ঢাকা, শুক্রবার 5 January 2018, ২২ পৌষ ১৪২৪, ১৭ রবিউস সানি ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

গাড়োয়ালি সাহিত্য

আখতার হামিদ খান : মধ্য-হিমালয়ের কোলে আজ যেখানে পাহাড়ী মানুষেরা বাস করেন, সেখানে আগে ছিল মুনি-ঋষিদের বাস। আজকের কুমায়ুন ও গাড়োয়ালের আলাদা আলাদা নাম ছিল ইতিহাসের বিভিন্ন অধ্যায়ে। ‘গড়’ থেকে ‘গাড়োয়াল’ শব্দটি এসেছে, ‘গড়’ শব্দের অর্থ ‘দুর্গ’। শত্রুদের আক্রমণ থেকে আত্মরক্ষার জন্যে আগেকার রাজারা গড় তৈরি করতেন। এই ধরনের বাহান্নটি দুর্গ বা গড় নিয়ে গাড়োয়াল অঞ্চলের সৃষ্টি। প্রতিটি গড়ে ছিল একজন ‘বাড়’ বা ‘বাধ’, অর্থাৎ যোদ্ধা। এটি পাহাড়ী মানুষের অন্তর্নিহিত বীরত্বের সূচক।

এই অঞ্চলে জনবসতির প্রারম্ভ থেকেই গাড়োয়ালি সাহিত্যের সূচনা। প্রাচীন বেদযন্ত্র ধ্বনিত হবার পরবর্তীকালে পাহাড়-উপত্যকা প্রতিধ্বনিত হয়েছে স্থানীয় বীরগাথায়, ক্রমে তা পরিণতি নিয়েছে লোককথা-সংগীতে।

লোকসংগীতকে জনপ্রিয় করেছে সমাজের নি¤œবর্গীয় বেদে-বেদেনীরা, গ্রাম-গ্রামান্তরে নৃত্য-সংগীত সহযোগে পরিবেশন করে। এখনও এই পরস্পরা প্রচলিত, বিনিময়ে গ্রামবাসীরা তাদের দেয় অন্নবস্ত্র। লোকসংগীতের উপজীব্য যেমন বীর-গাথা তেমনি ধর্মীয় ও সামাজিক বিষয়বস্তুও। তাদের গানের মধ্য দিয়ে গ্রামবাসীরা জানতে পারে অতীতের রাজা, রানী, সম্ভ্রান্ত সামন্ত ব্যক্তিত্ব এবং অন্যান্য বিষয় সম্বন্ধে। এই ভাবে নিজেদের দেশ সম্বন্ধে তাদের জ্ঞান বৃদ্ধি পায়।

গাড়োয়ালি মেয়েদের বিবাহিত জীবনের সুখ-দুঃখ বিষয়বস্তু হয়েছে লোকসংগীতের। মধ্য হিমালয়ের গ্রামগুলি পরস্পর বিচ্ছিন্ন ও বহুবিস্তৃত উপত্যকা ও বন্ধুর পার্বত্য প্রদেশের দূরত্বে। অনেক ক্ষেত্রে একটি গ্রাম থেকে অন্য গ্রামে যেতে পুরো দিন লেগে যায়। উঁচু-নিচু চিহ্নহীন পথে পায়ে হেঁটে সেই দূরত্ব অতিক্রম করতে হয়। দূরে বিয়ে দেওয়া হলে অনেক পাহাড় পার হয়ে নতুন বধূ যখন শ^শুর বাড়িতে আসে, তার মনে পড়ে বাপের বাড়ির কথা-মা-বাবা, ভাই-বোন, আত্মীয়-স্বজন, পুরনো পরিচিত পরিবেশ। সেই বিচ্ছেদের বেদনা বাঙ্গময় হয়েছে গাড়োয়ালের ‘বিরহ গীতে।’ বিরহী বধূ পাখিকে উদ্দেশ্য করে গান গেয়ে তার বেদনার কথা জানিয়ে তাকে অনুরোধ করে প্রিয়জনদের খবর নিয়ে আসবার জন্যে। স্বতোৎসারিত এই গানগুলি তারা গায় খেতে কাজ করার সময়ে। কালক্রমে সেগুলি জায়গা করে নেয়া গাড়োয়ালি লোকসংগীতে।

আরেকটি বিষয়-শাশুড়ি-পুত্রবধু কলহ গাড়োয়ালি জীবনে পরিচিত দৃশ্য। শাশুড়ির অভিযোগ-পুত্রবধূ গৃহস্থালীর কাজকর্ম না করার অছিলা খোঁজে, সে অলস, দেরি করে ঘুম থেকে ওঠে, জঙ্গলে কাঠ কুড়োতে বা মাঠে ঘাস কাটতে গিয়ে ঘরে ফিরতে দেরি করে; এমন কি, মায়ের কাছে গেলেও অযথা বিলম্ব। লোকসংগীতে এসব কিছুই বিষয়বস্তু। যেমন, শাশুড়ি বলছে-

তোর ভইস কোথায়?..

বধূ উত্তর দেয়-

খালি পেটে তুমি খাটিয়ে মারছ,

কখনও ঘাস কাটাচ্ছ, জ¦ালানি আনতে

পাঠাচ্ছ জঙ্গলে

নিষ্ঠুর শাশুড়ি

আমাকে যন্ত্রণা দেয়, কাঁদায়...

মধ্য হিমালয়ের যুবা-পুরুষদের অনেকেই আসে সমতলে কাজের খোঁজে ঘরে তরুণী বধূ, শিশু-সন্তান, মা-বাবাকে পিছনে ফেলে রেখে। অন্য পক্ষে মেয়েরা স্বামী, পুত্র বা ভাইয়ের কথা ভেবে দুঃখবোধ করে। গাড়োয়ালিতে এই বিরহ-বেদনা বোধকে বলা হয় ‘খুদ’। বিরহ-কাতর বেদনা প্রকাশিত হয় গানের মাধ্যমে। জঙ্গলে, মাঠে কাজ করতে করতে তারা গান গায়- দূর দেশের প্রিয়জনের কথা মনে করে। আশা করে সে ভাল আছে। এই ধরনের গানকে বলে ‘বাজুবন্দ্’।

তবে বাজুবন্দ সব সমযে বিষাদময সংগীত নয়। অন্যেরাও এই গানে অংশ নেয়। ফলে বাজুবন্দ অনেক সময়ে প্রেমপতে রূপায়িত। এই গান গাওয়া  হয়, কিন্তু এর মধ্যে প্রচ্ছন্ন থাকতে পারে ভালবাসার ‘কোড ল্যাঙ্গুয়েজ’, শুধু সংশ্লিষ্ট প্রেমিক-প্রেমিকারাই তার অভীষ্ট  অর্থ খুঁজে নেয়। বাজুবন্দের মধ্যে পারস্পরিক কলহ, বিপক্ষের গ্রাম, ভাষা, সংস্কৃতি, আচার-ব্যবহার ব্যঙ্গের বিষয় হতে পারে গানের মাধ্যমে। কিন্তু সবই সীমিত থাকে মৌখিক প্রকাশে। কিন্তু সবই সীমিত থাকে মৌখিক প্রকাশে। বাজুবন্দের প্রধান উদ্দেশ্য কিছু কৌতুক-মজা পরিবেশন, বিপজ্জনক পাহাড়ী প্রদেশ্ েসারা দিন কাজ করর সন্ধ্যায় খানিকটা সংগীত প্রমোদ।

হিমালয়ের সঙ্গে অঙ্গাঙ্গীভাবে জড়িত প্রকৃতি ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্য। প্রতিটি ঋতুতে পাহাড় ও পাহাড়ী মানুষের জীবনে নতুন দৃশ্যপটের আবির্ভাব ঘটে। কৃষি তাদের প্রধান উপজীবিকা বলে আষাঢ়-শ্রাবণ মাস তাদের ব্যস্ত জীবনে খুবই দুর্যোগপূর্ণ। ক্ষেতে লাঙল চালিয়ে, আগাছা উপড়ে, বীজ ছড়িয়ে নাা ধরনের কাজ করতে হয়। ভাদ্র মাসে তারা খানিকটা বিশ্রাম পায় যখন বর্ষা স্তিমিত হয়ে আসে। তখন চমৎকার পরিবেশে কোন কোন দিন তরুণ-তরুণী-মহিলারা পঞ্চায়েত চৌকে জড় হয়ে ‘থাডিলা’- সমবেত নৃত্যে অংশগ্রহণ করে। মহিলা ও পুরুষেরা দু’টি আলাদা সারিতে দাঁড়ায়, কাঁধ বা কনুইতে লাগিয়ে তারা ড্রামের সঙ্গে গান গায়, নাচে। এই গানের মধ্যে থাকে প্রশ্ন ও তার উত্তর- সামাজিক ঘটনা, নেতা-গণ্যমান্য ব্যক্তি, দেব-দেবী ইত্যাদি বিষয়ে। এই গানের আসর থেকে কেউ কেউ চুপি চুপি টলে গিয়ে বিরুদ্ধপক্ষীয় ব্যক্তিদের কে।ক্ষেত করে। বিষয়টি তরুণদের মজা করার একটি  উপায়, এটাকে কেউ অপরাধ বলে মনে করে না।

সময় বদলের সঙ্গে সঙ্গে মানুষের প্রয়োজনের পরিবর্তন ঘটে। ‘টাক্কা’ নামে ‘দুহিতার অর্থ ভক্ষণ করা’র একটি প্রথা আছে। এই প্রথার পাত্রকে প্রচুর অর্থ দিতে হয় কনের পিতাকে। ফলে সমতলের কোন শহরে গিয়ে পাত্রটি চেষ্টা করে অর্থোপার্জনের। বিবাহের সময়ে সাহুকারের কাছ থেকে যে টাকা ঋণ নেওয়া হয়েছিল সেই টাকা  কামাবার জন্যে নববিবাহিতা বধূকে ছেড়ে এসেছে পাহাড়ী যুবক, বিরহ গীতে তাই দায়িতার কাছে সংবাদ পাঠাবার জন্যে চন্দ্রমা, পাখি, মেঘকে বানায় দূত।

কালিদাসের ‘মেঘদূত’ কাব্যেও তো তাই করা হয়েছিল।

মহাকবি কালিদাসের জন্মস্থান নিয়ে বহু বিতর্ক। অনেক প-িত ব্যক্তি গাড়োয়ালের রদ্রপ্রয়াগ জেলার কালিমাটা জায়গাটিকে কালিদাসের জন্মস্থান বলে মত প্রকাশ করেছেন, মধ্যপ্রদেশের উজ্জয়িনীকে নয়। তাদের মত গাড়োয়ালি লোকসংগীতে মেঘ, নদী ও পাখিকে দূত বলে কল্পনা একটি প্রাচীন রীতি। অনেক কবিই এটি করেছেন। অলকানন্দা নদী, অলকাপুরী, সুমেরু পর্বত এবং অন্যান্য আনুষঙ্গিক বিষয়গুলির এমন সদৃশ বর্ণনা ‘মেঘদূত’-এ রয়েছে যে কালিদাসকে গাড়োয়ালি- হিমালয়ের  অধিবাসী বলে মনে হয়।

প্রধান ¯্রােত হিন্দি সাহিত্যের একটি শাখা বলে গাড়োয়ালি সাহিত্যকে গ্রহণ করার মতাবদটি বিতর্কমূলক। গঠন ও মানের দিক দিয়ে, বর্তমানের বিকশিত গাড়োয়ালি সাহিত্য হিন্দি থেকে স্বতন্ত্র। গাড়োয়ালি সাহিত্যের রয়েছে নিজস্ব প্রাণপ্রাচুর্যপূর্ণ স্বকীয়তা- তার সমৃদ্ধ অনুপম ভৌগোলিকতা, ভাষা-সংস্কৃতিসহ।

গাড়োয়ালি পার্বতী-প্রকৃতির প্রধান বৈশিষ্ট্য শান্তি-¯িœগ্ধ-শান্ততা। অধিবাসীরা শান্তিপ্রিয়, তাই এদের কাব্যপ্রধান সাহিত্যে নেই বিপ্লবের অশান্ত বাণী। হিন্দি বা অন্য ভাষার সাহিত্যে যে সংঘাত-সংঘর্ষ, দ্ব্যর্থক ভার হিংসাদ্বিষের প্রকাশ দেখা যায় গাড়োয়ালি সাহিত্যে তা অনুপস্থিত। গাড়োয়ালি কবিতায় প্রধানত প্রকৃতি, বিরহের বেদনা, সেই সঙ্গে ভক্তি সংগীত যা ধর্মীয় অনুষ্ঠানে গীত।

সত্তর দশকের পরে সমাজে নব সচেতনা সঞ্চরণে কবিতায় তার ছায়া পড়তে শুরু করেছে। প্রকৃতি, অরণ্য, জলসম্পদ সংরক্ষণ হয়েছে তাদের জীবনের অঙ্গ, সোচ্চার চিপকো আন্দোলন। এই আন্দোলনের উপরে কবিতা লিখেছেন ঘনশ্যাম রাতুরি ‘শৈলানি’। তিনি কাব্য রচনা করেছেণ, পশুবলি, পণপ্রথা, মদ্যাসক্তি, অরণ্য বিনাশের মত সামাজিক কুঅভ্যাসের বিরুদ্ধে। তার সঙ্গে যোগ দিয়েছেন তার সহযাত্রী সহমর্মী গুণানন্দ পথিক, গিবানন্দ সিরিয়্যাল, মোহনলাল শ্রীমা, ড. মহাবীর প্রসাদ, ড. শিবপ্রসাদ ভাররল প্রমুখ। কুপ্রথার উপরে লেখা ছাড়াও তারা সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়েছেন সমাজ-সংস্কার আন্দোলনে।

গাড়োয়ালের পর্বত-উপত্যকা-বন্ধুর ভূমি কাব্য সুরভিত হলেও অনেকেই লিখিত সাহিত্যে মনোনিবেশ করেননি। উপরোক্ত কবিদের রচনা অবশ্য অনেক স্থানে লিখিত অবস্থায় পাওয়া যায়। গাড়োয়ালি গান  অডিয়ো ক্যাসেটে সহজলভ্য, বিশেষ করে ড. নরেন্দ্র সিং নেগির রচনা তাকে সমুন্নতি দিয়েছে। তার গানে রয়েছে সাধারণ মানুষ, পরিবেশ, প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, হিমালয়ের মহিমা, টেহরি বাঁধের কথা।  অনেক মানুষের মনে জায়গা করে নিয়েছেন তিনি।

অপ্রতিরোধ্য হিন্দি ফিল্মের প্রভাব কী করে এড়াবে গাড়োয়ালি গানের জগত? গাড়োয়ালি সংগীত প্রধানত গ্রাম-জীবনভিত্তিক। হিন্দি ফিল্ম সংগীতের সর্বব্যাপী প্রভাব দূর গ্রাম-গঞ্জেও। তাহলেও আশা করা যায় গাড়োয়ালি গান ও লোককথা তার বৈশিষ্ট্য অক্ষুণœ রাখবে বহির্জগতের প্রভাব সত্ত্বেও।

অবশ্য এ-কথা অনস্বীকার্য যে গাড়োয়ালি গদ্য অবহেলিত এবং প্রগতির পথপরিক্রমায় অনগ্রসর। সমতল প্রদেশে কার্মব্যাপদেশে যে সব গাড়োয়ালবাসী বাড়িতে গাড়োয়াল ভাষার চিঠি হিন্দি লিপিতে লিখতেন, সত্তর দশকের পরে তারা এমন পুরোপুরি হিন্দিতেই (ভাষা ও লিপি) লেখেন।

উল্লেখ্য যে, আশির দশকের পরে গাড়োয়ালি ভাষায় ফিল্ম বানানো হয়েছে এবং ‘ঘর জয়াইন’ প্রথম হিট ফিল্ম তারপর ‘কউথিং’ ও সফল হয়নি। ‘প্যারো রুমাল’ নামের ফিল্মটিতে নায়িকাকে মদ্যপানরত দেখানো হয়েছিল- যা দর্শকেরা একদম পছন্দ করেননি। বিশেষ করে গাড়োয়ালি মহিলারা তো মদ্যপানের বিরুদ্ধেই আন্দোলন করেন। ফিল্মটির বিরুদ্ধে ব্যাপক প্রতিবাদ বিক্ষোভ দেখাবার ফলে প্রযোজকরা ছবিটি প্রত্যাহার করতে বাধ্য হন।

পূর্বেই বলা হয়েছে গাড়োয়ালি সাহিত্য প্রধানত গ্রামীণ। এই ভাষায় সাহিত্য রচনা করতে হলে লেখককে গ্রাম্য-জীবনের সঙ্গে অঙ্গাঙ্গী হয়ে তাদের সুখ-দুঃখ, আশা-আকাক্সক্ষা- প্রাত্যহিক জীবনের ক্রিয়াকা-ের সঙ্গী, ঘনিষ্ঠ সংযোগ স্থাপন করতে হবে। গাড়োয়ালি গদ্য সাহিত্যের প্রাঙ্গণে যারা পদক্ষেপ করবেন- এই অতি আবশ্যক প্রয়োজনীয় শর্তটি তাদের মনে রাখতে হবে।

এবারে ঘনশ্যাম রাতুরি ‘শৈলানি’র দু’টি গাড়োয়ালি কবিতা। অনুবদা বর্তমান আলোচকের। ঘনশ্যাম রাতুরি ‘শৈলানি’র (১৯৩৪-১৯৯৭) জন্ম গাড়োয়ালের কেমার অঞ্চলের চারিঘাড’-এ। চিপকো আন্দোলনের তিনি সর্বশ্রেষ্ঠ কবি। ‘চিপকো’ শব্দটি তিনিই সংগ্রহ করেছিলেন যার অর্থ গাছকে নিবিড়ভাবে আলিঙ্গন। ব্যাংককে ওয়ার্ল্ড এনভাইরনমেন্ট শীর্ষ সম্মেলনে ১৯৮৮ সালের জুন মাসে তিনি ভারতবর্ষের প্রতিনিধিত্ব করেছিলেন। তার একটি কবিতা সংকলন ‘গঙ্গা বা মইঠ বিট্রি’ প্রকাশিত। আকাশবাণীর নাজিবাবাদ কেন্দ্র থেকে কণ্ঠসংগীত পরিবেশন করতেন ঘনশ্যাম।

দূরদেশ থেকে চিঠি লেখে স্বামী

প্রেমাকে আমি একটি চিঠি লিখি: এই শীতে আমি বাড়ি আসব, কিন্তু দুর্ভাগ্য আমাকে দিল্লি থেকে ঠেলে দিতে পারে বোম্বাইতে, কে জানে-

ভাল কাজ না পেয়ে আমি চিন্তিত,

কী খাচ্ছ তোমরা আর পরছই বা কী?

চিন্তা করি আমি রাত দিন: কী করে, শোধ করব সাহুকারের ঋণ একটি চিঠি লিখি আমি প্রেমাকে: এই শীতে আমি বাড়ি আসব।

যখন মনে করি তোমার দুঃখের  কথা

আমাকে ছেড়ে মন উড়ে যায় তোমার কাছে,

যদি পড়ে যাও পাহাড়ের নিচে ঘাস কাটবার বা জ¦ালানি কাঠ জড়

করার সময়ে, আমিও যাব মরে-

প্রেমার কাছে একটি চিঠি লিখি আমি: এই শীতে আমি বাড়ি আসব।

স্বামীর সঙ্গে থাকে কিছু সৌভাগ্যবতী মেয়েরা

মন খারাপ হয় তোমার তাদের দেখে

যত গভীরই হোক তোমার দুঃখ, কখনও ভেব না তোমাকে যার ছেড়ে আমি চিঠি লিখি একটি প্রেমার কাছে: এই শীতে আমি বাড়ি আসব। 

বন্ধ করে চোখ দেখ আমাকে অন্তরে

তোমাকে বলব মিষ্টি কথা এবং ফিরে আসব এখানে পরিশ্রম করার জন্য

আমিই চোখের জল তোমায় গড়িয়ে পড়ি গাল বেয়ে,

চিঠি লিখি আমি প্রেমার কাছে: এই শীতে আমি ফিরে আসব বাড়ি।

আসব আমি পাহাড়ী মৌমাছির মত 

পাহাড়ী ঢালুতে কুজু ফুলের উপরে লতার মত,

বানাব মালা কুজু ফুল দিয়ে, পরাব তোমার গলায়,

প্রেমার কাছে লিখি একটি চিঠি: ফিরে আসব এই শীতে।

দেবী পার্বতীর এই বাসভূমিতে

মেয়েরা সুন্দরী আর চপলা

হিমালয়ের বোনদের এই তো ভাগ্য। আছে কি কেউ মোছাতে তোমাদের অশ্রু ?

একটি চিঠি লিখি আমি প্রেমার কাছে: বাড়ি আসব আমি এই শীতে।

আমার মন

[দীর্ঘ প্রবাসের পরে স্বামী বাড়ি এসেছিল, আবার চলে গেছে কর্মস্থলে। পাহাড়ী মেয়েটি তার মনোবেদনা জানাচ্ছে তার পিতাকে।]

জ¦ালিয়ে আগুন আমার মনে চলে গেল হেমন্ত।

এসেছিল শিশির, কুয়াশা উঠছে

পাহাড়ের ধার সবই সুন্দর।

 

বয়ে যায় গরম হাওয়া সারা দিন ধরে।

হাঁপাই আমি, তুলি হাই, আমার খিদে পায়, ক্লান্ত।

শাশুড়ি বলে আমাকে- বাছা,

বাড়ি ফিরে এসেছে বাবা খালি হাতে।

 

ফেটেছে আমার পা, শুকনো আমার ঠোঁট।

এই প্রাণহীন জঙ্গলে

বাবা, হয়ে গেছি আমি অতিষ্ঠ

শুধু খেয়ে খেয়ে শাশুড়ির গালি-গালাজ।

জ¦ালিয়ে আগুন আমার মনে চলে গেল হেমন্ত।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ