজগঞ্জ) থেকে শাহজাহান: চলনবিলে ভয়াবহ বন্যার ক্ষতি পুষিয়ে উঠতে কৃষকেরা বুকে আশার আলো জেলে সবজি চাষে মেতে উঠছেন। ধান, পাটসহ অন্য ফসলের চেয়ে সবজি চাষ লাভজনক হওয়ায় জেলার কৃষকরা সবজি চাষের দিকে ঝুঁকছে। এ বছর পর পর দুইবার বন্যা ও বৃষ্টির কারণে জেলার কৃষকরা সবজি চাষে পিছিয়ে পড়ে। তারপরও পানি নেমে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে কৃষকরা ক্ষতি পুষিয়ে নিতে মাঠে নেমেছে। এতে তাদের অভাব দূর হয়ে পরিবারে আসবে স্বচ্ছলতা। অনুকূল আবহাওয়া আর সার বীজ সহজলভ্য হওয়ার কারণে জেলায় এ বছর সবজির বাম্পার ফলন হবে বলে জেলার কৃষক ও কৃষিবিভাগ, আশা, করছেন। চলনবিল অধ্যুষিত চাটমোহর, ভাঙ্গুড়া, ফরিদপুর, তাড়াশ, সলঙ্গা, রায়গঞ্জ, উল্লাপাড়াসহ বিভিন্ন এলাকার কৃষকরা অন্যান্য ফসলের সাথে সবজি চাষে ঝুকে পড়েছেন। ইতোমধ্যেই জেলার বিভিন্ন এলাকায় আগাম সবজি উৎপাদন হয়েছে এবং বাজারে ভালো দামে বিক্রি হচ্ছে। সবজি চাষের ফলে একদিকে যেমন কৃষক পরিবারগুলোতে এসেছে সচ্ছলতা অপরদিকে গ্রামীণ অর্থনীতি হচ্ছে মজবুত। চলতি রবি মৌসুমে জেলায় ৯৩০০ হেক্টর জমিতে সবজি চাষের প্রাথমিক লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ হলেও কৃষি বিভাগ আশা করছে, এ বছর জেলায় সবজি চাষের লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে। জেলার প্রায় প্রতিটি উপজেলাতেই কমবেশি সবজি চাষ হয়।
তবে সিরাজগঞ্জ সদর, কাজিপুর, রায়গঞ্জ, উল্লাপাড়া, কামারখন্দে বেশি সবজি চাষ হয়। জেলায় চাষ করা বিভিন্ন ধরনের সবজির মধ্যে ফুলকপি, বাঁধাকপি, টমেটো, শিম, কুমড়া, মুলা, বেগুন, বিভিন্ন ধরনের শাকসহ প্রায় সব ধরনের সবজিই চাষ হয়। প্রতিদিনই শিয়ালকোল, ভদ্রঘাট, পিপুলবাড়িয়া, সিরাজগঞ্জ রোড, বহুলিসহ বিভিন্ন এলাকায় সবজির হাট বসে। এইসব হাট গলি থেকে দেশের বিভিন্ন এলাকার পাইকাররা এসে কিনে নিয়ে যায়। আবার অনেক পাইকার সরাসরি জমি থেকে সবজি কিনে নিয়ে যাচ্ছে। বঙ্গবন্ধু সেতু হওয়ার পর হতেই সিরাজগঞ্জে কৃষিতে বিশেষ করে সবজি চাষে বিপ্লব শুরু হয়েছে। সিরাজগঞ্জের সবজি সারা দেশের চাহিদা মিটানোর পর ইউরোপ-আমেরিকাসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে যাচ্ছে। এতে করে জেলার কৃষকদের ভাগ্যেও আমুল পরিবর্তন এসেছে। সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার বহুলি গ্রামের কৃষক আব্দুল কালাম জানান, সবজি চাষ তার ভাগ্য খুলে দিয়েছে। আগে যখন ধান-পাটের চাষ করতাম তখন ঋণ পরিশোধ হতো না। আর এখন সবজি চাষ শুরু করায় সংসারে বাড়তি আয় হচ্ছে। সারা বছরের খরচ বাদেও কিছু টাকা বাড়তি থাকে। ভদ্রঘাট এলাকার কৃষক আবু মুছা জানান, তার নিজস্ব প্রায় এক বিঘা জমি রয়েছে। তাতে ধানের আবাদ শুধু ধান বা পাট চাষ করে ছেলে-মেয়েসহ চার/পাঁচজনের সংসার চলতো না। কিন্তু সবজি চাষ শুরুর পর থেকে তাদের সংসার শুধু ভালোভাবেই চলছে না ছেলে-মেয়েদের পড়ালেখার পরও ২০ ডেসিমাল জমি ক্রয় করেছেন। জগতগাতী গ্রামের কোরবান আলী জানান, এক সময় তিনি মানুষের বাড়ি কামলা খাটতেন। সেখান থেকে এসে এক বিঘা জমি লিজ নিয়ে সবজি চাষ করে বেশ লাভবান হন। পরবর্তীতে আরও জমি লিজ নিয়ে চাষ করে এবং লাভবান হয়ে বর্তমানে নিজেই দুই বিঘা জমি কিনে চাষ শুরু করেছেন। খোকশাবাড়ি এলাকার কৃষক সাইফুল ইসলাম জানান, এ বছর তিনি এক বিঘা জমিতে আগাম জাতের ফুলকপি ও বাঁধাকপি চাষ করে প্রায় এক লাখ টাকা বিক্রি করেছেন। আর এতে তার খরচ হয়েছে প্রায় ৩৫ হাজার টাকার মত। সিরাজগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সদর উপজেলা কৃষি অফিসার মো. রোস্তম আলী বলেন, এ বছর আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে জেলায় সবজি চাষ লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তাড়াশ উপজেলা কৃষি অফিসার সাইফুল ইসলাম বলেন এবছর তাড়াশে ৭২০ হেক্টর জমিতে সাক সবজি চাষের লক্ষ মাত্রা নির্ধারন করা হয়েছে। সবজির ভালো দাম পাওয়ায় কৃষকরা বিগত বছরগুলোর তুলনায় এবার তারা আরো বেশি সবজি চাষ করবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, পর পর দুইবার বন্যা ও বৃষ্টির কারণে জেলার তাড়াশে কৃষকরা এবার বেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আর এই ক্ষতি পুষিয়ে নিতে কৃষকরা সবজি চাষে মাঠে নেমেছে। ইতোমধ্যেই কৃষকদের মাঝে বিভিন্ন ধরনের শাক-সবজির বীজ ও সার বিনামূল্যে বিতরণ করা হয়েছে । যা কৃষকদের মাঝে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ