ঢাকা, শনিবার 6 January 2018, ২৩ পৌষ ১৪২৪, ১৮ রবিউস সানি ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

গাজাবাসীর ওপর ইসরাইলী বিদ্যুতের দাম পরিশোধের নতুন বোঝা

৫ জানুয়ারি, আলজাজিরা : এখন থেকে নিয়মিত বিদ্যুৎ বিল দিতে হবে পৃথিবীর বৃহত্তম উন্মুক্ত কারাগার খ্যাত ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকার অধিবাসীদের। বিদ্যুত বাবদ ইসরায়েলের মাসিক পাওনা ২৮ লাখ মার্কিন ডলার পরিশোধ করতে হবে। বিদ্যুৎ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর মাধ্যমে তাদের কাছ থেকে অর্থ আদায় করা হবে। 

সংবাদমাধ্যমটির প্রতিবেদনে বলা হয়, এতোদিন ফিলিস্তিনিদের করের টাকায় এই অর্থ পরিশোধ করা হতো।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের (পিএ) একটি সূত্র আল জাজিরাকে জানিয়েছেন গত বছরের জুনে সীমিত করে দেওয়া বিদ্যুত সুবিধা পুনরায় চালু করতে প্রথমবারের মতো গাজার অধিবাসীদের নিয়মিত বিলপরিশোধের তাগাদা দেওয়া হয়েছে। তাদের বিশ্বাস গাজাভিত্তিক বিদ্যুত সরবরাহ কোম্পানি বিল থেকে এই অর্থ সংগ্রহ করতে পারবে।

প্রতিদ্বন্দ্বী হামাসের রাজনৈতিক অবস্থান দুর্বল করতে গত বছরের এপ্রিলে গাজায় বিদ্যুৎ সরবরাহ কমাতে ইসরাইলকে অনুরোধ জানায় ফিলিস্তিনের প্রেসিডিন্ট মাহমুদ আব্বাস। ২০১৭ সালের জুনে সেখানে বিদ্যুত সরবরাহ ৪০ শতাংশ সরবরাহ কমিয়ে দেয় তারা। ফলে দৈনিক মাত্র চার ঘণ্টা বিদ্যুৎ সুবিধা পেতে থাকে গাজার ২০ লাখ অধিবাসী।

২০০৬ সালের ফিলিস্তিনের সাধারণ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয় অর্জন করে হামাস। তবে এ বিজয় যেমন মার্কিন ও ইসরাইলী কর্তৃপক্ষ মেনে নেয়নি। তেমনি ফিলিস্তিনের ক্ষমতাসীন দল ফাতাহও তা মেনে না নিয়ে পশ্চিম তীরে ক্ষমতা সংহত করে। তবে গাজা থেকে যায় হামাসের নিয়ন্ত্রণে। বেশ কয়েকবার ঐকমত্যের সরকার প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা সফল হয়নি। সে সময়ে ইসরায়েলকে ফিলিস্তিনিদের করের টাকা দেওয়া বিনিময়ে গাজায় বিদ্যুৎ সরবরাহ করতো ইসরায়েল।

গত বুধবার ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তারা গাজায় ইসরায়েলকে ৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুত সরবরাহের অনুমতি দেবে। ছয় মাস আগেও তারা এই পরিমাণ বিদ্যুত সেখানে সরবরাহ করতো। সে সময় দৈনিক ছয় থেকে আট ঘণ্টা বিদ্যুত পেতো গাজার অধিবাসীরা।

সরবরাহ কমানোর পর জাতিসংঘ সতর্ক করে দিয়ে বলেছিলো দীর্ঘ সময় বিদ্যুত সরবরাহ কম থাকলে গাজার মৌলিক সেবা সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে যাবে।

ফিলিস্তিনি প্রধানমন্ত্রী রামি হামাদাল্লাহ জানিয়েছেন, ২০১৭ সালের অক্টোবরে মিসরের কায়রোতে পিএ ও হামাসের মধ্যে স্বাক্ষরিত এক চুক্তির আওতায় এই অগ্রগতি হচ্ছে। আল জাজিরাকে তিনি বলেছেন, এই উদ্যোগ গাজার অধিবাসীদের দুর্ভোগ নিরসনে ভূমিকা রেখে জীবনযাত্রার মান উন্নত করবে।

ইসরায়েল দখলকৃত গাজায় ২০  লাখ মানুষের বাস। ২০০৬ সালে হামাসের বিজয়ের পর ২০০৭ এ সেখানে ইসরায়েল অবরোধ আরোপ করে। এক দশকেরও বেশি সময় ধরে সেখানকার অধিবাসীদের স্বাভাবিক চলাচল বন্ধ রয়েছে, বন্ধ হয়ে গেছে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা। সেখানকার ৮০ শতাংশ মানুষ আন্তর্জাতিক সহায়তার ওপর নির্ভর করে বেঁচে আছে। বিদ্যুতের ঘাটতি পরিস্থিতিকে শুধু খারাপই করেছে।

তবে সংশ্লিষ্ট সূত্রটি আল জাজিরাকে জানায়, গাজায় কাজ করা দুটি পাওয়ার প্লান্ট টারবাইনের একটি চালাতে সক্ষম হবেন তারা। কেননা সংগৃহীত অর্থে একটির খরচই সংস্থান হবে। তিনি বলেন, বাস্তবে ৫০ মেগাওয়াট নয় বরং ২৫ মেগাওয়াট বিদ্যুত সরবরাহ হবে।

শীতের সময় তীব্র চাহিদার কারণে গাজার অধিবাসীদের জীবনযাত্রায় বড় পরিবর্তন আসবে না বলে মনে আল জাজিরার ওই সূত্র। তিনি বলেন, সব মিলে এক ঘণ্টা বিদ্যুত সরবরাহ বাড়তে পারে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ