ঢাকা, বৃহস্পতিবার 4 January 2018, ২১ পৌষ ১৪২৪, ১৬ রবিউস সানি ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

সুস্থ থাকতে ঘুমের প্রয়োজন

ঘুম সবার জন্য চাই চাই। ঘুমের সব কিছু বিষয়, কেমন করে ঘুম হয় সব তো জেনে উঠতে পারেননি এখনও বিজ্ঞানীরা, তবু জেনেছেন বটে বিজ্ঞানীরা। এই দৈনন্দিন কর্মের অনেকটাই জানতে পারা গেলো। প্রতিটি স্তন্যপায়ী প্রাণী, পাখি এবং বেশির ভাগ সর্প জাতীয় প্রাণী, উভচর ও মাছ সবার প্রয়োজন ঘুম।
ঘুমের সময় কি হয় এর কিছুটা জানি
মগজ তো রিচার্জ হয়। দেহকোষ-গুলোর মেরামতি হয়ে যায়। শরীর থেকে উৎসারিত হয় গুরুত্বপূর্ণ সব হরমোন।
ষবয়স ভেদে ঘুমের চাহিদা হয় ভিন্ন ভিন্ন। শিশুদের জন্য ১৬ ঘণ্টা। ৩-১২ বছরের ছোটদের জন্য ১০ ঘণ্টা।
১৩-১৮ বছরের কিশোর কিশোরীদের জন্য ১৩ ঘন্টা। ১৯-৫৫ বছে রর লোকদের জন্য ৮ ঘণ্টা। ৬৫ ঊর্র্ধ্ব মানুষের জন্য ৬ ঘণ্টা।
ষঘুম বৈকল্য আছে নানা রকম। প্যারাসমিনয়া এমন এক বৈকল্য যখন না ঘুমিয়েও অনেকে করেন অস্বাভাবিক নড়ন চড়ন। এসময় অপরাধও সংঘঠিত হয় যেমন ঘুমের মধ্যে গাড়ি চালনা, খুন, ধর্ষণ, শিশুর উপর অত্যাচার।
ষস্বপ্ন দেখা স্বাভাবিক ব্যাপার। যারা সাধারণত: স্বপ্ন দেখেন না এদের ব্যক্তিত্বে বৈকল্য থাকে।
ষযে অবস্থানে শুয়ে কেউ ঘুমায় তা তাঁর ব্যক্তিত্ব নির্ণয় করে। বেশিরভাগ মানুষ ঘুমায় কুন্ডলি পাকিয়ে। (৪১%) এরা মনে হয় কর্কশ কিন্তু বস্তুত: এরা উষ্ণহৃদয় ও খোলামনের।
শক্ত কাঠের মত শুয়ে ঘুমায় যারা এরা সামাজিভাবে প্রজাপতির মত চরিত্র। (১৫%) বেঁকে শুয়ে ঘুমায় যারা (১৩%) মনে হয় এরা খোলা মনের, কিন্তু সন্দেহজনক। সৈন্যদের ভঙ্গীতে শোয়া (৮%) এরা সংরক্ষণশীল মনের। ঝরনার মত শোয়া (৭%) এরা পার্টিতে বেশ হুল্লোড়বাজ। যারা মাছের ভঙ্গিতে ঘুম (৫%) এরা খুব ভালোশ্রোতা।
বিবাহিত দম্পত্তির চার জনের মধ্যে একজন ঘুমান ভিন্ন খাটে।
ব্রিটিশ সৈন্যরা প্রথম উদ্ভাবন করে একটানা ৩৬ ঘন্টা নির্ঘুম কাটানোর উপায়।
সবচেয়ে কম সময় ঘুমায় যেসব স্তন্যপায়ী প্রাণী, যেমন- জিরাফ:দিনে ১.৫ ঘন্টা (৫-১০ মিনিটের সমান), রোয়ে হরিণ: দিনে ৩.০৯ ঘন্টা, এশিয়াটিক হাতী: দিনে ৩.১ ঘণ্টা।
সবচেয়ে দীর্ঘসময় ঘুমায় যেসব স্তন্যপায়ী প্রাণী, যেমন- কোয়েল: দিনে ২২ ঘণ্টা, বাদামী বাদুড়: ১৯.৯ ঘণ্টা, প্যাংগোলিন: ১৮ ঘণ্টা।
ডলফিনরা যখন ঘুমায়, তখন তাদের মগজের মাত্র অর্ধেক ঘুমায়। অন্য অংশ জেগে থাকে এবং চালায় শ্বাসক্রিয়ার চক্র।
খাদ্যে বঞ্চিত হয়ে মরার আগে ঘুমের বঞ্চিত হয়ে মৃত্যু হয়। ২ সপ্তাহ অনশনে মৃত্যু হতে পারে কিন্তু ১০ দিন নির্ঘম থাকলে মৃত্যু আসে পায়ে পায়ে।
অন্ধলোকও স্বপ্নে দেখে নানা প্রতিছবি। যারা জন্মান্ধ এরাও স্বপ্ন দেখে; আবেগ অনুভূতি, শব্দ, গন্ধ, স্পর্শ জনিত স্বপ্ন দেখে। জেগে ওঠার পাঁচ মিনিটের মধ্যে স্বপ্নের ৫০% আমরা ভূলে যাই। ১০ মিনিটের মধ্যে ৯০% স্বপ্ন মিলিয়ে যায় মন থেকে। ৫০ জন টিনএজারদের মধ্যে ১ জন বড়  হবার পরও শয্যায় ঘুমের সময় মূত্রত্যাগ করে।
-অধ্যাপক ডা: শুভাগত চৌধুরী
পরিচালক, ল্যাবরেটরি সার্ভিসেস বারডেম, ঢাকা

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ