ঢাকা, শনিবার 6 January 2018, ২৩ পৌষ ১৪২৪, ১৮ রবিউস সানি ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

আরাকানে রোহিঙ্গা মুসলমানদের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস

-ড. মাহফুজুর রহমান আখন্দ
॥ চতুর্থ পর্ব ॥
আরাকানে ম্রাউক-উ রাজবংশের শাসন : লংগিয়েত রাজবংশের শেষ রাজা ছিলেন রাজাথুর পুত্র মিনসুয়ামুন ওরফে নরমিখলা। তিনি ১৪০৪ খ্রিস্টাব্দে স্বীয় চাচা থিংগাথুকে (১৪০১-১৪০৪) উচ্ছেদ করে আরাকানের সিংহাসনে অধিষ্ঠিত হন। যুবক নরমিখলা সেখানকার এক সামন্তরাজা অননথিউ এর বোন সাউবোংগিকে জোরপূর্বক বিয়ে করেন। সামন্তরাজ অননথিউ এ অত্যাচারের প্রতিশোধ গ্রহণকল্পে বর্মীরাজ মেঙ শো ওয়াই (১৪০১-১৪২২) এর সাহায্য কামনা করেন। মেঙ শো ওয়াই রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিলের নিমিত্তে অননথিউর সাহায্যের নামে ১৪০৬ খ্রিস্টাব্দে ত্রিশ হাজার সৈন্য নিয়ে আরাকান আক্রমণ করেন। এতে আরাকান রাজা নরমিখলা পরাজিত ও বিতাড়িত হয়ে বাংলায় নির্বাসিত হন। বর্মীরাজ মেঙ শো ওয়াই আরাকানরাজ নরমিখলাকে স্বদেশ থেকে বিতাড়িত করে স্বীয় জামাতাকে অনুরথ উপাধি দিয়ে আরাকানের সিংহাসনে বসান। পেগুরাজ আরাকানকে হাতছাড়া করার পক্ষে ছিলেন না, তাই তিনি আরাকান আক্রমন করে আরাকানের নতুন রাজা অনুরথকে প্রথমে বন্দী ও পরে হত্যা করেন। এতে বর্মীরাজ ক্ষুব্ধ হয়ে আরাকান আক্রমণ করেন। যুদ্ধে আরাকানের প্রচুর ক্ষতি সাধিত হয় এবং বর্মীরাজ পেগুরাজকে পরাজিত ও আরাকান থেকে বিতাড়িত করে আরাকানের রাজধানী দখল পূর্বক সেখানে একজন নতুন শাসনকর্তা নিয়োগ করেন। এই শাসনকর্তা ১৪২৩ সাল পর্যন্ত আরাকান শাসন করেন।  পরবর্তী শাসক সম্বন্ধে সত্যাসত্য তেমন কোন ইতিহাস না পাওয়া গেলেও অনেকে আরাকানী সর্দার চেংকাকে আরাকানের শাসনকর্তা হিসেবে মনে করেন। নরমিখলা সিংহাসন পুনরুদ্ধার করার পূর্ব পর্যন্ত তিনিই আরাকানের শাসনকার্য পরিচালনা করেছেন।
বাংলা আরাকানের প্রতিবেশী রাজ্য হবার সুবাদে নরমিখলা আরাকান থেকে বিতাড়িত হয়ে খুব সহজেই বাংলার রাজধানী গৌড়ে এসে আশ্রয় প্রার্থী হন। তখন বাংলার শাসক ছিলেন ইলিয়াছ শাহী বংশের তৃতীয় সুলতান গিয়াস উদ্দীন আযম শাহ (১৩৮৯-১৪১৪ খ্রি.)। তিনি অত্যন্ত নরম ও বিশাল হৃদয়ের ব্যক্তিত্ব সম্পন্ন শাসক ছিলেন। চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য, আলিম ও কবিদের পৃষ্ঠপোষণ, সুফী সাধকদের প্রতি শ্রদ্ধা ও ভক্তি, ইসলামি সভ্যতার কেন্দ্রস্থলে মাদ্রাসা স্থাপন এবং চীন সম্রাটের সাথে দূত বিনিময়ের মাধ্যমে তিনি যেমন প্রজা সাধারণের কাছে প্রিয় ছিলেন তেমনি বৈদেশিকনীতির দিক থেকেও বলিষ্ঠশক্তির অধিকারী ছিলেন। তিনি আশ্রয় প্রার্থী রাজা নরমিখলাকে রাজকীয় মর্যাদায় আশ্রয় প্রদান করেন। সুলতান গিয়াস উদ্দীন আযম শাহ ছিলেন শান্তিকামী শাসক। রাজ্য বিস্তারের প্রতি তার তেমন কোন ইচ্ছা ও আকাংখা ছিল না। ফলে তিনি নরমিখলাকে তাৎক্ষণিক কোন সাহায্য-সহযোগিতা করতে পারেননি। নরমিখলার জন্য সহযোগিতার অনুকুল পরিবেশ আসতে না আসতেই বাংলার শাসন ক্ষমতা নিয়ে নতুন ষড়যন্ত্র শুরু হয় এবং মন্ত্রী গণেশের ষড়যন্ত্রে ১৪১০ খ্রিস্টাব্দে সুলতান গিয়াস উদ্দীন আজম শাহ নিহত হন। উল্লেখ্য যে, ইলিয়াছ শাহী বংশের শাসনামলে মুসলিম শাসককের অসামান্য উদারতার প্রেক্ষিতে হিন্দুরা রাজ্যের উচ্চপদ ও মন্ত্রণালয়সমূহ লাভ করে অত্যন্ত শক্তিশালী হয়ে ওঠে। মন্ত্রী গণেশের নেতৃত্বে হিন্দুরা গিয়াস উদ্দীন আযম শাহের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র শুরু করলে মাওলানা মুজাফফর শামস বলখী সুলতানকে সতর্ক করে দেন। তদুপরি আত্মবিশ্বাসী সুলতান সেদিকে তেমন কোন আমল দেননি। ফলে গণেশের চক্রান্তেই তাকে শহীদ হতে হয়েছিলো।
সুলতান গিয়াস উদ্দীন আযম শাহের শাহাদতের পর রাজা গনেশের বহুমুখী ষড়যন্ত্রের মধ্য দিয়ে প্রায় বিশ বছর অতিবাহিত হয়। এ সময়ে নরমিখলা বাংলার পক্ষ থেকে কোন সহযোগিতার পরিবেশ পাননি। রাজা গণেশ ১৪১৮ খ্রিস্টাব্দে মারা গেলে তার অপর পুত্র মহেন্দ্রদেব বাংলার সিংহাসনে আরোহন করেন। কিন্তু মন্ত্রীরা অল্পদিনের মধ্যে তাকে সিংহাসনচ্যুত করে জালাল উদ্দীন মোহাম্মদ শাহকে পুনরায় সিংহাসনে বসান। সুলতান জালাল উদ্দীন শাহ ইসলামি অনুশাসন মোতাবেক রাজ্য পরিচালনা করলেও জৌনপুরের সুলতান ইবরাহিম শর্কী বাংলার উপর থেকে ক্রোধকে দমিয়ে রাখতে পারেননি। তাই তিনি ১৪২০ খ্রিস্টাব্দে দ্বিতীয়বার বাংলার রাজধানী গৌড় আক্রমণ করেন। এ যুদ্ধে আশ্রিত রাজা নরমিখলা বিভিন্ন কৌশল প্রয়োগ করে জালাল উদ্দীন মুহম্মদ শাহকে সহযোগিতা করেন। ঐতিহাসিক এপি ফেয়ার নরমিখলার যুদ্ধ কৌশলকে বিস্তারিতভাবে তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন।
বাংলার সুলতানকে আক্রমণকারী হস্তীবাহিনী, অশ্বারোহী বাহিনী, পদাতিক বাহিনী ও শিকারী কুকুর বাহিনীতে সুসজ্জিত ছিল। রাজা নরমিখলা বাংলার প্রতিপক্ষ বাহিনীর অগ্রাভিযানকে প্রতিরোধ করার উদ্দেশ্যে বাংলার সেনাবাহিনীকে নানা প্রকার রণকৌশল প্রশিক্ষণ দেন। হস্তী ও অশ্বারোহী বাহিনীর অগ্রাভিযানকে রোধ করার জন্য অভিযান পথে গভীর গর্ত খনন করে তাতে লোহার সুতীক্ষ্ণ নাল পুঁতে উপরে হালকা কাদামাটির প্রলেপ দিয়ে তার উপর খড়ের আচ্ছাদনে ঢেকে রাখেন। পরে দেখা গেল যে, হস্তী ও অশ্বারোহী বাহিনী আক্রমণের উদ্দেশ্যে গমন কালেই খাদে পড়ে লোহার নালে বিদ্ধ হয়ে আহত হয় এবং মারা যায়। কুকুর বাহিনীর প্রতিরোধের জন্য কাঁচা মাংশের টুকরোর মধ্যে বড়শীর মত বাঁকানো লোহার সুতীক্ষ্ণ হুইল বা হুক গেঁথে দিয়ে অভিযান পথে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রাখা হয়। ফলে পথযাত্রী ক্ষুধার্ত কুকুরগুলো সে মাংস পাওয়া মাত্রই খাওয়া শুরু করে এবং বড়শীর মত সূচ বিদ্ধ হয়ে মারা যায়। রাজা নরমিখলার এ রণকৌশলে জৌনপুরের সুলতান ইবরাহীম শর্কীর বাহিনী সহজেই পরাজিত হয়। বাংলার সুলতান এতে সন্তুষ্ট হয়ে নরমিখলাকে আরাকান রাজ্য পুনরুদ্ধারে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের প্রতিশ্রুতি দেন।” ফলে জৌনপুরের সুলতান নিজ অধিকৃত রাজ্যের কিয়দংশ হারিয়ে পরাজয় বরণ করতে বাধ্য হন। নরমিখলা অন্তর্বর্তীকালীন দীর্ঘ ২৪ বছরে আল্লাহর একত্ববাদসহ অংকশাস্ত্র এবং প্রাকৃতিক বিজ্ঞানের ক্ষেত্রে বৈপ্লবিক জ্ঞান অর্জন করেন।
এখানে একটি প্রশ্ন উত্থাপিত হতে পারে যে, নরমিখলা এত উন্নতমানের রণকুশলী হবার পরও কেন বার্মার কাছে পরাজিত হয়েছিল? উত্তরে বলা যায় যে, প্রথমত; তৎকালীন আরাকানের চেয়ে বার্মা ভুখ-গত দিক থেকে যেমন একটি বৃহত্তম রাজ্য তেমনি সামরিক দিক থেকেও আরাকানের চেয়ে উন্নত ছিল।
দ্বিতীয়ত; রাজা মেংদীর (১২৭৯-১৩৮৫ খ্রি.) পর আরাকানে দক্ষ শাসক কর্তৃক আরাকান শাসিত হয়নি। এ সুযোগে অনেকে জবরদখলকারী হিসেবে আরাকানের শাসন ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয়েছিল। জবরদখলকারী ও উত্তরাধীকারী শাসকদের মধ্যে অবিরাম বহুমুখী দ্বন্দ্বের কারণে রাজ্যের সামরিক শক্তিও লোপ পেয়েছিল। ফলে বার্মারাজ সহজেই সফল হতে পেরেছিল।
তৃতীয়ত; নরমিখলা স্বীয় চাচাকে ক্ষমতা থেকে উচ্ছেদ করে নিজে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা দখল করার ফলে চাচা থিংগাথু (১৪০১-১৪০৪ খ্রি.) নরমিখলার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে ক্ষমতা দখলের প্রচেষ্টা চালিয়েছিল। এ ধরনের উত্তরাধীকারী দ্বন্দ্ব সামাল দিতে গিয়ে তিনি বার্মার বিরুদ্ধে কোন রণকৌশল প্রয়োগ করতে পারেননি। কিংবা বর্মী রাজা সে ধরনের কোন সুযোগই নরমিখলাকে দেননি। ফলে তিনি রণকুশলী হলেও তা প্রয়োগ করতে পারেন নি।
এদিকে বর্মীরাজ মেঙ শো ওয়াই স্বীয় জামাতা কমারুকে অন’রাটা বা অনুরোথ উপাধি দিয়ে আরাকানের সিংহাসনে বসান। কিন্তু পেগুঁরাজ আরাকান আক্রমণ করে নতুন রাজা অনুরোথকে প্রথমে বন্দী ও পরে হত্যা করেন। বর্মীরাজ পুনরায় আরাকান আক্রমণ করে বিজয়ী হন এবং আরাকানী সরদার চেংকাকে শাসনকর্তা নিযুক্ত করেন।
বাংলার সুলতান জালালুদ্দীন মুহাম্মদ শাহ (১৪১৫-১৬; ১৪১৮-১৪৩৩ খ্রি.) ১৪৩০ খ্রিস্টাব্দে ওয়ালী খাঁ (বর্মী ইতিহাসে উলু-খেঙ=Ulu-Kheng) কে নরমিখলার সাথে হৃতরাজ্য পুনরুদ্ধারের জন্য ২০,০০০ (বিশ হাজার) সৈন্যসহ প্রেরণ করলে ওয়ালী খাঁ বিশ্বাসঘাতকতা করে চেংকা নামক জনৈক সামন্তের সাথে যোগসাজসে নরমিখলাকে বন্দী করে নিজেকে সুলতান হিসেবে ঘোষণা করেন।
প্রফেসর আবদুল করিম বৃটিশ মিউজিয়ামে সংরক্ষিত মুবারিজ শাহ সুলতান চতকঁও -এর নয়টি মুদ্রার পাঠ নতুন করে পরীক্ষা ও বিশ্লেষণপূর্বক সেনাপতি ওয়ালা খাঁ ও মুবারিজ শাহকে এক ব্যক্তি হিসেবে প্রমাণ করেন। তাঁর মতে সেনাপতি ওয়ালা খাঁ ও নরমিখলা বাংলার সুলতান অধিকৃত চট্টগ্রামে পৌঁছেন। আরাকানের সামন্ত চেংকা আরাকানকে বাংলার সুলতানের আক্রমন থেকে রক্ষা করার উদ্দেশ্যে ওয়ালী খাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করে ষড়যন্ত্রের জাল বিস্তারপূর্বক সেনাপতি ওয়ালী খাঁকে চট্টগ্রাম একটি রাজ্য স্থাপন করতে প্রলোভন দেয়। সেই সাথে ওয়ালি খাঁকে আশ্বস্ত করে যে, বাংলার সুলতানকে মোকাবেলা করার জন্য প্রয়োজনে বার্মা রাজার সহায়তা প্রদানের ব্যবস্থা করা হবে। সে সূত্রে ওয়ালী খাঁ নরমিখলাকে বন্দী করে এবং নিজে মুবারিজ শাহ সুলতানে চতকঁও উপাধি গ্রহণপূর্বক চট্টগ্রামে একটি স্বাধীন রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন। মূলত সে উপলক্ষেই উক্ত মুদ্রাগুলো উৎকীর্ণ করা হয়েছিল। এছাড়া ওয়ালী খাঁ ছিলেন সুলতানের প্রতিনিধি। তিনি রাজ্য স্থাপন করে নিজেকে সুলতানে চতকঁও বলে ঘোষণা করেন। তাঁর স্বাধীন চট্টগ্রাম রাজ্যের স্থায়িত্বকাল ছিল এক বছরেরও কম।
নরমিখলা কৌশলে গৌড়ে পালিয়ে এলে সুলতান জালালুদ্দীন মুহাম্মদ শাহ সেনাপতি সিন্ধি খানের নেতৃত্বে ৩০,০০০ (ত্রিশ হাজার) সৈন্য দিয়ে ওয়ালী খানকে শায়েস্তা করে স্বদেশভূমি উদ্ধারের জন্য নরমিখলার সাহায্যে প্রেরণ করেন। তিনি বিশ্বাসঘাতক ওয়ালী খাঁকে পরাজিত ও হত্যা করে তার মাথা কেটে, গায়ের চামড়া খুলে সুলতানের কাছে পাঠিয়ে দেন। নরমিখলা সোলায়মান শাহ নাম ধারণ করে আরাকানের সিংহাসনে অধিষ্ঠিত হয়ে  লঙ্গিয়েত থেকে ম্রোহং এ রাজধানী স্থানান্তর করেন এবং ম্রাউক-উ রাজবংশ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে বাংলার করদরাজা হিসেবে শাসনকার্য পরিচালনা শুরু করেন।
আরাকানে রাষ্ট্রীয়ভাবে ইসলামের প্রসার-১ : আরাকান প্রশাসনে ইসলামের প্রভাব বিস্তারের মূলধারা শুরু হয় নরমিখলা ওরফে সোলায়মান শাহের রাজত্বকালে। তিনি দীর্ঘ ২৪ বছর (১৪০৬-১৪৩০ খ্রিস্টাব্দ) বাংলার সুলতানদের আশ্রয়ে থেকে ১৪৩০ খ্রিস্টাব্দে জালাল উদ্দীন মুহাম্মদ শাহের সহযোগিতায় পিতৃরাজ্য আরাকান পুনরুদ্ধার করেন। বাংলার সুলতান দুপর্বে তাকে যে পঞ্চাশ হাজার সৈনিক দিয়ে রাজ্য পুনরুদ্ধারে সহযোগিতা করেছিলেন তার অধিকাংশ সৈনিকই ছিল মুসলমান। নরমিখলা আরাকানের রাজধানী লংগিয়েত পুনরুদ্ধার করে তাড়াতাড়ি সৈনিকদেরকে বাংলায় ফেরত দেবার পক্ষপাতি ছিলেন না; কেননা বার্মা রাজা পুনঃআক্রমণ করলে তা মোকাবেলা করার মত সুলতান প্রেরিত সৈনিক ছাড়া কোন বিকল্প শক্তি তাঁর হাতে ছিল না। নরমিখলা প্রায় তিন বছর লংগিয়েতকে রাজধানী রেখে আরাকান শাসন করলেও বর্মীদের হাতে নিজকে নিরাপদ মনে করতে পারেননি। তাই তিনি ১৪৩৩ খ্রিস্টাব্দে লংগিয়েত থেকে স্থানান্তর করে আকিয়াব জেলার লেম্রু নদীর তীরবর্তী বর্তমান পাথুরে কেল্লা বলে পরিচিত প্রাচীন ম্রাইক-উ নগরীতে ম্রোহং নাম দিয়ে নতুন রাজধানী স্থাপন করেন। এ সময় থেকে ১৭৮৪ খ্রিস্টাব্দে বর্মীরাজা বোধাপায়া কর্তৃক আরাকান দখলের পূর্ব পর্যন্ত প্রায় ৩৫২ বছরকাল ম্রোহংই আরাকানের রাজধানী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত ছিল। নরমিখলা ম্রোহংয়ে নতুন রাজধানী স্থাপন করার পর যে নতুন রাজবংশের সূচনা হয় তা প্রাচীন ম্রাউক-উ নগরের নামানুসারে ম্রাউক-উ রাজবংশ হিসেবে খ্যাত হয়।
সোলায়মান শাহ নতুন রাজধানী ম্রোহংকে সুরক্ষার নিমিত্তে বাংলার সেনাবাহিনীকে আরাকানের রাজধানীতেই স্থায়ীভাবে বসবাসের জন্য উৎসাহিত করেন। এ নিমিত্তে তিনি রাজধানীর দক্ষিণ-পূর্ব দিকে বাংলার সেনাসদস্যদের বসবাসের জন্য সেনাছাউনী নির্মাণ করেন। সেইসাথে মুসলমানদের মৌলিক ইবাদত ‘নামাজ’ আদায়ের জন্য গৌড়ীয় স্থাপত্যরীতিতে একটি মসজিদ নির্মাণ করেন; পরবর্তীকালে এটি সন্ধিখান মসজিদ নামে খ্যাতি লাভ করে। বাংলার অধিকাংশ মুসলিম সৈন্য ম্রোহংয়ের সেনাক্যাম্পেই থেকে যান এবং তাঁদের অনেকেই স্থানীয় মহিলাদের বিয়ে করে আরাকানের স্থায়ী অধিবাসী হিসেবে বসবাস করতে থাকেন। ফলে আরাকানে ইসলাম প্রচার ও প্রসারে উপরোক্ত পরিস্থিতিসমূহ বিশেষ ভূমিকা পালন করে।
উল্লেখ্য যে, অন্যত্র যে কোন স্থান থেকে আরাকানে আগত লোকদেরকে রাজ্যে সাদরে বসতি স্থাপনের জন্য অনুমতি দেয়া আরাকানের রাষ্ট্রনীতির একটি মৌলিক বৈশিষ্ট্য হয়ে পড়েছিল। তারা যুদ্ধে প্রাপ্ত বন্দীদেরকে কৃষিক্ষেত্রে শ্রমিকরূপে নিয়োগ করত এবং আরাকানী মহিলা বিবাহপূর্বক দেশে স্থায়ীভাবে বসবাসে বাধ্য করত। আরাকানী মহিলাকে বিবাহের পর স্বামীকেও আরাকানী বলে গণ্য করা হতো এবং তার স্ত্রী-পুত্রকে নিজ দেশে নিয়ে যাওয়ার অনুমতি ছিল না। আরাকানে আগত লোকদের মধ্যে  উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ছিল মুসলমান। কেননা হিন্দু ও বৌদ্ধরা সমুদ্র ভ্রমণ ও বিদেশ বাণিজ্যে বেশী আগ্রহী ছিল না। মুসলমানগণ বাণিজ্য ও দীন প্রচারের জন্য বিদেশ ভ্রমণে বেশী তৎপর ছিলেন। ফলে আগত লোকদের অধিকাংশই ছিল মুসলমান।
নরমিখলা বাংলায় আশ্রয় নেবার পর আরাকানে ক্ষমতার দ্বন্দ্বে ব্যাপক যুদ্ধ বিগ্রহ হবার কারণে অনেক পুরুষ সৈনিক মারা যায়। ফলে বিধবা মহিলার সংখ্যা আরাকানে অনেক বেশী ছিল; যা নরমিখলা কর্তৃক আরাকান দখলের পর মুসলিম সেনাবাহিনীর প্রয়োজন পূরণে সহায়ক হয়েছে। মুসলিম সৈনিকগণ রাজধানী ম্রোহং কেন্দ্রীক বসবাস শুরু করার ফলে সেখানে মুসলিম বসতি গড়ে ওঠে; যা কোয়ালং বা গডলংগী নামে পরিচিত হয়। ক্রমশ এ বসতি লেম্রু নদীর তীরবর্তী বন্দরে ছড়িয়ে পড়ে এবং পরবর্তীতে রওয়ামা, নেদান পাড়া, মোয়াল্লেম পাড়া, সম্ফুচিক, ফুয়িপাড়া, কামার পাড়া প্রভৃতি অঞ্চলে মুসলিম প্রভাবিত বসতি গড়ে ওঠে। এ সকল অঞ্চলে ৭টি পাকা মসজিদের ধ্বংসাবশেষ থাকলেও বর্তমানের বর্মী সামরিক সরকার বুলডোজার দিয়ে ধ্বংসের মাধ্যমে তা অস্তিত্বহীন করে ফেলেছে।
রাজধানী ম্রোহংকে সুরক্ষিত করার পাশাপাশি বার্মারাজ্যের সীমান্তবর্তী দক্ষিণ আরাকানের স্যান্ডোয়ে (চাঁদা) ও চকপিয় (কেপ্রু) সীমান্তের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করার উদ্দেশ্যে সেখানে দুটি গৌড়ীয় বাহিনীর সেনানিবাস স্থাপন করা হয়। তারাও স্থানীয় মহিলাদের বিয়ে করে সেখানকার স্থায়ী বাসিন্দা হয়ে যায়। তাদের বংশ বিস্তারের ফলে পরবর্তীকালে স্যান্ডোয়ের শোয়েজুঁবি, চানবী, নাজাবঁীঁ, চংদয়ক, থাডে, ছায়াডো, সিনবিনও, চকপিয়ুর ছনে, জালিয়াপাড়া, মেহেরবনু প্রভৃতি নামের বহু মুসলিম জনপদ গড়ে ওঠে। নরমিখলা কর্তৃক আরাকান পুনরুদ্ধারের পর বাংলার সেনাদের পাশাপাশি চট্টগ্রাম অঞ্চলের অনেক মুসলমানও আরাকানে বসতি স্থাপন করেছেন। এভাবে সেখানে ব্যাপকভাবে মুসলিম জনবসতি গড়ে ওঠে।
নরমিখলা ওরফে সোলায়মান শাহ স্বীয় রাজ্য পুনরুদ্ধার করেই শাসন ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন করেন। মুদ্রা প্রচলনে তৎকালীন বাংলার খুব সুনাম ছিল। সোলায়মান শাহ বাংলার সুলতানদের অনুকরণে মুদ্রার প্রচলন করেন; যার এক পীঠে ফারসি অক্ষরে কালেমা ও শাসকের মুসলমানী নাম লেখা ছিল। রাজদরবারে মদপান মুক্ত রেখে রাজদরবারকে পবিত্র অঙ্গন মনে করে সেখানে অনৈতিক কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ করেন। সেইসাথে ইসলামের উদারনীতি গ্রহণ করে জাতি ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে যোগ্যতা অনুসারে সকলকে রাজ্যের বিভিন্ন দায়িত্বে নিয়োজিত করেন। এভাবে তিনি দরবারের আদব কায়দা ও রাষ্ট্র পরিচালনার নীতিমালাতে বাংলার অনুকরণে ইসলামি ভাবধারা চালু করেন। বাংলায় আশ্রিত  ২৪ বছরে সোলায়মান শাহ কুরআন, হাদিস ও ফিকাহ শাস্ত্রে যে পান্ডিত্য অর্জন করেছিলেন তার প্রভাব শাসন পরিচালনার ক্ষেত্রে পরিস্ফুটিত হয়েছিল। এর ফলেই অনেক লেখক সোলায়মান শাহকে একজন বিশ্বাসী মুসলমান হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। তবে বাস্তবিক পক্ষে তিনি কায়মনে ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন কিনা তা এখনো সন্দেহাতীত নয়। কেননা, মুসলিম নাম গ্রহণের পর তিনি বৌদ্ধ নামকে পরিত্যাগ করেননি। এমনটিও হতে পারে যে, বাংলার করদরাজা হিসেবে শাসন পরিচালনা করার কারণে বাংলার সুলতানদের খুশি রাখার জন্যই তিনি সোলায়মান শাহ নাম ধারণ করে মুসলিম রীতিনীতির প্রচলন করেছিলেন।
সোলায়মান শাহ বাংলার সুলতান জালাল উদ্দীন মুহাম্মদ শাহের করদরাজা ছিলেন এ ব্যাপারে তেমন কোন মতানৈক্য লক্ষ্য করা যায় না। কিন্তু সোলায়মান শাহের পরবর্তী সুলতানগণ বাংলার সুলতানদের করদরাজা হিসেবে শাসন করেছেন কিনা এ নিয়ে মতপার্থক্য পরিলক্ষিত হয়। কোন কোন গবেষক সোলায়মান শাহের পরে প্রায় একশত বছর (১৪৩০-১৫৩০) সময়কালের এগার জন রাজাকে বাংলার করদরাজা হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তারা যুক্তি হিসেবে শাসকদের বৌদ্ধনাম ব্যবহারের পাশাপাশি মুসলিম নাম গ্রহণ ও রাষ্ট্রীয় অবকাঠামোতে বাংলার অনুকরণে ইসলামি প্রভাবের প্রতিফলনের কথা উপস্থাপন করে থাকেন। আবার অনেক গবেষক শুধুমাত্র সোলায়মান শাহকে বাংলার করদ রাজা হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তাদের মতে শুধুমাত্র সোলায়মান শাহই বাংলার সুলতান জালাল উদ্দীন মুহাম্মদ শাহের সহযোগিতার কৃতজ্ঞতা স্বরূপ নিজকে সামন্ত শাসক হিসেবে মনে করতেন। তবু এ ব্যাপারে লিখিত কোন চুক্তিও ছিলনা। ১৪৩২ খ্রিস্টাব্দে জালাল উদ্দীন মুহাম্মদ শাহ মৃত্যুবরণ করলে বাংলার পরবর্তী সুলতান শামস উদ্দীন আহমদ শাহের (১৪৩২-১৪৩৬) সাথে নতুন করে মৌখিক কিংবা লিখিত চুক্তির বর্ণনা পাওয়া যায়না। তাছাড়া শুধুমাত্র বাংলার অনুকরণে শাসকদের মুসলিম নাম গ্রহণ, ও অশ্লীলতা ও শূরামুক্ত অভিষেক অনুষ্ঠান পালন, বিচার ব্যবস্থা কার্যকর করতে কাজী ও জল্লাদ প্রথার প্রচলন প্রভৃতি সামন্ত রাজা হবার প্রমাণ হিসেবে যথেষ্ট নয়। কেননা যদি একশত বছরই সামন্ত রাজা হিসেবে শাসন করত তবে প্রায় দু’শো বছর পর্যন্ত তারা কেন মুসলিম নাম ব্যবহার করেছিল।
তাছাড়া এ সময় বাংলার সুলতানদের সাথে আরাকান রাজাদের দ্বন্দ্ব-সংঘাত সব সময় লেগেই থাকত। সেইসাথে আরো উল্লেখ করা যায় যে, আরাকানের রাজারা কখনো বাংলার সুলতানদের নামে মুদ্রা প্রচলন করেননি। সামন্ত শাসক হলে বাংলার সুলতানদের নামে মুদ্রার প্রচলন হওয়া স্বাভাবিক ছিল। তাই বলা যায়, আরাকানের রাজারা বাংলার সুলতানদের সামন্ত শাসক ছিলেন না বরং বাংলার মুসলমানদের উন্নত আদর্শ ও সভ্যতাই তাদেরকে বাস্তবায়নে অনুপ্রাণীত করেছিল। আরাকানের রাজাদের মুসলিম নাম ব্যবহার এবং রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থায় মুসলিম রীতিনীতির প্রয়োগ বাধ্যতামূলক ছিলনা। কারণ বাধ্যতামূলক হলে পরবর্তীতে আরাকানের রাজাগণ স্বাধীনতা লাভ করেও তাদের মুসলিম নাম গ্রহণের কোন যুক্তি সঙ্গত কারণ থাকতে পারেনা। মূলত শ্রেষ্ঠ মানব সম্প্রদায়ের আদর্শে অনুন্নত জাতির সভ্যতা, আচার ব্যবহার, রীতিনীতি, চলাফেরা, আদব-কায়দা, বেশভূষা, মতবাদ সমস্ত কিছুই নিয়ন্ত্রিত হয়। বর্তমানকালে আমরা যেমন সর্ব বিষয়ে ও সর্বক্ষেত্রে পাশ্চাত্য সভ্যতাকে অনুসরণ করছি তেমনি সেকালেও মুসলিম সভ্যতার অনুসরণ করা সর্বত্র ফ্যাশনে পরিণত হয়েছিল। মোগল পাঠান সভ্যতার অনুকরণে আরাকানের  রাজারা স্বাধীনতা অবলম্বন করেও আপন আপন বৌদ্ধ নামের সাথে মুসলিম নাম গ্রহণ, কালেমা খচিত মুদ্রা উৎকীর্ণ করা এবং রাষ্ট্রীয় রীতিনীতিতে ইসলামের অনুশাসন প্রয়োগ গৌরবজনক মনে করতেন। সুতরাং সোলায়মান শাহ কৃতজ্ঞতা বশত নিজকে বাংলার সুলতানদের সামন্ত শাসক হিসেবে মনে করলেও পরবর্তী অন্য কোন আরাকানী শাসক তা মনে করেননি। কিন্তু এ বিষয়ে কোন মতের স্বপক্ষেই উল্লেখযোগ্য কোন দলীল দস্তাবেজ না থাকায় বিতর্কের উর্ধ্বে উঠা সম্ভব হচ্ছে না।
আরাকানী শাসকগণ মুসলমানী নাম গ্রহণপূর্বক রাষ্ট্রীয় বিচারকার্যে কাজী নিয়োগ ও দরবারী আদব কায়দায় ইসলামি অনুশাসনের বাস্তবায়নকে সামনে রেখে নরমিখলা কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত আরাকানের ম্রাউক-উ-রাজবংশকে অনেক গবেষকই আরাকানে মুসলিম শাসনের যুগ বলে উল্লেখ করেন। শুধুমাত্র নরমিখলার শাসনের পূর্ব পর্যন্ত অর্থাৎ ৯৫৭-১৪৩০ সাল পর্যন্ত আরাকানকে তাঁরা বৌদ্ধ রাষ্ট্র মনে করেন। তাঁদের কারো মতে, বিভিন্ন সময়ে মুসলমানরা বিভিন্নভাবে ইসলাম প্রচারের কাজকে তরান্বিত করে এবং ত্রয়োদশ শতাব্দীর মধ্যেই তারা সালতানাত গঠনের মত শক্তি সামর্থ অর্জন করে ইসলামের যুগস্রষ্টা ও শক্তিশালী মূল্যবোধকে মানুষের মাঝে ছড়িয়ে দিতে সক্ষম হয়েছিলেন। তারা মনে করেন ম্রাউক-উ বংশের শাসনাকালের (১৪৩০-১৭৮৫ খ্রি.) মধ্যে ১৪৩০-১৭৮৪ খ্রিষ্টাব্দের এ দু’শো আট বছরকে আরাকানের ‘মুসলিম শাসনের স্বর্ণযুগ’ বলা যায়। হিন্দু, বৌদ্ধ ও পর্তুগিজ নির্বিশেষে সবাই প্রত্যক্ষ করেছিল যে, আরাকান একটি স্বাধীন মুসলিম রাষ্ট্র। মুসলিম শাসনামলের দু’শো বছরে আরাকানে শুধু মুসলমানদেরই নয় বরং সকলের ভাগ্যের উন্নয়ন ঘটেছিল। বহির্বিশ্বের সাথে সম্পর্ক বেড়েছিল, ব্যবসা-বাণিজ্যের উন্নতি হয়েছিল; ফলে বিভিন্ন দেশের লোকজন ভাগ্যের উন্নয়নের জন্য আরাকানে এসে ভিড় করেছিল।
বস্তত পক্ষে বাংলা-বার্মার রাজা ও সাধারণ জনগণের দৃষ্টি আরাকানের প্রতি আকৃষ্ট হয়েছিল। ইসলামি জ্ঞান বিজ্ঞান চর্চা এতদুর এগিয়েছিল যে, কোন মুসলিম রাজার সিংহাসনে আরোহণের পূর্বে অভিজ্ঞ আলেমের নিকট দশ বছরকাল কুরআন হাদিস শিক্ষা নিয়ে ইসলামি জ্ঞানে বিশেষজ্ঞ হতে হতো। তখন আরাকানের জাতীয় পতাকা, মুদ্রা ও পদকে ঈমানের চিহ্ন স্বরূপ কালেমা এবং পৃথিবীর উপর আল্লাহর শাসন কায়েমের অর্থবহনকারী ‘আকিমুদ্দীন’ এর ছাপ থাকতো, রাষ্ট্রীয় ভাষা হিসেবে ফারসি গ্রহণ করা হয়েছিল; যা ১৮৪৫ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত অর্থাৎ আরাকান বৃটিশ শাসনাধীনে আসার পরও ২২ (বাইশ) বছর পর্যন্ত চালু ছিল। কিন্তু ইতিহাস গবেষক আবদুল হক চৌধুরী এটাকে অলীক ধারণা বলে আখ্যা দিয়ে উল্লেখ করেন যে, শাসকগণ অবশ্যই বৌদ্ধ ধর্মের অনুসারী ছিল। তবে তারা বৌদ্ধ ধর্মের অনুসারী হলেও ইসলামের প্রতি যে উদার দৃষ্টিভঙ্গী পোষণ করতেন এতে কোন সন্দেহ নেই। এমনকি তারা উন্নত পোশাক পদ্ধতি, রান্নাবান্না, পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা, নিয়মানুবর্তিতা, উদার দৃষ্টিভঙ্গীর লালন, পররাষ্ট্রনীতির প্রয়োগসহ বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের পাশাশাশি নিজেরাও ব্যক্তিগতভাবে ইসলামের বৈষয়িক আদর্শের চর্চা অব্যাহত রেখেছিলেন। আরাকানের মোট ১৮ জন রাজার মুসলমানী নাম পাওয়া গেছে।  তারমধ্যে নরমিখলা বা সোলায়মান শাহ থেকে শুরু করে রাজা থিরি থু ধম্মা বা দ্বিতীয় সেলিম শাহ পর্যন্ত মোট ১৬ জন রাজা মুসলমানী নাম গ্রহণ করেছিলেন। (চলবে)
(লেখক : প্রফেসর, ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, mrakhanda@gmail.com)

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ