ঢাকা, শনিবার 6 January 2018, ২৩ পৌষ ১৪২৪, ১৮ রবিউস সানি ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

খুলনার রাষ্ট্রায়ত্ত ৮ পাটকলের বকেয়া মজুরি প্রদানে অনিশ্চয়তা

 

খুলনা অফিস : খুলনা অঞ্চলের রাষ্ট্রায়ত্ত আটটি পাটকলের শ্রমিকদের বকেয়া মজুরি প্রদান নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। বিক্রি করা পাটজাত পণ্যের টাকা না পাওয়া পর্যন্ত মজুরি দেয়া সম্ভব হবে না বলে জানিয়েছেন মিল কর্তৃপক্ষ। কিন্তু কবে টাকা পাওয়া যাবে তা নিশ্চিত করে তারা বলতে পারছেন না। আর শ্রমিকরা বকেয়া মজুরির সব টাকা এক সাথে না পাওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। 

গত ২৮ ডিসেম্বর শুরু হওয়া কর্মবিরতি অব্যাহত রয়েছে। শ্রমিক আন্দোলনের কর্মবিরতি চলাকালে খালিশপুর শিল্পাঞ্চলে সড়ক অবরোধ, টায়ারে অগ্নিসংযোগ করে বিক্ষোভ করেছে শ্রমিকরা। বৃহস্পতিবার ক্রিসেন্ট, স্টার, ইস্টার্ণ, খালিশপুর ও দৌলতপুর জুট মিলে শ্রমিকদের এক সপ্তাহের মজুরি প্রদান করা হলেও হয়নি প্লাটিনাম, আলীম ও জেজে আই জুট মিলে। তবে বকেয়া সব মজুরি এক সাথে না পাওয়া পর্যন্ত তারা কাজে ফিরে যাবেন না বলে জানিয়েছেন অভুক্ত শ্রমিকরা।  

এদিকে প্লাটিনাম ও খালিশপুর জুট মিলের শ্রমিকরা বৃহস্পতিবার দুপুর থেকে স্থানীয় দোকানী ও ইজিবাইক চালকদের কাছ থেকে কিছু টাকা তোলেন। আর সেই টাকা দিয়ে নোঙ্গরখানা খুলে নিজেরা খিচুড়ি রান্না করে খাওয়ান অভুক্ত শ্রমিকের পরিবারকে। 

শ্রমিকরা জানান, বকেয়া মজুরি প্রদানের দাবিতে গত ২৮ ডিসেম্বর সকালে খুলনার রাষ্ট্রায়ত্ত ক্রিসেন্ট, প্লাটিনাম, স্টার, ইস্টার্ণ, দৌলতপুর ও যশোরের জেজেআই জুট মিলের শ্রমিকরা উৎপাদন বন্ধ করে দেয়। আর সন্ধ্যায় আলিম জুট মিল এবং ৩০ ডিসেম্বর সকালে খালিশপুর জুট মিলের শ্রমিকরাও উৎপাদন বন্ধ করে দেয়। এই ৮টি পাটকলে পাটজাত পণ্য উৎপাদন এখনও বন্ধ রয়েছে। শুধুমাত্র যশোরের রাষ্ট্রায়ত্ত কার্পেটিং জুট মিলের শ্রমিকরা উৎপাদন অব্যাহত রেখেছে। 

জানা গেছে, এ অঞ্চলের ৯টি পাটকলে ২৬ হাজার ৭১৮ জন শ্রমিকের ৪ থেকে ১২ সপ্তাহের মজুরি বকেয়া রয়েছে। সব মিলিয়ে শ্রমিকদের পাওনার পরিমাণ ৪০ কোটি ৬৮ লাখ টাকা। ৯টি পাটকলে বর্তমানে ২১ হাজার ৪৭৪ মেট্রিক টন পাটজাত পণ্য বিক্রির অপেক্ষায় পড়ে রয়েছে। যার মূল্য প্রায় ২১৫ কোটি টাকা। 

শ্রমিকরা জানায়, খুলনা-যশোর অঞ্চলের রাষ্ট্রায়ত্ত ৮ পাটকল শ্রমিকরা বকেয়া মজুরি-বেতনসহ ১১ দফা দাবি আদায়ে রাজপথে আন্দোলন অব্যাহত রেখেছে। ২৮ ডিসেম্বর থেকে বন্ধ রয়েছে এ অঞ্চলের ৮টি পাটকলের উৎপাদন। পাটকল শ্রমিকরা তাদের বকেয়া মজুরি না নিয়ে ঘরে ফিরে যাবে না বলে ঘোষণা দিয়েছে। 

প্লাটিনাম জুবিলি জুট মিলের শ্রমিকরা জানান, শুধুমাত্র জুবিলি জুট মিলের শ্রমিকদের জন্য বৃহস্পতিবার থেকে নোঙ্গরখানা চালু করা হয়। প্রাথমিকভাবে সাধারণ শ্রমিকদের পক্ষ থেকে চাল-ডাল প্রদান করে তা রান্না করে বিতরণ করা হয়। প্রথম দিন ৫-৬শ’ শ্রমিককে খাবার দেয়া হয়।

আলীম জুট মিলের সিবিএ সভাপতি মো. সাইফুল ইসলাম লিটু বলেন, মিলের শ্রমিকরা না খেয়ে রয়েছে। তাদের পরিবারে অসন্তোষ বিরাজ করছে। এ অবস্থায় শ্রমিকরা বাধ্য হয়েই আন্দোলনে নেমেছে। বৃহস্পতিবার বিকেলে খালিশপুরে খুলনা-যশোর অঞ্চলের রাষ্ট্রায়ত্ত সকল পাটকলের সিবিএ নেতাদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠক শেষে ফের বিজেএমসির আঞ্চলিক কার্যালয়ে লিয়াজোঁ কর্মকর্তার সাথে বৈঠক হয়েছে। তিনি কর্মবিরতি প্রত্যাহারের অনুরোধ জানিয়েছেন। তবে শ্রমিকরা মজুরি না পেয়ে কাজে যোগদান করবে না বলে ঘোষণা দিয়েছে। 

প্লাটিনাম জুট মিলের সাবেক সভাপতি খলিলুর রহমান বলেন, এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে আন্দোলন করার পরও বিজেএমসি কোনো পদক্ষেপ না নেয়ায় শ্রমিকরা এখন ক্ষোভে ফুঁসছে। শ্রমিকদের ন্যায্য পাওনা পরিশোধে কর্তৃপক্ষ তালবাহানা করছে। শ্রমিকদের বকেয়া মজুরির সব টাকা এক সাথে পরিশোধ না করা পর্যন্ত তারা কাজে ফিরে যাবেন না। 

খালিশপুর জুট মিলের সিবিএ কার্যকরী সভাপতি মো. মিজানুর রহমান মানিক বলেন, বৃহস্পতিবার এক সপ্তাহের মজুরি দিয়েছে মিল কর্তৃপক্ষ। তবে বকেয়া সকল বিল না দেয়া পর্যন্ত শ্রমিকরা কাজে ফিরবে না।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ