ঢাকা, শনিবার 6 January 2018, ২৩ পৌষ ১৪২৪, ১৮ রবিউস সানি ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

রাখাইনে গণহত্যা ও ধর্ষণসহ বর্বর নির্যাতন চালানো হয়েছে

স্টাফ রিপোর্টার : অর্গানাইজেশন অব ইসলামিক কো-অপারেশনের (ওআইসি) ১৩ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল দুইদিন ধরে কক্সবাজারে উখিয়ার কুতুপালং ও বালুখালী রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করেছেন। পরিদর্শন শেষে গতকাল শুক্রবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে উখিয়ার বালুখালী রোহিঙ্গা ক্যাম্প এলাকায় সাংবাদিকদের ব্রিফিং করেন। এ সময় ওআইসি'র ইন্ডিপেন্ডেন্ট পার্মানেন্ট হিউম্যান রাইটস কমিটি 'আইপিএইচআরসি'র চেয়ারপার্সন ড. রশিদ আল বালুসি সাংবাদিকদের বলেছেন, আমরা দুইদিন ধরে উখিয়ার কুতুপালং ও বালুখালী রোহিঙ্গা ক্যাম্প এলাকা পরিদর্শন করেছি এবং নির্যাতিত রোহিঙ্গাদের সঙ্গে কথা বলেছি। এতে আমরা যতটুকু জেনেছি, মিয়ানমারের রাখাইনে রোহিঙ্গা মুসলিমদের ওপর গণহত্যা ও ধর্ষণসহ বর্বর নানা নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে। আমরা ওআইসি'র কাছে প্রতিবেদন পেশ করবো।
প্রতিনিধি দলে ছিলেন, ওআইসি'র ভাইস চেয়ারম্যান মেড এসকে ক্যাগওয়া, ভাইস চেয়ারম্যান ড. রাইহানাহ বিনতে আবদুল্লাহ, সাবেক রাষ্ট্রদূত কমিটির সদস্য মোহাম্মদ জমির, আবদুল ওহাব, মাহমুদ মোস্তাফা আফিফি, এডামা নানা, নির্বাহী পরিচালক মার্গোব সেলিম বাট, হাফিদ এল হাসমি, আকমেদ আল গামদি, হাসান আবেদিন, মাহা আকিল, আবদুল্লাহ কাবি ও মোহাম্মদ গালাবাসহ বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা।
এর আগে গত বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে কক্সবাজার পৌঁছেন ১৩ সদস্যের এই প্রতিনিধি দলটি। ওইদিন দুপুরে জেলা প্রশাসনের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় যোগ দেন প্রতিনিধি দল। সভায় কক্সবাজার জেলা প্রশাসক মো. আলী হোসেন উখিয়া ও টেকনাফে অবস্থানরত রোহিঙ্গা ক্যাম্পের সার্বিক পরিস্থিতি তুলে ধরেন। এ সময় ওআইসি'র প্রতিনিধিদল রোহিঙ্গাদদের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দেন।
হাজার হাজার সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা মুসলিম জনগোষ্ঠী তাদের দেশ থেকে পালিয়ে উদ্বাস্তু হিসেবে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়ায় মিয়ানমারের মানবাধিকার লংঘনের প্রতিবাদ জানাতে প্রাথমিক তথ্য পেতে ৪ দিনের সফরের অংশ হিসেবে প্রতিনিধি দল এখন কক্সবাজার রয়েছেন। কর্মকর্তারা বলেন, ওআইসি’র সংখ্যালঘু, তথ্য এবং মানবাধিকার বিষয়ক বিভাগসহ ওআইসি সেক্রেটারিয়েট’র সংশ্লিষ্ট বিভাগের কর্মকর্তারা প্রতিনিধিদলে রয়েছেন।
এর আগে ওআইসি এক বিবৃতিতে জানায়, প্রতিনিধিদল বাংলাদেশের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে মানবিক সাহায্য এবং অন্যান্য বিষয় নিয়ে আলোচনা করবেন। প্রতিনিধিদল তাদের রিপোর্ট ওআইসি মহাসচিব ড. ইউসেফ বিন আহমদ আল ওথাইমিনের কাছে পেশ করবেন। আইপিএইচআরসি বারবার অনুরোধ জানানো সত্ত্বেও রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গারা কি ধরনের পরিস্থিতির মধ্যে রয়েছে তা দেখতে দেশটি সফরের অনুমতি দেয়নি মিয়ানমার। বিবৃতিতে বলা হয়, মিয়ানমার সরকারের পক্ষ থেকে ইতিবাচক সাড়া না পাওয়ায় আইপিএইচআরসি সেখানকার পরিস্থিতি জানার জন্য কক্সবাজার রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শনের সিদ্ধান্ত নেয়।
বালুশি বুধবার ঢাকায় বলেছেন, পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ এইচ মাহমুদ আলী ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলমের সঙ্গে বৈঠকের পরে বঞ্চিত নিপীড়িত জনগোষ্ঠীর নাগরিকত্বের অধিকারের ব্যাপারে ওআইসি উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
বৈঠককালে প্রতিনিধিদল মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে গত বছরের ২৫ আগস্ট সামরিক অভিযান শুরুর পর থেকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত হয়ে তাদের দেশ থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে আশ্রয় দেয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভুয়শী প্রশংসা করেছেন। কক্সবাজার সফর শেষে প্রতিনিধিদল আজ শনিবার বাংলাদেশ ত্যাগ করবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ