ঢাকা, শনিবার 6 January 2018, ২৩ পৌষ ১৪২৪, ১৮ রবিউস সানি ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

খুলনায় বিএনপির কালো পতাকা মিছিলে পুলিশের লাঠিচার্জ 

খুলনা : জানুয়ারি গণতন্ত্র হত্যা দিবস উপলক্ষে নগরীর কেডি ঘোষ রোডস্থ দলীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে মহানগর বিএনপির নেতাকর্মীরা কালো পতাকা মিছিল বের করার সময় পুলিশের বাঁধা প্রদান

খুলনা অফিস : ৫ জানুয়ারি গণতন্ত্রের কালো দিবস উপলক্ষে খুলনায় বিএনপি আয়োজিত সমাবেশে আসা মিছিলে বিনা উস্কানিতে পুলিশ লাঠিচার্জ করলে পুলিশ ও নেতাকর্মীদের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। প্রায় আধাঘণ্টা ধরে সংঘর্ষের সময় নগরীর কেডি ঘোষ রোড ও বিএনপি অফিস এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। এতে বিএনপির ১৪ নেতাকর্মী গুরুতর আহত হয়। এ সময় পুলিশ পাঁচ নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করে বেদম প্রহারের পর থানায় নিয়ে যায়। শুক্রবার সকাল সোয়া ১১টার দিকে খুলনা সদর থানার মোড়ে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি এক তরফা প্রহসনের নির্বাচনের মাধ্যমে রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ। দিবসটিকে গণতন্ত্রের কালো দিবস হিসেবে পালন করছে বিএনপি। এবার কেন্দ্র থেকে দিবসটি পালনে কালো পতাকা মিছিল কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। শুক্রবার সকাল ১১টায় কে ডি ঘোষ রোডে দলীয় কার্যালয়ের সামনে খুলনা মহানগর বিএনপির সমাবেশ শুরু হয়। বিভিন্ন ওয়ার্ড ও থানা থেকে খন্ড খন্ড মিছিল কর্মসূচিতে যোগ দেয়। তবে আগেই পুলিশের নির্দেশ ছিল-কালো পতাকা বহন করা যাবে না, মিছিল করা যাবে না, শ্লোগান দেয়া যাবে না। সকাল সোয়া ১১ টায় খালিশপুর থানা বিএনপির একটি মিছিল পিকচার প্যালেস মোড় হয়ে থানার মোড়ে পৌঁছালে সেখানে দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যরা বিনা উস্কানিতে অতর্কিতে মিছিলের পেছনে লাঠিচার্জ শুরু করে। অতর্কিত হামলায় নেতাকর্মীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে ছোটাছুটি শুরু করলে সমাবেশস্থলে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পুলিশ খালিশপুরের ৮ নং ওয়ার্ড বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আসাদুজ্জামান আসাদকে বেধড়ক পেটালে তার জামা ছিড়ে ফেলে। এ অবস্থায় তিন পুলিশ সদস্য পেটাতে পেটাতে থানার ভেতরে নিয়ে যায়। একই স্থান থেকে যুবদল নেতা মেহেদী হাসান, রুহুল, লিপু মল্লিক ও কুদ্দুসকে গ্রেফতার করে পুলিশ। এ সময় দৌলতপুর থানা যুবদল নেতা জি এম মাসুদুল হক মাসুমের মোবাইল ফোনটি তার হাত থেকে এক পুলিশ কেড়ে নেয় গেছে বলে মাসুম দাবি করেন। পুলিশের বেধড়ক লাঠিচার্জ এবং নেতাকর্মীদের ইটপাটকেল ও চেয়ার নিক্ষেপের সময় অন্তত ১৪ নেতাকর্মী গুরুতর আহত হন। এদের মধ্যে খালিশপুর থানা নেতা আল আমিনের পা ভেঙ্গে যায়। তাকে স্থানীয় একটি ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়েছে। পুলিশের লাঠির আঘাতে বিউটি বেগম ও হোসনে আরা আহত হয়েছে। 

উত্তেজনাকর পরিস্থিতির ভেতরে বিক্ষুব্ধ কর্মীদের উদ্দেশ্যে বক্তব্য রাখতে গিয়ে বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও খুলনা মহানগর সভাপতি সাবেক এমপি নজরুল ইসলাম বলেন, বিএনপিকে রাজপথে দেখলে শেখ হাসিনার পতন আতঙ্ক শুরু হয়। অবৈধ অনির্বাচিত সরকারকে ক্ষমতায় টিকিয়ে রাখতে পেটোয়া পুলিশ বাহিনী বিএনপির ওপর হায়েনার মতো হামলে পড়ে। তিনি বলেন, হামলা চালিয়ে, মামলা দিয়ে, জেলে পুরে খুলনা বিএনপির নেতাকর্মীদের দমন করা যাবে না। আমার ৬৪ মামলায় ১২৮ চার্জশিটের আসামী। আরো একশ মামলার আসামী হওয়ার জন্য আমরা প্রস্তত। আমাদের মামলার ভয় দেখাবেন না। পুলিশকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, খুলনা মাটি বিএনপির ঘাটি। এখানে চাকরি করতে হলে প্রজাতন্ত্রের সেবা করতে হবে। এখানে বসে অবৈধ সরকারের তাবেদারি করা চলবে না। 

তিনি আরো বলেন, ৫ জানুয়ারি কোন মানুষ ভোট দিতে কেন্দ্রে যায়নি। ফাঁকা কেন্দ্রে কুকুর আর প্রিজাইডিং অফিসারদের ঘুমিয়ে থাকার ছবি পত্রিকায় ছাপা হয়েছে। আজ যিনি নিজেকে প্রধানমন্ত্রী দাবি করেন, তিনি নিজেও ভোট দেননি, কোন ভোটারেরও তাকে ভোট দেয়ার প্রয়োজন হয়নি। এই প্রহসনের সরকার জনগন মানেনা। তিনি জানান, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া শিগগিরই আন্দোলনের ডাক দেবেন। সেই আন্দোলনের জন্য প্রস্তত হতে নেতাকর্মীদের আহ্বান জানান তিনি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ