ঢাকা, রোববার 7 January 2018, ২৪ পৌষ ১৪২৪, ১৯ রবিউস সানি ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

শীতে বিপর্যস্ত জনজীবন

স্টাফ রিপোর্টার : দেশের উত্তরের কিছু জেলায় শুরু হয়েছে তীব্র শৈত্যপ্রবাহ। এটি ধীরে ধীরে দক্ষিণাঞ্চল ও মধ্যাঞ্চলেও ছড়িয়ে পড়ছে। ঢাকা বিভাগের তাপমাত্রাও নেমে এসেছে ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে। শৈত্যপ্রবাহে ঘন কুয়াশা ও প্রচণ্ড ঠাণ্ডায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন। শীতজনিত বিভিন্ন রোগ-বালাই দেখা দিয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বোরো ধানের বীজতলা, আলুসহ বিভিন্ন ফসল।
আবাহাওয়া অধিদফতর বলছে, দেশের কোথাও মাঝারি, কোথাও হালকা, কোথাও তীব্র শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। এছাড়া বেড়েছে কুয়াশা। তাপমাত্রা ৪ ডিগ্রি থেকে ৬ ডিগ্রি হলে তা তীব্র শৈত্যপ্রবাহ বলে গণ্য করা হয়। এছাড়া ৬ থেকে ৮ ডিগ্রি তাপমাত্রা হলে মাঝারি এবং তাপমাত্রা ৮ থেকে ১০ ডিগ্রি হলে তা হালকা শৈত্যপ্রবাহ বলে ধরা হয়। আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য মতে, টাঙ্গাইল, ফরিদপুর, গোপালগঞ্জ ও শ্রীমঙ্গল অঞ্চলসহ খুলনা, রংপুর ও রাজশাহী বিভাগের উপর দিয়ে মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে এবং তা অব্যাহত থাকতে পারে।

ঢাকা জেলা ও তার আশপাশে গতকাল শনিবারের তাপমাত্রা বিরাজ করছে ১৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। রাতে আরো ৩ ডিগ্রির মতো কমবে। আবাহওয়া অফিস গতকাল সকাল থেকে আগের ২৪ ঘণ্টার এক পরিসংখ্যান থেকে জানিয়েছে, ঢাকা বিভাগের সর্বনিম্ন তাপামাত্রা ছিল গোপালগঞ্জে ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস; টাঙ্গাইল ও ফরিদপুর ৯ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস, মাদারীপুরে ১১ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং নিকলিতে ১১ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
আর দেশের সবচেয়ে কম তাপমাত্রা ছিল রাজশাহী ও চুয়াডাঙ্গায়, সেখানে ৫ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করেছে আবহাওয়া অধিদফতর। অর্থাৎ, এই দুই স্থানে তীব্র শৈত্যপ্রবাহ চলছে। এছাড়া ঈশ্বরদীতে ৭ দশমিক ২ ডিগ্রি, বগুড়ায় ৮ ডিগ্রি, বদলগাছিতে ৭ দশমিক ৫ ডিগ্রি, তাড়াশে ৮ দশমিক ৮ ডিগ্রি, রংপুরে ১০ ডিগ্রি, দিনাজপুরে ৭ দশমিক ৪ ডিগ্রি, সৈয়দপুরে ৮ দশমিক ৫ ডিগ্রি, তেঁতুলিয়ায় ৯ দশমিক ৪ ডিগ্রি, রাজারহাটে ১০ ডিগ্রি, খুলনায় ৯ দশমিক ৮ ডিগ্রি, সাতক্ষীরায় ৯ ডিগ্রি, কুমারখালীতে ৯ ডিগ্রি, শ্রীমঙ্গলে ৯ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলিসিয়াস তাপামাত্রা রেকর্ড করেছে আবহাওয়া অধিদফতর।
আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, রাত থেকে সকাল পর্যন্ত ঘন কুয়াশা পড়তে শুরু করেছে। তবে দেশের সব জায়গায় একই অবস্থা নয়। কোথাও কোথাও ঘন, কোথাও মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা। এটি দেশের অনেক স্থানে দুপুর পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে। আবহাওয়ার বর্তমান পরিস্থিতি অব্যাহত থাকবে ১১ জানুয়ারি পর্যন্ত। এ সময় রাত থেকে সকাল পর্যন্ত কুয়াশাজনিত কারণে সতর্কতা সংকেতও থাকবে।
উত্তরের জনপদ শীতে কাঁপছে: শীতে কাঁপছে উত্তরের জনপদ। দিনাজপুরে গতকাল শনিবার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ৭ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এখন পর্যন্ত এটিই এই জেলায় মৌসুমের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস।
সকালে প্রচণ্ড কুয়াশার চাদরে ঢাকা থাকছে চারদিক। দিনের মাঝামাঝি সময় সূর্যের দেখা মিললেও কমছে না শীতের তীব্রতা। সেই সাথে তিন দিন ধরে বইছে শৈত্যপ্রবাহ। জরুরী প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে বের হচ্ছে না মানুষ। শীতের তীব্রতা বেড়ে যাওয়ায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা। আর শীতে নাকাল হয়ে পড়েছে বিভিন্ন বয়সের মানুষ।
তীব্র শীতে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছে ছিন্নমূল ও নিম্ন আয়ের মানুষ। আর বিপাকে পড়েছে দৈনন্দিন খেটে খাওয়া কর্মজীবীরা। ঘন কুয়াশার কারণে সকালে ১০ ফুট দূরেও কোনকিছু দেখা যায় না। সড়কে যানবাহন হেড লাইট জ্বালিয়ে চলাচল করছে। এর পরেও বাড়ছে দুর্ঘটনা।
শীতবস্ত্রের আশায় গরীব ছিন্নমূল মানুষ চেয়ে আছে। এদিকে প্রচণ্ড শীতের কারণে দেখা দিয়েছে বিভিন্ন শীতজনিত রোগবালাই। হাসপাতালে বেড়েছে নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া, আমাশয়, হাঁপানি, পেটেরপীড়াসহ বিভিন্ন রোগীর সংখ্যা।
ঘন কুয়াশা ও শীতে বোরোর বীজতলা, আলুসহ বিভিন্ন ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে বলে জানিয়েছেন কৃষক। দিনাজপুরের সদর উপজেলা উলিপুর এলাকার কৃষক রফিকুল ইসলাম জানান, শীতের কারণে তার বোরো বীজতলা ও আলু ক্ষেতে ছত্রাক জাতীয় রোগ দেখা দিয়েছে। এতে বাড়তি অর্থ ব্যয় করে ফসলে ছত্রাক জাতীয় ওষুধ স্প্রে ছিটানো হচ্ছে।
কনকনে ঠান্ডা, শৈত্যপ্রবাহ ও ঘন কুয়াশায় সারাদেশে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। উত্তরের জেলা কুড়িগ্রামে ৮ থেকে ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে তাপমাত্রা উঠা নামা করছে। কষ্টে দিন যাপন করছে নিম্ন আয়ের শ্রমজীবী মানুষ।
আবহাওয়া অফিস বলেছে, পুরো মাস জুড়েই শীত শীত আবহাওয়া থাকবে। তবে এই শীতের মধ্যেই তাপমাত্রা কখনো বাড়বে, কখনো কমবে। কুড়িগ্রামে শৈত্যপ্রবাহে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। কনকনে হাড় কাঁপানো ঠাণ্ডায় নিতান্ত প্রয়োজন ছাড়া কেউ ঘর থেকে বের হচ্ছেন না। দুপুর পর্যন্ত পুরো জনপদ ঘন কুয়াশায় ঢেকে থাকছে। দিনের বেশির ভাগ সময় সূর্যের দেখা মেলে না। শীতজনিত নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছে শিশু ও বৃদ্ধরা।
ঘন কুয়াশা আর কনকনে ঠাণ্ডায় লালমনিরহাটের মানুষের জীবন স্থবির হয়ে পড়েছে। গত দু’দিন সূর্যের দেখা মেলেনি। শীত বেশি হওয়ায় শীতবস্ত্রের দামও বেশ চড়া। নিম্ন আয়ের মানুষ এসব কিনতে পারছে না।
প্রায় একই অবস্থা উত্তরের অন্য জেলাগুলোতে। শীতের প্রভাব পড়েছে দেশের অন্যান্য জেলাতেও। মাঠে কাজ করা তো দূরের কথা, দুপুরেও কুয়াশার চাদরে ঢাকা থাকছে রাস্তাঘাট। হেড লাইট জ্বালিয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে যানবাহন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ