ঢাকা, শনিবার 6 January 2018, ২৩ পৌষ ১৪২৪, ১৮ রবিউস সানি ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

সেলফি তুলতে বেশি ব্যস্ত দর্শনার্থীরা

ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমেলায় ছুটির দিনে ক্রেতা সাধারণের উপচে পড়া ভিড়। ছবিটি গতকাল শুক্রবার তোলা -সংগ্রাম

স্টাফ রিপোর্টার: ঢাকা আর্ন্তজাতিক বানিজ্য মেলার প্রথম ছুটির দিনে ক্রেতা এবং দর্শনার্থীদের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মত। মেলায় ক্রেতার চেয়ে দর্শনার্থীর সংখ্যাই বেশি। প্রয়োজনীয় পন্য কেনার চেয়ে সেলফি তুলতে বেশি ব্যস্ত। যেসব প্যাভিলিয়নে সেলফি কর্নার রয়েছে সেখানেই বেশি দর্শনার্থীর ভিড় দেখা গেছে। এসব দর্শনার্থী ও ক্রেতার পদচারণায় মুখর হয়ে উঠেছে ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা (ডিআইটিএফ) প্রাঙ্গণ। আর ক্রেতাদের আগমনের সঙ্গে সঙ্গে হাসি ফুটতে শুরু করেছে বিক্রেতাদের মুখে।
এবারের মেলার গতকাল ছিল প্রথম শুক্রবার ও ছুটির দিন। এদিন মেলা ঘুরে এচিত্র দেখা যায়।
মেলা ঘুরে দেখা যায়, বেচাবিক্রি ও ক্রেতা-দর্শনার্থীদের উপস্থিতিতে আনুষ্ঠানিকভাবে জমে উঠেছে ঢাকা আর্ন্তজাতিক বাণিজ্য মেলার ২৩তম আসর। মেলার পঞ্চম দিনের মাথায় ও প্রথম ছুটির দিন শুক্রবারে সকাল থেকেই শীতকে উপক্ষো করে ক্রেতা-দর্শনার্থীদের ছিল উপচেপড়া ভিড়। সকাল ১০টা থেকে মেলার কার্যক্রম শুরু হলেও বেলা ১১ টার পর থেকে ধীরে ধীরে ভিড় বাড়তে থাকে। আর শেষ বিকালে কানায় কানায় ভরে যায় ক্রেতা-দর্শনার্থীদের উপস্থিতি। গতকাল বেচাবিক্রিও আশানুরুপ হয়েছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।
তারা বলেন, মেলার শুরু থেকে প্রথম চারদিন গোছা গোছাতে সময় গেছে। এখন আমরা সম্পূর্ন প্রস্তুত। শুক্রবারের জন্যই আমরা অপেক্ষা করছিলাম। ক্রেতা-দর্শনার্থীদের উপস্থিতি দেখে প্রথম চারদিনের বেচাবিক্রির খরা আজ (শুক্রবার) পুশিয়ে যাবে বলে আশায় বুক বেধেছেন ব্যবসায়ীরা।
ব্যবসায়ীরা জানান,গতকাল মাসব্যাপী মেলার প্রথম শুক্রবার ও ছুটির দিনে আনুষ্ঠানিকভাবে জমে উছেঠে মেলা। রাজনৈতিক পরিস্থিতি ভালো থাকায় সামনের দিনগুলোতে আরো বেশি জমজমাট হবে।
এ প্রসঙ্গে মেলা আয়োজক কমিটির সদস্য সচিব মোহাম্মদ আব্দুর রউফ জানান,রাজধানীর
 মানুষের বিনোদনের সুযোগ-সুবিধা পর্যাপ্ত নয়। এ জন্য প্রতিবার মাসব্যাপী বাণিজ্যমেলার মতো আয়োজনে মানুষের ঢল নামে।
 তিনি বলেন, যে কোনো মেলার প্রাণ ক্রেতা-দর্শনার্থী। ২৩তম ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা শুরু থেকে ক্রেতা-দর্শনার্থী একটু কম ছিল। তবে আজ (শুক্রবার) তার ব্যাপক পরিবর্তন হয়েছে। প্রথম সাপ্তাহিক ছুটির দিনেই বেড়েছে ক্রেতা-দর্শনার্থীদের পদচারণা। একঘেয়েমি জীবন থেকে বেরিয়ে কিছুটা অন্য রকম সময় কাটিয়ে ফিরছেন তারা।
মেলা প্রাঙ্গণ ঘুরে দেখা যায়, ছুটির দিন হওয়াতে পৌষের হিমেল হাওয়ায় প্রচন্ড ঠাণ্ডার মধ্যেই ক্রেতা দর্শনার্থীরা মেলায় এসেছেন। একটু খোলামেলা হওয়ায় মেলায় ঢুকতেই শীতের কাঁপুনি। এ বিষয়টাকে যেন দর্শনার্থীরা অনেকটা উপভোগ করছেন।
ছুটির দিনে অফিস ও কাজের চাপ না থাকায় অনেকেই পরিবার নিয়ে মেলায় এসেছেন। আবার স্কুল, কোচিংয়ের বিড়ম্বনা না থাকায় অনেক শিক্ষার্থী দল বেঁধে এসেছেন মেলায়। নানা বয়সের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের উপস্থিতিতে মুখর হয়ে উঠেছে মেলার মাঠ।
গতকাল গৃহস্থলী, শিশু ও নারী সামগ্রী, ইলেকট্রনিক্স পণ্য, রান্নার সামগ্রী ও পোশাকের স্টল ও প্যাভিলিয়নগুলোতেও চোখে পড়ার মতো ক্রেতা-দর্শনার্থী দেখা গেছে। তবে বিদেশি প্যভিলিয়নগুলো ছিল একেবারেই ফাঁকা।
এবারের মেলায় আকর্ষণীয় ও বৈচিত্র্যময় ডিজাইনের নতুন-পুরাতন পণ্যের পসরা সাজিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। মেলার বেশির ভাগ ক্রেতা সমাগম গৃহস্থালি পণ্যের স্টলকে ঘিরে। ছুটির দিন উপলক্ষে বেশির ভাগ পণ্যের স্টলে চলছে আকর্ষণীয় ছাড়। আকর্ষণীয় ডিজাইনের নতুন নতুন পণ্য ও বিশেষ মূল্য ছাড় দৃষ্টি কেড়েছে আগতদের।
শিশু খেলনা ও মহিলা সামগ্রীর ব্যবসায়ী আজগর আলী বলেন, ছুটির দিন থাকায় অনেকেই পরিবারসহ মেলায় এসেছেন। শিশুদের খেলনা এবং মহিলাদের সাজগোজের সামগ্রী বিক্রি হচ্ছে বেশি। যাদের সঙ্গে শিশু রয়েছে তারাই বেশি আমাদের স্টলে আসছেন। গত চারদিনের তুলনায় আজ(গতকাল) বিক্রি মোটমুটি ভালো। আশা করি সামনে বিক্রি আরও বাড়বে।
এদিন মেলার অন্যান্য স্টলের চেয়ে গহনার স্টলে নারীরা বেশি ভিড় করেছেন। দর্শনার্থীদের দাম নিয়ে নেই কোন অভিযোগ। পছন্দ হলেই কিনছেন সবাই। আর ক্রেতা আকৃষ্ট করতে নানা কৌশল অবলম্বন করছেন বিক্রেতারা। কেউ মিষ্টি কথা আবার কেউ দিচ্ছেন মূল্যছাড়সহ নানা অফার। থাকছে গ্যারান্টিসহ বিক্রয়োত্তর নানা সেবার নিশ্চয়তা।
এদিকে ক্রেতা-দর্শনার্থীদের ভিড় বাড়ায় বেশ খুশি বিক্রেতারাও। ব্লেজার বিক্রেতা মো. আমিনুল বলেন, মেলার চারদিন পরে আজ (শুক্রবার) ছুটির দিন হওয়ায় ভিড় কিছুটা বেড়েছে। বিক্রি পরিস্থিতিও উন্নতি হয়েছে। দর্শনার্থীরা স্টলে এসে ঘুরে ঘুরে দেখছেন তাতেই আমরা খুশি। আমাদের প্রত্যাশা মেলার শেষ অর্ধে এসে বিক্রি বাড়াবে।
প্রাণ আরএফএল গ্রুপের উপমহাব্যবস্থাপক জিয়াউল হক বলেন, প্রতিবছরের মতো এবারে সাপ্তাহিক ছুটির দিনকে ঘিরে দর্শনার্থীর সংখ্যা বেড়েছে। ক্রেতাদের সুন্দর এবং আন্তরিক সেবা দিতে বিক্রয়কর্মীর সংখ্যাও বাড়ানো হয়েছে।
এদিকে গতকাল মেলায় ক্রেত-দর্শনার্থীদের ভিড়ের সঙ্গে বেড়েছে নানা অব্যবস্থাপনাও। প্রথম কয়েকদিন মেলার সার্বিক ব্যবস্থাপনায় দর্শনার্থীরা সন্তুষ্ট থাকলেও গতকাল থেকে তাদের ক্ষোভ বেড়েছে। বিশেষ করে মেলা প্রাঙ্গণে ভিক্ষুক, হকারদের অত্যাচারে তারা বিব্রত।
সরেজমিনে মেলায় গিয়ে দেখা গেছে, মেলা প্রাঙ্গণে ভিক্ষুকের পাশাপাশি ভাসমান হকারদের আনাগোনা বেড়েছে। ক্রেতা বা দর্শনার্থীদের দেখলেই ভিক্ষার থালা হাতে বায়না ধরছে। এমন কি ভিক্ষার পরিমাণ কম হলেই পা জড়িয়ে ধরে বসে যাচ্ছে ভিক্ষুকরা।
আফরোজা নামের আরেকজন বলেন, মেলায় দৃষ্টিনন্দন স্টলের পাশাপাশি ফুলের বাগান, শিশু পার্ক, থ্রি ডি ভিডিও- সব মিলিয়ে পরিপূর্ণ একটি আয়োজন। যে কারণে এখানে বারবার আসতে মন চাইবে। তবে মেলার ভেতরে টোকাইদের উৎপাত বন্ধ করা গেলে সত্যিকারার্থে সকলের কাছে গ্রহণযোগ্য এবং বিশ্ব সম্প্রদায়ের কাছে দৃষ্টান্ত স্থাপনের মতো মেলা হতো এটি- যোগ করেন তিনি।
একাধিক স্টল ঘুরে ক্লান্ত দর্শনার্থীদের অনেকেই মাঝে মধ্যে মেলার মধ্যে সাজিয়ে রাখা বিভিন্ন ফুলের পার্কের দুই পাড়ে বসে বিশ্রাম নিচ্ছেন। কারো হাতে পণ্যের একাধিক বোঝা, আবার কেউ কেউ শীতের আলতো রোদের তাপ নিচ্ছেন। সব মিলিয়ে কেনা কাটার পাশাপাশি বিনোদনও হচ্ছে দর্শনার্থীদের।
মেলায় পরিবার নিয়ে ঘুরতে আসা রামপুরার বাসিন্দা মো. মামুন বলেন, বাণিজ্য মেলার শুরুর দিন থেকে বাচ্চারা এবং ওদের মা ঘুরতে আসার আবদার করছে। তাদের আবদার পূরণ করতে মেলায় এসেছি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ