ঢাকা, শুক্রবার 5 January 2018, ২২ পৌষ ১৪২৪, ১৭ রবিউস সানি ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

কবিতা

স্বভাব

নয়ন আহমেদ

 

কিছুক্ষণ আগে একটা পেঁপের স্বভাবে নিজেকে গেঁথেছি।

কষের ভেতর এমন সম্পর্ক থাকে শুয়ে ! 

দেখেছি একটা লালশাকের ভেতর নিজেকে বপন করে;

কী অনবদ্য শাকজীবন !

তার নরম ঢেউ আছে;

প্র্রেমে বাসযোগ্য বস্তি আছে।

বাতাসে বর্ধমান দোলালাগা আনন্দ আছে।

 

একটা পেঁপের স্বভাবজাত ধ্রুব কষে 

একটা শাকজীবনের আস্তিক কলোনিতে

আমি মানুষকে প্রবেশের সুসমাচার দিচ্ছি।

 

আছো কি কেউ শ্রবণকারী?

আছো কি কেউ উপদেশ গ্রহণকারী?

 

আহা, ঈর্ষাপরায়ণ মানুষেরা !

আহা, অহঙ্কারী মানুষেরা !

কিছুটা তো শান্তি শিখে নিতে পারো। 

 

 

বৈষম্যবাদী

জাফর পাঠান

 

বড্ড আরামেই আছিস তুই, নিশি-দিন-প্রভাত

ইচ্ছামতো রাতকে করে দিন- দিনকে করে রাত,

মনুষ্যত্ব বিনাশী মতাদর্শকে- বলিস আদর্শ

ঘৃণ্য বন্যতাকে করে ধারণ- মনে তুলিস হর্ষ।

 

কেউ গ্রহণ করুক-না করুক, তোর যত কথা

তুই ভাবিস- তুই নির্ভুল, ভাবনা নয় অযথা,

চারদিকে যা দেখিস, ভাবিস সবকিছু আমার

আমার থেকে শ্রেষ্টতম কে আছে এই জমানার।

 

দলে দলে- জনে জনে, করিস শত সহস্ত্রভাগ

ক্ষমতার জোরে দেখাস তুই- আকাশচুম্বি রাগ,

মানুষ ভাবিসনা, মতের সাথে না মিললে মত

তাইতো তোর আগ্রহ নাই- মানুষের সহবত।

 

চরাচরের চরে চরে- বাড়াচ্ছিস নিজের ভক্ত

বৈষম্যের বীজ বুনে বুনে- হাত করছিস শক্ত,

প্রীতি সম্প্রীতি- সকলকিছু পাঠাচ্ছিস রসাতল

মিথ্যা যেন মিথ্যাই নয়, বলে যাচ্ছিস অনর্গল।

 

কোন্ বিশেষণে বিশেষায়িত করবো নিরবধি

তুইতো বৈষম্যবাদী, অশান্তির নষ্ট প্রতিনিধি।

 

 

পুনর্পাঠ : রাখাইন টু কুতুপালং

সায়মন স্বপন

 

        

পড়ন্ত জীবনের কাছে মানুষ কোনো একদিন শরণার্থী হয়ে পড়েÑ চ্যাপ্টাপেটের আর্তনাদে। তেল-চিটচিটে ঘুম ভেঙে হয়তো-বা স্বপ্নের কথা কেউ কেউ মনে রাখতে পারে। অথচ, ঘুমচোখে স্বপ্ন দেখার কোনো পৈতৃক অধিকার ছিল না। কেবল, পাথরের মার্বেল গুনে গুনে জল জমেছে জলপুকুরে। 

 

রাত পোহাবার আগেই বসতির খুঁটি ছেড়ে ছুটতে হলো সামরিক-ছাড়পত্রে। সিঁথানে রেখে আসা দুমুঠো স্বপ্ন হারিয়ে কেউ কেউ অপেক্ষায় ছিল নাফ নদীর কিনারায়। কারো জানা ছিল না, জলন্ত উনুন ফেলে ছুটতে হবে অজানা গন্তব্যে। কারো জানা ছিল না, আদরের বৌ কিংবা কিশোরীকে ছিঁড়ে খাবে চোখের সামনেই। সোহাগী স্বামীর মরদেহ নিয়ে কাঁদতে হবে অকালেÑ  কারো ছিল না জানা। 

 

ভেসে যাওয়া স্বজনের স্মৃতি নিয়ে গোপন ব্যথায় কাতর কতশত স্বজন, তার পরিসংখ্যান নেই কোনো দপ্তরে। কেবল, কান্নামাখা মুখগুলোর ছবি ঝুলে আছে নাগরিক-যাদুঘরে।  

 

 

ভুলে যাওয়ার তৃতীয় সূত্র

রিয়াজ উদ্দিন

 

সৈকতের দখিণা বাতাসে

চুল এলিয়ে অটবির মতো মাঝরাতে

তোমাকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখি।

কতবার জিজ্ঞেস করতে যেয়ে

নিজেকেই নিজে গুটিয়ে রেখেছি।

কারণ,এভাবে দাঁড়িয়ে থাকা মানে

কষ্টের দাবানলে পুড়ে

হৃদয়ের সৎকারের একটু অপেক্ষা করা মাত্র।

অথচ সেদিন তুমি কত অটল ছিলে,

বলেছিলে, দুঃখ কখনো তোমাকে ঘ্রাস করতে পারবেনা!

আর এখন রোজ রাতে

তোমাকে স্মৃতির বাতিঘরে ঘুরতে দেখি,হাটতে দেখি,খেলতে দেখি।

ভুলে যাওয়া মানে দূরে যাওয়া নয়,

ভুলে যাওয়া মানে স্মৃতির কারাগারে

আরেকটু কাছে আসা

আরেকটু ভালবাসা।

 

 

জীবনের অর্থ খুঁজে খুঁজে

হাসান নাজমুল

 

কারও জীবন নিরন্তর হেঁটে চলে আঁধার রাস্তায়,

অবসাদে থেকে আবারও বিশ্রামহীন পায়ের পাতা,

জীবনের অর্থ খুঁজে খুঁজে ক্লান্ত হয় স্বয়ং জীবন;

হাজারো পৃষ্ঠার কালি মাখা কালো অক্ষর উল্টিয়ে দ্যাখে,

কালান্তর হয় পলকেই,তবুও নিখোঁজ রয়ে যায়-

কারো জীবনের পূর্ণ অর্থ, হায়রে জীবন! শব্দগুলো-

শুধু কষ্ট, কষ্ট আর কষ্ট থেকে যায় চোখের সামনে,

সারাটা সকাল, পুরো সন্ধ্যা, রাতের মিছিল কারো কাছে-

হয়ে যায় কষ্টের খামার, নীল বেদনার কারাগার;

অবশেষে কেউ জেনে যায়- কষ্টের জন্মই তার জন্য। 

 

 

এই চতুর বিকেলে 

নাবিল তুরাব

 

এই চতুর বিকেলে মন হেঁটে যায় সুদূরে;

সুদূরতমা হে, হয়তো তোমারই খোঁজে।

ভাবনারা ঝাড়িত হয় রোজ কলাগাছের ছায়ায়;

তবু ফিরে ফিরে আসা হে, অলৌকিক মায়ায়।

 

গানের গলায় শব্দিত হয় প্রতিটি শ্রাবণমেঘ;

বৈকালিক ঝড়ো হাওয়ায় জাগে কতো উদ্বেগ।

পাষাণশয্যায় তুমি থেকো নাকো আর সুদূরতমা;

চেয়ে দেখো কেমন ঝড় বইছে বাইরে নিকটতমা।

 

ভালোবেসে রচিত হয় গানের কতো পসরা;

সত্যি প্রেম অতি দুর্লভ, মিথ্যে ওসব বাহনা।

পাঠহীন অন্তরায় লুকিয়ে থাকে না বলা কতো গল্প;

ছুঁয়ে না ছুঁয়ে দূর থেকে ভালোবাসা কি অল্প?   

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ