ঢাকা, শনিবার 6 January 2018, ২৩ পৌষ ১৪২৪, ১৮ রবিউস সানি ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

খুলনা-কলকাতা রুটে বন্ধন এক্সপ্রেসে যাত্রী বিড়ম্বনা থামছে না

খুলনা অফিস : বন্ধন এক্সপ্রেস চলছে হ-য-ব-র-ল অবস্থায়। যাতায়াতকারী যাত্রীর সংখ্যা দিনদিন হ্রাস-বৃদ্ধি চলছে। একই সাথে বন্ধনের বিলম্ব কোনভাবেই থামছে না। কখনও কাস্টম্স ক্লিয়ারেন্স, কখনও রেল লাইনে কাজ, কখনও কুয়াশার কারণ গাড়ির ধীর গতিকে দায়ী করছে বন্ধনের সাথে সংশ্লিষ্টরা। যাত্রী হ্রাস-বৃদ্ধির কারণ হিসেবে ভাড়া বৃদ্ধিকেও দায়ী করেছেন যাত্রীরা।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, খুলনা-কলকাতা রুটে বন্ধন এক্সপ্রেসে প্রথম যাত্রায় যাত্রীরা শখের বসে যাত্রা শুরু করে। প্রথম যাত্রার পরেও কয়েকটি যাত্রায় যাত্রীরা শখের বসে যাত্রা করে। তবে যাত্রার শুরু থেকে কখনও কলকাতা থেকে খুলনাগামী যাত্রীর সংখ্যা বৃদ্ধি পায়। আবার কখনও খুলনা থেকে কলকাতাগামী যাত্রীর সংখ্যা বেড়ে যায়। এভাবে কোন যাত্রায় বন্ধনের যাত্রী বৃদ্ধি পাচ্ছে। আবার কখনও একেবারেই হ্রাস পাচ্ছে। তবে বৃহস্পতিবারের যাত্রা পর্যন্ত কোনবারই বন্ধনের সম্পূর্ণ আসন পূর্ণ হয়নি। এর কারণ হিসেবে কাস্টমসের ক্লিয়ারেন্স, বিলম্ব এবং বেশি ভাড়াকে দায়ী করেছেন যাত্রীরা। বন্ধনের তৃতীয় যাত্রায় কলকাতা থেকে ৮১ জন যাত্রী নিয়ে আসে। এ যাত্রায় বন্ধন সঠিক সময়ে যাত্রা শুরু করলেও বিলম্বের কবলে পড়তে হয় বেনাপোলে কাস্টম্স ক্লিয়ারেন্সে। এখানে যাত্রীদের ক্লিয়ারেন্স পেয়ে খুলনা রেলওয়ে স্টেশনে পৌঁছাতে ২০ মিনিট দেরি হয়। এরপর থেকে শুরু বন্ধনের বিড়ম্বনা। বন্ধনের ভাড়া চেয়ার ও কেবিন ভেদে ১৫০০ ও ২০০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর থেকে খুলনা-কলকাতা বাসের ভাড়া কম হওয়ায় যাত্রীরা বাসে যাতায়াত করছেন বলে জানা গেছে। অপর এক যাত্রায় ভারত থেকে নির্ধারিত সময় ৭টায় ছাড়লেও বেনাপোলে নির্দিষ্ট সময় ছাড়া অতিরিক্ত ৪০ মিনিট বিলম্ব হয়। যার কারণে খুলনা রেল স্টেশনে বন্ধন সোয়া একটায় পৌঁছে। যা নির্ধারিত সময়ের চেয়ে পৌণে একঘন্টা বেশি। আর এই বিলম্বের প্রভাব পড়ে ভারতগামী যাত্রীদের ওপর। খুলনা রেল স্টেশন থেকে বন্ধন ছাড়ার নির্ধারিত সময় বেলা দেড়টায়। কিন্তু বিলম্বে এক্সপ্রেসটি স্টেশনে আসার কারণে খুলনা রেলওয়ে স্টেশন থেকে বন্ধন নির্দিষ্ট সময়ের ১৫ মিনিট পরে বেলা পৌণে ২টায় ছাড়ে। বন্ধনের ২৮ ডিসেম্বরের যাত্রায় ভারত থেকে আগত যাত্রীর সংখ্যা ছিল ১৭৮ জন। কিন্তু এর বিপরীতে খুলনা থেকে ভারতের উদ্দেশ্যে যাত্রা করে ১৪৩ জন যাত্রী। এ যাত্রায়ও বন্ধন খুলনা রেল স্টেশনে ১৫ মিনিট দেরি করে পৌঁছে। বৃহস্পতিবার বন্ধন এক্সপ্রেস চেপে খুলনায় আসেন ১২৩ জন যাত্রী। তবে খুলনা থেকে কোলকাতার উদ্দেশ্যে যাত্রা করেছেন ১৯৭ জন। যা খুলনাগামী যাত্রীর চেয়ে কলকাতাগামী যাত্রীর সংখ্যা বেশি। এদিনও খুলনায় ট্রেনটি বিগত যাত্রাগুলোর ন্যায় ২০ মিনিট দেরিতে পৌঁছে। তবে ট্রেনটি খুলনা রেলওয়ে স্টেশন থেকে যথাসময়ে বেলা দেড়টায় স্টেশন ত্যাগ করে।
কলকাতা থেকে বন্ধনে আসা মো. আব্দুল হালিম বলেন, বন্ধনে কোন বিড়ম্বনা বিলম্ব ছাড়া যাওয়ার জন্য আসছি। কিন্তু ঠিকই বিড়ম্বনা পোহাতে হয় কাস্টমস ক্লিয়ারেন্সে।
খুলনা থেকে কলকাতাগামী যাত্রী সমীর রায় বলেন, বন্ধন গাড়ি একটাই। কিন্তু দুই দেশে দুই ধরনের ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে। তারপরেও কলকাতাগামী যাত্রীদের ভাড়া তুলনামূলক বেশি হওয়ায় যাত্রীরা বেশি আগ্রহ দেখায় না।
খুলনা রেলওয়ের স্টেশন মাস্টার মানিক চন্দ্র সরকার বলেন, বন্ধনের যাত্রী দিন দিন খুলনা থেকে হ্রাস পাচ্ছে। ভাড়া বৃদ্ধির কারণেই মূলত এমনটা হচ্ছে। এর চেয়ে বাসে ভাড়া কম হওয়ায় যাত্রীরা বাসে যাতায়াত করছেন। একই সাথে এ যাত্রায়ও বেনাপোল থেকে দেরিতে ছাড়ায় খুলনায় ২০ মিনিট দেরিতে পৌঁছে। তবে খুলনা থেকে ঠিক সময়ে ট্রেনটি যাত্রা করেছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ