ঢাকা, বৃহস্পতিবার 4 January 2018, ২১ পৌষ ১৪২৪, ১৬ রবিউস সানি ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

বারবার রোগী লাশ হলেও স্বাস্থ্য বিভাগ নির্বিকার

চুয়াডাঙ্গা সংবাদদাতা : চুয়াডাঙ্গার দর্শনার আলোচিত মডার্ণ ক্লিনিকে আবারো আয়া দ্বারা সন্তান প্রসব করাতে গিয়ে মৃত্যু হলো আরো এক নবজাতকের। আর আগের মতই দায় এড়িয়ে গেলেন ক্লিনিকের চিকিৎসকরা। নবজাতকের অস্বাভাবিক মৃত্যুতে পাগল প্রায় বাবা-মা ও স্বজনেরা। 

জানাগেছে-দর্শনা পুরাতন বাজারপাড়ার বিশিষ্ট চালব্যবসায়ী আলাউদ্দিনের স্ত্রী আয়নুর নাহারের প্রসব ব্যাথা উঠলে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় নেয়া হয় দর্শনা মর্ডান ক্লিনিকে। ক্লিনিক মালিকের স্ত্রী গাইনি চিকিৎসক হোসনেজারী তহমিনা আখি না থাকলেও স্বামী ডাঃ তারিকুল ইসলাম পরামর্শপত্র দেন রোগির পরিবারের হাতে। আয়নুরের আল্ট্রাসনোগ্রাফি করেন ডাঃ তারিকুল। রোগির পরিবারের সদস্যদের জানানো হয় পেটে সন্তান সুস্থ ও স্বাভাবিক অবস্থায় রয়েছে, তবে কিছুটা পানির স্বল্পতা দেখা দিয়েছে। সেক্ষেত্রে কোন প্রকার অস্ত্রপচারের প্রয়োজন নেই। পরে সন্ধ্যা সোয়া ৭টার দিকে আয়নুরকে অপরেশন থিয়েটারে নেয়া হয়। এ দিকে ডাঃ আখি ক্লিনিকে না থাকায় ডাঃ তারিকুল আয়াদের স্বাভাবিকভাবে ডেলিভারী করানোর নির্দেশ দিয়ে ৪র্থতলায় নিজ শয়ন কক্ষে চলে যান। আয়নুরের স্বামী আলাউদ্দিনও তার পরিবারের সদস্যরা অভিযোগ করে বলেছেন, অপরেশন থিয়েটারে ২/৩ জন আনাড়ী আয়াকে নিয়ে স্বাভাবিক ডেলিভারী চেষ্টা চলে দীর্ঘ সময় ধরে। আনাড়ীদের টানা হেচড়ার কারণেই এক পর্যায়ে মারা যায় নবজাতক কন্যা শিশু। দীর্ঘ সময় পর অপরেশন থিয়েটার থেকে বের হয়ে নবজাতকের লাশ। প্রচন্ড টানা হেচড়ার কারনে মারাতœকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়ে প্রসুতি আয়নুর। রাত ১২ টা পর্যন্ত আয়নুর সজ্ঞাহীন অবস্থায় ছিল।  প্রত্যক্ষদর্শিরা বলেছে, অপারেশন থিয়েটারে নেয়ার আগ মূহুর্ত পর্যন্ত আয়নুর স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করেছে। আল্ট্রাসনোগ্রাফিতে দেখা গেছে পূর্ণ সুস্থ ও স্বাভাবিক রয়েছে নবজাতক। কিন্তু আধঘন্টার ব্যবধানে লাশ হলো আয়নুরের ফুটফুটে নবজাতক কন্যা সন্তান। 

এ ঘটনায় ডাঃ তারিকুল আলম বলেন “এভাবেই নবজাতকের মৃত্যু ছিলো তাই হয়েছে। আল্লার মাল আল্লাহ নেবে তাতে বান্দার কি করার আছে। দুনিয়াতে যতটুকু তার হায়াত ছিলো ততটুকুই সে জীবন পেয়েছে”। ডাঃ তারিকুল ইসলামের এ ধরণের মন্তব্যে বিরুপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। ইতিপূর্বেও অলোচিত এই ক্লিনিকে অপচিকিৎসায় অনেক লাশ বের হলেও ক্লিনিক মালিকের স্ত্রী চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের ডাক্তার হবার কারনে দায়সারা তদন্ত করে স্বাস্থ্য বিভাগ শেষ করেছে। প্রশ্ন উঠেছে আর কত লাশ বের হলে স্বাস্থ্য বিভাগের ঘুম ভাঙবে?

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ