ঢাকা, রোববার 7 January 2018, ২৪ পৌষ ১৪২৪, ১৯ রবিউস সানি ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

হাকালুকি হাওরে আসছে অতিথি পাখির দল

সিলেট : শীত শুরুর সাথে সাথে দেশের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্যরে লীলাভূমি হাকালুকি হাওরে আসতে শুরু করেছে অতিথি পাখি। মৌলভীবাজার জেলার কুলাউড়া উপজেলায় অবস্থিত বৃহত্তর হাকালুকি হাওরে ধীরে ধীরে, ঝাঁকে ঝাঁকে আসা এই অতিথি পাখির ছবি ক্যামেরাবন্দী করেছেন দৈনিক সংগ্রাম সিলেট ব্যুরোর ফটো সাংবাদিক ফয়সল আহমদ রানা

কবির আহমদ, (সিলেট) মৌলভীবাজারের হাকালুকি হাওর থেকে ফিরে : অতিথি পাখি কলকাকলিতে পাল্টে যাচ্ছে ছোট বড় ২৩৮টি বিল, ১০টি নদী নিয়ে গঠিত প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্যরে লীলাভূমি মৌলভীবাজার জেলার কুলাউড়া উপজেলায় অবস্থিত বাংলাদেশের অন্যতম হাওর হাকালুকি। ২০১৭ সালের ৪ মাস বন্যার পানিতে নিমজ্জিত ছিল এই হাকালুকি হাওর। এখনও পুরোপুরি শীত শুরু হয়নি এরপরও এশিয়ার বৃহত্তর হাওর হাকালুকিতে ধীরে ধীরে ঝাঁকে ঝাঁকে আসতে শুরু করেছে অতিথি পাখিরা। প্রশাসনের পক্ষ থেকে অতিথি পাখি নিধনের বিরুদ্ধে প্রতি বছরের ন্যায় বিভিন্ন পদক্ষেপ নেয়া হলেও সংঘবদ্ধ পাখি শিকারচক্র তৎপর রয়েছে। তারা হাওরে পেতেছে মরণ ফাঁদ। মৌলভীবাজার জেলার কুলাউড়ার হাকালুকি হাওর অন্যান্য বিল জলাশয়ে প্রতিদিনই আসছে অতিথি পাখির দল। গতকাল শনিবার দুপুরে সরেজমিনে ঘুরে এমন চিত্র দেখা যায়। ষড়ঋতুর বাংলাদেশে একেক ঋতুতে একেক রূপ ধারণ করে দেশের প্রকৃতি। ঋতুভেদে প্রতিটি ঋতুতে রয়েছে কিছু না কিছু বিশেষত্ব। শীত ঋতুতে বিশে^র বিভিন্ন দেশ থেকে আমাদের দেশে ছুটে আসে অতিথি পাখির দল। অতিথি পাখিরা হাকালুকি হাওরের চকিয়া, জল্লা, হাওরখাল, পিংলা, কালাপানি, মালাম, বাইয়াগজুয়া, নাগুয়ালরীবাই, ফুটবিল ও কৈয়াকোনা হাওরে বিভিন্ন জাত ও রঙের অতিথি পাখি দেখা যায়।
হাওরপারের বাসিন্দা ৬৫ বৎসর বয়স্ক মজনু মিয়া জানান, এক সময় এই হাওরে অতিথি পাখি নিরাপদ আশ্রয় কেন্দ্র ছিল কিন্তু গত ৩ বছর ধরে হাওরটি অতিথি পাখির জন্য নিরাপদ নয়। সমাজের কিছু অসাধু লোক প্রশাসনের পরোক্ষ সহযোগিতায় অতিথি পাখি নিধন করেই চলছে। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, স্থানীয় প্রশাসন অতিথি পাখি নিরাপদ বিচরণ নিশ্চিতকরণে অনেকটা উদাসীন। প্রতি শীত মওসুমে একদল অসাধু সংঘবদ্ধ দল বিষটোপ নিয়ে প্রস্তুত থাকে। এবারও এ চক্রটি তাদের অপতৎপরতা শুরু করেছে। সুদূর সাইবেরিয়া ও হিমালয়ের পাদদেশ লাদাক থেকে অতিথি পাখিরা আসে হাকালুকি হাওর, শ্রীমঙ্গলের বাইক্কা বিল ও সুনামগঞ্জের টাঙ্গুয়ার হাওরে। ঐসব দেশে যখন শীতের তীব্রতা দেখা দেয়, তখন এদেশের আতিথ্য গ্রহণ করতে লাখো অতিথি পাখি ছুটে আসে বাংলাদেশের বিভিন্ন হাওরে। প্রতি বছরের ন্যায় এবারও প্রশাসনের পক্ষ থেকে অতিথি পাখি নিধনকারীদের বিরুদ্ধে ঢাক-ঢোল পিটিয়ে ব্যবস্থা গ্রহণের আশ^াস দিলেও অন্যান্য বছরের ন্যায় এবারও ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে কি না প্রশ্ন দেখা দিয়েছে হাওর পাড়ের মানুষের মধ্যে। ভিনদেশী বিচিত্র রঙের এসব অতিথি পাখি হাকালুকি হাওরে আসা শত শত পর্যটকদের মধ্যে বিনোদনের অন্যতম খোরাক। এসব পাখিদের দেখতে ইতিমধ্যে হাকালুকির পাড়ে পাড়ে উৎসবমুখর মানুষের আগমন শুরু হয়েছে। কুলাউড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা চৌধুরী মোঃ গোলাম রাব্বী জানান, চলতি শীত মওসুমে ইতিমধ্যে অতিথি পাখি আসা শুরু হয়েছে। সংঘবদ্ধ শিকারীচক্রকে পাকড়াও করাই হবে আমার উপজেলা প্রশাসনের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। তিনি আশা প্রকাশ করেন, হাওর উন্নয়নকারী সম্পৃক্ত সকলের প্রচেষ্টায় অতিথি পাখিদের অবাধ বিচরণ নিশ্চিত করতে হবে। উপজেলা প্রশাসনের পাশাপাশি স্থানীয়দের সহযোগিতা কামনা করেন এই নির্বাহী কর্মকর্তা।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ