ঢাকা, শনিবার 6 January 2018, ২৩ পৌষ ১৪২৪, ১৮ রবিউস সানি ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

চলনবিলে চলছে শীতের পিঠা খাওয়ার উৎসব

তাড়াশ (সিরাজগঞ্জ): শীতের পিঠা

তাড়াশ সিরাজগঞ্জ থেকে শাহজাহান : চলনবিলের প্রতিটি বাড়িতে এখন শীতের পিঠা খাওয়ার ধুম চলছে। গ্রাম বাংলার ঐহিত্যবাহী ঢেঁকিতে চালের গুড়া তৈরীর কাজে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন চলনবিলের সিরাজগঞ্জ, পাবনা ও নাটোরের  উপজেলার প্রতিটি বাড়ির গৃহিণীরা। শীতের বিভিন্ন পিঠা খাওয়ার উৎসবকে কেন্দ্র করেই প্রতিটি এলাকা ঢেঁকিতে চাল ভাঙানোর ধুম পড়ে  গেছে।
পিঠা তৈরির প্রধান উপকরণ চালের গুঁড়া কুটতে  ঢেঁকিওয়ালাদের বাড়িতে ভোর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ভিড় জমাচ্ছেন প্রতিবেশী গৃহিণীরা। জামাই-ঝিঁ সহ আত্মীয়স্বজনদের নিয়ে পিঠা খাওয়ার উৎসবে মেতে উঠেছেন সবাই। চলনবিলের তাড়াশ, রায়গঞ্জ, উল্লাপাড়া, সলঙ্গা, চাটমোহর, সিংড়া, গুরুদাসপুর উপজেলা ঘুরে দেখা গেছে, ঢেঁকির সংখ্যা ক্রমশ কমে যাওয়ায় শীতকালীন পিঠা খাওয়ার উৎসব উপলক্ষে ঢেঁকিওয়ালাদের বাড়িতে মহিলাদের চরম ভিড় লক্ষ্য করা  গেছে। অথচ আগের আমলে দেখা গেছে ঢেঁকি পাড়  দেওয়ার সময় মহিলারা বিভিন্ন সুরে গীত গাইতেন। কিন্তু কালের বিবর্তনে এখন আর ঢেঁকিতে তেমন চাল ভাঙাতে দেখা যায়না। ঢেঁকিওয়ালাদের বাড়ি থেকে সেই গীত গাওয়ার শব্দ শোনা যায় না। তবুও উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলের প্রায় প্রতিটি গ্রামের বাড়িতে বাড়িতে ঐতিহ্যবাহী ঢেঁকিতে চাল গুড়া করার শব্দ শোনা যাচ্ছে। সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার হামকুড়িয়া গ্রামের সোহাগী বেগম বলেন, সারা বছরই ঢেঁকিতে চাল গুড়া করার কাজ থাকে। তবে শীতের সময় প্রায় বাড়িতেই পিঠা তৈরির ধুম পড়ে। তাই চাল গুঁড়া করা জন্য লাইন নিতে হয় ঢেঁকিওয়ালাদের বাড়িতে।
একই এলাকার গৃহবধূ আজেদা খাতুন  বলেন, বিদ্যুৎ চালিত মেশিনেও চালের গুঁড়া করা যায়। কিন্তু সেই চালের গুঁড়া দিয়ে তৈরীকৃত চিতই পিঠা, ভাপা পিঠা, তেল পিঠা ভাল স্বাদের হয় না। ঢেঁকিতে গুঁড়া করা পিঠাগুলো খেতে অনেক ভালো লাগে।
এ ব্যাপারে মাতা  জহুরা খাতুন জানান, তাদের সময়ে প্রত্যেক বাড়িতেই ঢেঁকি ছিল। তাই লাইন বা ভিড় ছাড়াই চালের গুঁড়া করা সহজ হতো। কিন্তু এখন ঢেঁকি  নেই বললেই চলে। ফলে মানুষ সারা বছর মেশিনে চাল গুড়া করলেও এই শীতের সময়ে ঢেঁকির খোঁজে বের হয়ে পিঠা তৈরী ও খাওযার উৎসবকে ধরে রেখেছেন। এভাবেই চলছে শীতের পিঠা খাওয়ার উৎসব।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ