ঢাকা, শনিবার 6 January 2018, ২৩ পৌষ ১৪২৪, ১৮ রবিউস সানি ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

সহায়ক সরকারের অধীনেই বিএনপি নির্বাচন করবে -ব্যারিস্টার মওদুদ

গতকাল শুক্রবার জাতীয় প্রেস ক্লাব মিলনায়তনে নাগরিক অধিকার আন্দোলন ফোরাম আয়োজিত আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন বিএন পির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ -সংগ্রাম

স্টাফ রিপোর্টার : বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেছেন, আওয়ামী লীগ সমঝোতা চায় না, তাই বিএনপির সামনে একমাত্র বিকল্প হলো রাজপথ। দলীয় সরকার নয়, বরং সহায়ক সরকারের অধীনেই বিএনপি নির্বাচন করবে বলেও জানান তিনি।
গতকাল শুক্রবার জাতীয় প্রেসক্লাবে নাগরিক অধিকার আন্দোলন ফোরাম আয়োজিত ৫ জানুয়ারি কলঙ্কিত নির্বাচন এবং বর্তমান প্রেক্ষাপট’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মওদুদ বলেন, সম্প্রতি শৃঙ্খলাবিধির যে গেজেট সরকার জারি করেছে, তা তৈরি করা হয়েছে এমনভাবে, যাতে নিম্ন আদালতকে আরও কঠিনভাবে নিয়ন্ত্রণ করা যায়। সাবেক আইনমন্ত্রী মওদুদ বলেন, বিচারপতি এসকে সিনহার (পদত্যাগী প্রধান বিচারপতি) ঘটনার মাধ্যমে সরকার নিজেই বিচার বিভাগের স্বাধীনতাকে সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস করে দিয়েছে। সরকার এটা সম্পূর্ণভাবে হরণ করে নিয়েছে। এখন তারা নিম্ন আদালতের বিচারকদের জন্য একটা শৃঙ্খলাবিধির গেজেট করেছে। এই গেজেটের মাধ্যমে নিম্ন আদালতকে এখন আরও কঠিনভাবে নির্বাহী বিভাগের অধীনে, প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এই গেজেট মাসদার হোসেনের রায়ের অপমৃত্যু ঘটিয়েছে। ওই রায়ের মূল বিষয় ছিলে বিচার বিভাগ নির্বাহী বিভাগ থেকে পৃথকীকরণ করা হবে।
বিএনপির এই সিনিয়র নেতা বলেন, আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কেমিস্ট্রির মধ্যে গোলমাল আছে। মুক্তিযুদ্ধে আওয়ামী লীগের ভূমিকা থাকলেও স্বাধীনতার পর তাদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন আছে। তারা এখন অবলীলায় মিথ্যা কথা বলছে। মামলাকে হাতিয়ার হিসেবে নিয়ে বিরোধী দলকে দমন করছে। মুখে মুখে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার কথা বললেও তারা বিরোধী দলের সভা-সমাবেশের অধিকার হরণ করেছে। আইনের শাসন ও বিচার বিভাগের স্বাধীনতায় বিশ্বাস করেনি। আওয়ামী লীগ সমঝোতায় বিশ্বাস করে না। তারা চায় সংঘর্ষ-সংঘাত। তবে আমরা অনেক ধৈর্য ধরেছি, সহ্য করেছি, সমঝোতার কথা বলেছি। কারণ ২০১৪ আর ২০১৮ এক নয়। এবার আমরা নির্বাচন করব, সে জন্য প্রস্তুতি নেব। কিন্তু দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের জন্য নয়। তাই উপযুক্ত সময়ে আমরা কর্মসূচি দেবো। তখন গণ-আন্দোলনের মধ্য দিয়ে সরকার বাধ্য হবে বিদায় নিতে। কারণ এরা সমঝোতার পথে যাবে না। একমাত্র বিকল্প হলো রাজপথ।
সাবেক এই আইনমন্ত্রী আরো বলেন, ২০১৪ সালের নির্বাচনকে সরকার সংবিধান রক্ষার নির্বাচন বলে। কিন্তু ওই নির্বাচন সংবিধান অনুযায়ী হয়নি। আমরা বিচার বিভাগের দুর্বলতার কারণে আইনের মাধ্যমে মোকাবিলা করতে পারিনি। ২০১৪ সালে কোনো নির্বাচন হয়নি উল্লেখ করে দিন বাংলাদেশের সবচেয়ে কলঙ্কিত দিন বলে মন্তব্য করেন তিনি। নিরপেক্ষ সরকারের দাবিতে আন্দোলনকে ‘গণআন্দোলনের রূপ’ দিতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান মওদুদ।
আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সহসভাপতি আলহাজ ভিপি ইব্রাহিম। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক এম জাহাঙ্গীর আলম। আলোচনা সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আহমেদ আজম খান, নির্বাহী কমিটির সদস্য ইসমাইল হোসেন বেঙ্গল, আবু নাসের মোহাম্মদ রহমাতুল্লাহ, জিনাফের সভাপতি মিয়া মো. আনোয়ার প্রমুখ।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ