ঢাকা, রোববার 7 January 2018, ২৪ পৌষ ১৪২৪, ১৯ রবিউস সানি ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে ইরান বিরোধী বৈঠক ব্যর্থ

৬ জানুয়ারি, রয়টার্স : আমেরিকার চাপের মুখে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে অনুষ্ঠিত ইরান বিরোধী বৈঠক ব্যর্থ হয়েছে। ইরানে সাম্প্রতিক বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারীদের প্রতি সমর্থন ঘোষণার লক্ষ্যে ট্রাম্প প্রশাসন ওই বৈঠকের উদ্যোগ নিয়েছিল। কিন্তু পরিষদের বেশিরভাগ সদস্যদেশ মার্কিন উদ্যোগের বিরোধিতা করে।

শুক্রবার রাতে অনুষ্ঠিত বৈঠকের শুরুতে জাতিসংঘে নিযুক্ত মার্কিন প্রতিনিধি নিকি হ্যালি বলেন, ইরানে  নৈরাজ্য সৃষ্টিকারীদের প্রতি ওয়াশিংটনের পূর্ণ সমর্থন রয়েছে। কিন্তু ফরাসি রাষ্ট্রদূত ফ্রাঁসোয়া দেলাত্রে ইরানের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপের বিরোধিতা করে বলেন, ইরানের সাম্প্রতিক ঘটনাবলী আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তাকে হুমকির মুখে ঠেলে দেয়নি।

 বৈঠকে চীনের রাষ্ট্রদূত ইরানের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়ে বলেন, একটি দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করা নিরাপত্তা পরিষদের উচিত হবে না।

এ ছাড়া, রাশিয়ার রাষ্ট্রধদূত ভ্যাসিলি নেবেনজিয়া বলেন, ‘আজকের বৈঠকে যে বিষয়টি উত্থাপন করা হয়েছে তার সঙ্গে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের কোনো সম্পর্ক নেই। নিরাপত্তা পরিষদের ভূমিকা দুর্বল হয়ে যায় এমন কোনো কাজ করা আমেরিকার উচিত নয়।’

বলিভিয়া, হল্যান্ড, কুয়েত ও কাজাখস্তানসহ আরো কয়েকটি দেশ ইরানের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপের বিরোধিতা করে। শেষ পর্যন্ত বৈঠক থেকে ইরানের ব্যাপারে কোনো প্রস্তাব পাস করা সম্ভব হয়নি।

সম্প্রতি দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির প্রতিবাদ জানিয়ে ইরানের কয়েকটি শহরে কিছু মানুষ বিক্ষোভ প্রদর্শন করে। এ সময় বিদেশি মদদপুষ্ট কিছু সুযোগ সন্ধানী লোক শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকে সহিংস রূপ দেয়ার চেষ্টা করে।

আমেরিকা, ইহুদিবাদী ইসরাইল ও সৌদি আরবের গণমাধ্যমগুলো এই বিশৃঙ্খলার খবর ফলাও করে প্রচার করে এবং এসব দেশের কর্মকর্তারা ইরানে গোলযোগ সৃষ্টিকারীদের প্রতি প্রকাশ্যে সমর্থন ঘোষণা করেন।

কিন্তু বুধবার থেকে ইরানের রাজপথের চেহারা সম্পূর্ণ পাল্টে যায়। গোলযোগ সৃষ্টিকারী মুষ্টিমেয় কিছু মানুষের নিন্দা জানিয়ে সারাদেশের গুরুত্বপূর্ণ শহরগুলোর রাস্তায় শান্তিপূর্ণ শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়। এসব শোভাযাত্রা থেকে সরকারের প্রতি সমর্থন জানানোর পাশাপাশি বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারী ও তাদের বিদেশি মদতদাতাদের বিরুদ্ধে ঘৃণা ও ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়।

সরকারবিরোধী বিক্ষোভের মুখে থাকা ইরানে এবার দেশজুড়ে যুক্তরাষ্ট্রবিরোধী মিছিল ও বিক্ষোভ করেছে সরকার সমর্থকরা। শুক্রবার সবচেয়ে বড় বিক্ষোভ হয় তেহরানের ইমাম খোমেনি মুসাল্লা মসজিদের সামনে। এখানকার মুসল্লিরা যুক্তরাষ্ট্রের প্রশাসনের বিরুদ্ধে বিক্ষোভে ফেটে পড়ে এবং মার্কিন বিরোধী স্লোগান দেয়।

তেহরান ছাড়াও ইসফাহান, তাবরিজ, কেরমান, বুশেহের, জিলান প্রদেশসমূহে মার্কিন বিরোধী বিক্ষোভ মিছিল করে ইরানবাসী। তারা ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের ধ্বংস কামনা করে স্লোগান দেয়।

রমবর্ধমান মুদ্রাস্ফীতি, বেকারত্ব এবং সরকারের অনিয়মের বিরুদ্ধে ২৪ ডিসেম্বরে ইরানের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় শহর মাশাদ ও কাশমারের কয়েক হাজার মানুষ রাস্তায় নেমে আসে। অন্যদিকে ইরানের বিক্ষোভ ও সহিংসতা নিয়ে নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠক ডাকায় যুক্তরাষ্ট্রের কড়া সমালোচনা করেছে রাশিয়া।একটি দেশের ‘অভ্যন্তরীণ বিষয়ে’ জড়িয়ে জাতিসংঘের শীর্ষ এ পরিষদের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে বলেও মন্তব্য তাদের।সপ্তাহখানেক ধরে ইরানের বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভের মধ্যে শুক্রবার নিরাপত্তা পরিষদের এ জরুরি বৈঠক হয়; এতে রাশিয়া ছাড়াও পরিষদের স্থায়ী সদস্য ফ্রান্স ও চীন ইরান বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানের তীব্র বিরোধীতা করেছে বলে রয়টার্স জানিয়েছে। ইরানের সঙ্গে ২০১৫ সালে ছয় বিশ্বশক্তির স্বাক্ষরিত পরমাণু চুক্তির বাস্তবায়নে আন্তর্জাতিক মহলকে সচেষ্ট হওয়ারও আহ্বান জানান তিনি।মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শুরু থেকেই ইরানের সঙ্গে পরমাণু চুক্তির সমালোচনা করে আসছেন। তেহরান চুক্তি অনুযায়ী কাজ করছে, গত বছরের অক্টোবরে এমন প্রত্যয়ন দিতেও অস্বীকৃতি জানায় তার প্রশাসন।ইরানের এ বিক্ষোভকে দেশটির ‘অভ্যন্তরীণ বিষয়’ হিসেবে অভিহিত করে চীন বলেছে, নিরাপত্তা পরিষদের আলোচনা সঙ্কট সমাধানে সহযোগিতা করবে না। হ্যালি নিরাপত্তা পরিষদের সদস্য রাষ্ট্রগুলোর উদ্দেশ্যে বলেন, “ইরানের সেই মানুষগুলোর পাশে ওয়াশিংটন দ্বিধাহীনভাবে আছে যারা স্বাধীনতা চায়, পরিবারের সমৃদ্ধি চায় এবং জাতির জন্য মর্যাদা চায়।”এই অবস্থানের সমালোচনা করে জাতিসংঘে রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত ভাসিলি  নেবেনজিয়া বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের যুক্তি মানলে ২০১৪ সালের অগাস্টে মিসৌরির ফার্গুসনে হওয়া কৃষ্ণাঙ্গদের প্রতিবাদের সময়ও নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠক হওয়া উচিত ছিল। শ্বেতাঙ্গ পুলিশ সদস্যের গুলিতে নিরস্ত্র কৃষ্ণাঙ্গ যুবক নিহতের ওই ঘটনায় পরে সমগ্র যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে প্রতিবাদ বিক্ষোভ সংঘটিত হয়েছিল

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ