ঢাকা, শনিবার 6 January 2018, ২৩ পৌষ ১৪২৪, ১৮ রবিউস সানি ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

সমাবেশের অনুমতি না পাওয়ায় আজ রাজধানীতে বিএনপির বিক্ষোভ

স্টাফ রিপোর্টার : রাজনৈতিক কৌশলের কারণেই পুলিশের অনুমতি না পাওয়ায় বিএনপি সমাবেশ করেনি মন্তব্য করে দলটির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী বলেছেন, এখানে বিএনপির সাংগঠনিক কোনও দুর্বলতা নেই। আমরা পুলিশের পক্ষ থেকে অনুমতি পাইনি। তাই রাজনৈতিক কৌশলের কারণেই সমাবেশ করিনি। আগামীতে জনগণের পক্ষের কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে। খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে গণতন্ত্রকে মুক্ত করা ও সুষ্ঠু নির্বাচনের দাবিতে যে সংগ্রাম চলছে, তা অব্যাহত থাকবে। গতকাল শুক্রবার নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সাংবাদিক সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।  রিজভী বলেন, বিএনপিকে সমাবেশের অনুমতি না দেয়ার প্রতিবাদে শনিবার (৬ জানুয়ারি) ঢাকা মহানগরীর প্রতিটি থানায় বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করা হবে। তিনি কেন্দ্র ঘোষিত কর্মসূচি যথাযথভাবে পালনে নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানান।
সাংবাদিক সম্মেলনে দলের চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা আবুল খায়ের ভূঁইয়া, আব্দুস সালাম, সাংগঠনিক সম্পাদক এমরান সালেহ প্রিন্স, প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী অ্যানি প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
রিজভী বলেন, আওয়ামী লীগ যে গণতন্ত্র হত্যাকারী দল, তার প্রমাণ বিএনপিকে সমাবেশ করতে বাধা দেয়া। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি বিতর্কিত ও কলঙ্কিত নির্বাচনকে আড়াল করার জন্য বিএনপিকে কর্মসূচি পালন করতে বাধা দেয়ার নীতি অবলম্বন করেছে সরকার। ভোটারবিহীন সেদিনের নির্বাচন দেশে-বিদেশে কলঙ্কিত নির্বাচন হিসেবে গণ্য হয়েছে। ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে স্বীকৃতি মেলেনি বলে এ লজ্জা ঢাকতে বিএনপিসহ বিরোধী দলের কর্মসূচি দমন করতে সরকার নির্মম পন্থা অবলম্বন করছে।
সারাদেশে বিএনপির কালো পতাকা মিছিলে বাধা দেয়ার অভিযোগ করে রিজভী বলেন, পুলিশ আমাদের দলের নেতাকর্মীদের হুমকি দিচ্ছে। বিভিন্ন জায়গায় দলীয় কার্যালয়ে তালা ঝুলিয়ে দিয়েছে। বিএনপি যাতে কালো পতাকা মিছিল করতে না পারে সেজন্য প্রশাসন যন্ত্রকে টর্চারিং মেশিন হিসেবে ব্যবহার করেছে।  গাজীপুর বিএনপি কার্যালয়ের পিওনকে স্থানীয় পুলিশ হুমকি দিয়ে বলেছে ‘সারাদিন রাত অফিস বন্ধ রাখবি, নইলে তোকে গুলী করে মেরে ফেলা হবে’। সারা ময়মনসিংহ জেলা জুড়ে যেন এক অঘোষিত কারফিউ চলেছে। জেলা সদর ও থানাগুলোতে চলেছে পুলিশের দানবীয় তা-ব। এছাড়া দেশের বিভিন্ন জেলা ও মহানগরে বিএনপি’র আজকের কর্মসূচি বানচাল করার জন্য বিএনপি কার্যালয়গুলো যাতে আজ খোলা না হয় সেজন্য পুলিশ হুমকি দিয়েছে। বরিশালে বিএনপি’র যুগ্ম-মহাসচিব মজিবুর রহমান সরোয়ারের বাসা আজ সকাল থেকে ঘিরে রেখেছে পুলিশ।
বিএনপি এ মুখপাত্র বলেন, বর্তমান ভোটারবিহীন সরকার গণতন্ত্রের নিষ্ঠুর প্রতিপক্ষ। তাদের বাকশালী প্রেতাত্মা আরো বিধ্বংসী রুপ নিয়ে আত্মপ্রকাশ করেছে। আওয়ামী দখল আর লুটপাট চিরস্থায়ী রূপ দিতে তারা বিরোধীদলশূন্য রাষ্ট্রব্যবস্থা কায়েম করতে চাচ্ছে। রিজভী বলেন, মুক্তিযুদ্ধের চেতনার মূল উপাদান ছিল গণতন্ত্র। আর এই গণতন্ত্র হচ্ছে বহু মত ও পথের বৈচিত্রের মধ্যে ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে যাওয়া। কিন্তু আওয়ামী লীগের মুক্তিযুদ্ধের চেতনা মূলত: আওয়ামী চেতনা, তারা বহুমাত্রিকতা ও বৈচিত্রে বিশ্বাস করে না। আওয়ামী মুক্তিযুদ্ধের চেতনার অন্তর্নিহিত উপাদান হচ্ছে তাদের নিজেদের লোভ, দুর্নীতি ও দখলবাজি অব্যাহত রাখা। এসব অপকর্মের বিরুদ্ধে আওয়াজ উঠবে বলেই তারা বিরোধী দল সহ্য করতে পারে না। সরকারের লোভ ও দুর্নীতির প্রকোপে প্রতি বছর দেশ থেকে প্রায় ৫০ হাজার কোটি টাকার মতো অর্থ পাচার হয়ে যাচ্ছে। দেশে যখন দীর্ঘদিন ধরে একরকম কোন বিনিয়োগই নেই তখন এই অর্থ পাচারে স্পষ্ট প্রমাণিত হয়, দেশ চলছে গণবিরোধী লুটেরাদের রাজত্ব। আদিম অমানবিকতার মনোবৃত্তি নিয়ে গুম, খুন, বিচার বহির্ভূত হত্যাকান্ড ছাড়াও দুর্নীতি ও অনৈতিক উপায়ে অর্থ উপার্জন এবং এর ফলশ্রুতিতে মালেশিয়ায় আলোচিত সেকেন্ড হোম ও কানাডায় বেগম পাড়া তৈরি ইত্যাদি আড়াল করে রাখতেই বিরোধীদলহীন রাষ্ট্রব্যবস্থা কায়েমের নীল নকশা বাস্তবায়ন করছে বর্তমান বিনা ভোটের সরকার। আর এ কারণেই বিএনপিকে গণতন্ত্র হত্যার কালো দিবসের কর্মসূচিতে উন্মুক্ত সন্ত্রাসী দলের ন্যায় আচরণ করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ