ঢাকা, রোববার 7 January 2018, ২৪ পৌষ ১৪২৪, ১৯ রবিউস সানি ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

বিশ্ব সবুজায়নে ইসলামের অবদান

মাওলানা মুফতী মোঃ ওমর ফারুক : মানুষের জীবন ধারনের জন্য পৃথিবীতে যা কিছু দরকার তন্মধ্যে গাছপালা তরুলতা ফলজ,ঔষধি,ইত্যাদি বৃক্ষরাজির প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম। শ্বাস প্রশ্বাস নেওয়া ব্যতীত কোন মানুষ যেমন এক মুহূর্ত বাচঁতে পারে না। তদ্রুপ গাছপালা ব্যতীরেখে বসবাস যোগ্য কোন সুন্দর সমাজ,পরিবেশ আশা করা যায় না। গাছ মানুষের নিত্যদিনের সঙ্গী। মানুষের জীবনের সাথে গাছের সম্পর্ক অঙ্গাঅঙ্গীভাবে জড়িত। বৃক্ষরোপণ একটি আদর্শ কাজ যা মানুষের সুখময় জীবন-যাপনের অন্যতম উপকরণ। বৃক্ষরোপন হচ্ছে হালাল জীবিকা নির্বাহের গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। ব্যবসা-বাণিজ্য চাকরি শিল্প কল কারখানা সহ আয় রোজগারের যে সকল মাধ্যম আছে তন্মধ্যে অতি উত্তম ও পুণ্যময় পেশা হচ্ছে বৃক্ষরোপণ বা নার্সারী। যদিও সমাজে ইহাকে এতটা সম্মানের সাথে বিবেচনা করা হয় না। পৃথিবীতে অনেক পেশা এমন আছে যার গুণাগুণ বা কর্মফল ক্ষণস্থায়ী, সাময়িক খুব কম সময়ের মধ্যেই শেষ হয়ে যায় কিন্তু গাছের চারা বা বৃক্ষরোপণ যার ফলাফল দীর্ঘমেয়াদি, অনেক সময় যার ধারাবাহিকতা জনম জনম অব্যাহত থাকে। তাই কোন রাষ্ট্রীয় অথিতি অথবা মহা মনিষীগণ কোথাও ভ্রমণ বা পরিদর্শন করলে সে স্থান বা এলাকায় দু’চারটি গাছের চারা রোপণ করেন, যেন তার স্মৃতি দীর্ঘকাল ঠিকে থাকে।
অনেক সময় দেখা যায় বড় বড় গাছের ওপর ভর করে ছোট ছোট গাছ বেড়ে ওঠে, বংশ বিস্তার করে, এতে বড় গাছ ছোট গাছটিকে আদর সোহাগ দিয়ে বড় করে তুলে। তার গতিতে চলতে দেয় তাকে কোন প্রকার বাধাঁ দেয় না তার ওপর কোন রকম জুলুম করে না। কেহ গাছের নীচে বিশ্রাম নিতে চাইলে অথবা গাছের (সন্তান সন্ততি) ফলমূল নিতে চাইলে গাছ কাউকে মানা করে না, গাছ তার ছায়া ও বাতাস দিতে কারো প্রতি কোন কার্পণ্য করে না, কারো প্রতি সদয়, কারো প্রতি নির্দয় হয় না, কাউকে কর্কষ ভাষায় ধমকি দিয়ে তাড়িয়ে দেয় না,কারো সর্বস্ব নিয়ে পালিয়ে যায় না।
কিন্তু সৃষ্টির সেরা মানুষ ছোটদের প্রতি কি আচরণ করে তার তুলনায় ছোট মানের,অল্প শিক্ষিত বা একটু অভাব তাড়িত হয়ে বিপদে পড়ে, যদি কেহ আসে সে গাছের ন্যায় তাকে আদর সোহাগ দেখায় না, সে উদারতা মানবতা মনুষত্ব্য ভুলে যায় তাকে কোন কিছু দেয়া তো দূরের কথা বরং তার কোন সহায় সম্বল থাকলে কি করে তা গ্রাস করা যায় ঐরকম পন্থী ফিকির আঠে অনেকেই। শুধু তাই নয়, যদি বড় কোন কোম্পানী বা বিশেষ ক্ষমতাধর কোন ব্যক্তির পাশে কোন নগণ্য সাধারণ মানুষের কোন আ্যসেড বা সম্পদ থাকে তাহলে তার সন্তুষ্টির জন্য বিনা মূলে তাকে তা দিয়ে দিতে হয়,না হয় সর্বস্ব হারাতে হয় তখন আর কোন কিছু করার থাকে না। সেখানে প্রকৃতি নীরব। গাছ তার ফলমূল ঔষধি গুণাগুণ দিতে কাউকে ঠকায় না,সাদা কালো ধনী-দরিদ্র ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে সকলের প্রতি সমতা ন্যায়-ইনসাফের শতভাগ বাস্তবায়নের পূর্ণতা। পৃথিবীর কোনো গাছ হতে এমন কোন সংবাদ পাওয়া যায় না যে সমাজের ধনাঢ্য প্রভাবশাললীদের প্রতি তাদের এক রকম আচরণ আর যাদের নাম দাম যশ খ্যাতী কম তাদের সাথে অন্যরকম আচরণ! ইহা কোথাও পাওয়া যায়নি আর হয়ত পাওয়া যাবে ও না।
কিন্তু আফসোস আশরাফুল মাখলুখাত মানুষ মানুষকে নানাভাবে ঠকায়! প্রতারণা করে হত্যা গুম রাহাজানি ছিনতাই থেকে শুরু করে এহেন অপকর্ম নাই যা মানুষ করে না,মানুষের দ্বারা হয়না। কেহ ক্ষমতার মোহে,কেহ কাড়িঁ কাড়িঁ সম্পদের লোভে,কেহ বা নাম প্রতিপত্তির মোহে পড়ে দেশ সমাজ কে বসবাসের অযোগ্য করে তুলে। কেন? কেন এমনটি হবে? মানুষ তো মানুষের জন্যই! আমার প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশসহ পৃথিবীর অনেক দেশেই এক শ্রেণীর মানুষ পেটের দায় আবর্জনার স্তুপে খাবার খোঁজে, ড্রাস্টবিনে খাবারের অন্বেষনে সারাদিন কিছু খোঁজে বেড়ায়!
অন্ধ বধির প্রতিবন্ধী নেহায়াত গরীব কিছু ফকির মিসকিন কে রাজধানী সহ বিভিন্ন শহরের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে রাস্তায় শুয়ে শুয়ে আহাজারী করতে দেখা যায় দু’চারটি পয়সার জন্য। তাদের কাকুতী মিনতীতে মনে হয় যেন আকাশ ভেঙ্গে পড়বে ! রাজধানীতে যানজটের অনেকগুলো কারনের মধ্যে ইহা অন্যতম। শুধু তাই নয় তারা যত্রতত্র মল-মূত্র ত্যাগ করার ধরুণ শহরে স্বাভাবিক চলাচলের পরিবেশ ক্রমেই বিষাক্ত হয়ে পড়ছে কিন্তু  এমনটা হলো কি করে!
গাছ যেমন পরগাছা কে আশ্রয় দিয়ে তার জীবন ধারনের সকল দায়ভার বহন করে প্রয়োজনীয় সকল কিছুর ব্যবস্থা করে তদ্রুপ মানুষ হয়ে কেন দু’চার জন অসহায় মানুষের দায়িত্ব সমাজের প্রভাবশালীরা নিতে পারবে না! প্রতিটি সমাজেই এমন কিছু বিত্তবান ধনাঢ্য ব্যক্তি রয়েছে যারা ইচ্ছা করলেই এর অবসান করতে পারেন। এর জন্য দরকার একটু উদ্দ্যেগ একটু সাহসিকতা মানবতা মনুষত্বের জন্য কিছু করার মানসিকতা।
পৃথিবীর সকল সৃষ্টি মানুয়ের কল্যাণের জন্য,মানুষের হুকুম মানার জন্য তৈরী করা হয়েছে  শুধুমাত্র জিন এবং ইনসান কে সৃষ্টি করা হয়েছে একমাত্র ইলাহ কে ইলাহ হিসাবে মেনে নেওয়ার জন্য এবং তাঁর জমিনে সকল প্রকার তাগুতী শক্তিকে পরাভুত করে মহান মা’বুদের নিয়ম নীতি বিধি বিধান গুলো বাস্তবায়ন করার জন্য। সকল সৃষ্টিকূল সারাক্ষণ মহান রবের হকুম মেনে চলছে, যিকির করছে যদিও সকল সৃষ্টির ভাষা মানুষের জানা নেই।
খড়া, অতিবৃষ্টি অনাবৃষ্টি সাইক্লোন ঘূর্ণিঝড় ভূমিকম্প বন্যা এসব হতে গাছ পরিবেশকে রক্ষা করে। মানুষের বেচে থাকার অন্যতম উপাদান অক্সিজেন,বাতাস-ছায়া,ফলমূল শাক-সবজি ইত্যাদি যা সবই গাছ হতে পাওয়া যায়। আসবাবপত্র, লঞ্ছ, স্টিমার, অফিস ষ্টেশনারীতে রয়েছে গাছের অবদান। বর্তমান সভ্যতার যুগে আধুনিক বিশ^ নেটওর্য়াক ব্যতীত অচল, আর শক্ত মজবুত নেটওর্য়াকের জন্য গাছের বিকল্প আর কিছু নেই। ফলমূল লতা-পাতা, শাক-সবজি মানুষের সুস্থতার জন্য অপরিহার্য্য এসব কিছু গাছ হতে পাওয়া যায়। যান-বাহন ব্যতীত মানুষের স্বাভাবিক জীবন যাপন অচল, যানবাহনের চাকা গাছের অবদান।
পৃথিবীর প্রায় দেশেই এখন ও এমন অসংখ্য মানুষ আছেন যারা লাকড়ী দ্বারা রান্না বান্নার কাজ করেন আর গাছ ছাড়া কোন লাকড়ী আশা করা যায় না। হাঁস মুরগী ছাগল-ভেড়া গরু মহিষ মানুষের জীবনের চালিকা শক্তি যাদের খাবারের প্রধান উপাদান হচ্ছে লতা-পাতা ফল মূলের খোসা গাছের পাতা ইত্যাদি। শুধু এসবের মাঝেই গাছের কার্যক্রম শেষ নয়। সর্ব্বোপরি গাছ,লতা-পাতা সার্বক্ষণিক মহান মা’বুদের তাসবিহ মহিমা গুণ কীর্তণ করে যদিও তাদের ভাষা মানুষের জানা নেই। আল্লাহ তা’য়ালা বলেন “সৃষ্টিলোকে কোন একটি জিনিস এমন নেই যা তাঁর প্রশংসা, পবিত্রতা ও মাহাত্ম ঘোষণা করে না কিন্তু তাদের এ পবিত্রতা মহিমা ঘোষণা তোমরা অনুধাবন করতে পারোনা। সুরা বনী ইসরাঈল আয়াত (৪৪)
পৃথিবীর আদি মানুষ প্রথম নবী মহা মানব হযরত আদম (আ:) দুনিয়াতে আগমনের সূত্রপাত গাছ কে কেন্দ্র করে,একটি গাছই ছিল তাঁর পরীক্ষার প্রধান উপাদান।গাছের ছাল লতা-পাতা দ্বারাই তিনি প্রথমে লজ্জা নিবারণ করে দুনিয়াতে আগমন করে ছিলেন।জগৎ বিখ্যাত পৃথিবীর প্রথম ঐতিহাসিক সন্ধি হুদায়বিয়া নামক স্থানে মহানবী সা: এর উপস্থিতিতে বাবলা গাছের নীচে সংগঠিত হয়েছে। শুধুমাত্র দুনিয়ার জীবনেই গাছের প্রয়োজনীয়তা শেষ নয় পরপারের যাত্রা পথের প্রথম সোপান কবর,সেখানে ও গাছের প্রয়োজন,গাছ ব্যতীত ঐ পথের সরঞ্জাম সম্পন্ন হয় না কবরে বাঁশের ছাউনী ভারতীয় উপমহাদেশের একমাত্র অবলম্বন।
শুধুমাত্র মানুষের অর্থ স্বাস্থ্য সুন্দর পরিবেশ কায়েম করাই গাছের কাজ নয়। পশু-পাখি, জীব-জানোয়ার কীট-পতঙ্গ সকলের প্রতি গাছের অসীম করুণা। এক কথায় গাছের গুণাগুণ সংক্ষিপ্ত আকারে বলে শেষ করা যাবে না। বিশ্ব সেরা পরিবেশ বিজ্ঞানীদের উস্তাদ মহা মানব মুহাম্মাদুর রাসুল্লাহ (সা:)বলেছেন যদি কোন মুসলমান কোন বৃক্ষ রোপণ করে অতঃপর ইহা হতে কোন মানুষ, জীব জানোয়ার কীট-প্রত্যঙ্গ এর কোন অংশ খায় অথবা এর দ্বারা উপকৃত হয় তাহলে বৃক্ষরোপন কারীর জন্য তা সদাকাহ হিসাবে কবুল করা হয়। মনে করুন কোন এক ব্যক্তি অসুস্থ,ডাক্তার তাকে একাধারে তিনমাস বেশী বেশী ডাবের পানি পান করতে পরামর্শ দিয়েছেন কিন্তু তার কোন ডাব গাছ নেই এই ক্ষেত্রে বাজার হতে যদিও টাকা দিয়ে ডাব ক্রয় করে আনতে হচ্ছে তথাপি গাছ রুপনকারী অতিরিক্ত একটি ছওয়াব পাবে গাছ রুপণ করার কারণে।
মধু মানুষের সুস্থতার জন্য এক অপরিসীম নিয়ামত,যা বিভিন্ন গাছের ফুল ফলের নির্যাস। যাকে মহাগ্রন্থ আল কোরআনে শিফাউলল লিন্নাছ বলা হয়েছে এরশাদ হচ্ছে “তারপর প্রত্যেক ফল থেকে রস আহরণ করে খেতে থাকো অতপর তোমার মালিকের নির্ধারীত পথ ধরে পূর্ণ আনুগত্যের সাথে এদিক সেদিক এগিয়ে চলো এভাবে তার পেট থেকে রং বেরঙের পানীয় বের হয় যার মাঝে মানুষের নিরাময়ের ব্যবস্থা রয়েছে,এতে ও নিদর্শন রয়েছে সে সম্প্রদায়ের জন্য যারা আল্লাহর এ সৃষ্টি বৈচিত্র নিয়ে চিন্তা করে। সুরা আন নহল আয়াত ৬৯।
ইসলাম শুধুমাত্র একটি ধর্মের নাম নয় বরং ভারসাম্য পরিবেশ বজায় রাখতে ইসলামের রয়েছে মানুষের জীবনের ভিন্ন ভিন্ন দিকের ভিন্ন ভিন্ন দর্শন। শস্য শ্যামল রুপসী বাংলার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্যরে তুলনা হয়না, চারপাশে ঘন সবুজ মাঠ তরু লতা আর নানা রঙের গাছপালা প্রিয় মাতৃভূমিকে বিশ্ব মানচিত্রে অপরুপ সৌন্দর্য্যরে দেশে পরিণত করেছে, ইহা মহান মা’বুদের অসীম করুণা! পৃথিবীর সকল দেশের সেরা দেশ আমার প্রিয় বাংলাদেশ। প্রিয় মাতৃভূমি, যার রুপ লাবণ্যের তুলনা আর যে কোথাও নেই।
সুন্দরবনের ম্যানগ্রোভ বিশ্বের অন্যতম প্রাকৃতিক সৌন্দর্যমন্ডিত স্থান এই এলাকা কে অত্যাধুনিক সকল সুবিধা দিয়ে পর্যটকদের জন্য আরো আকর্ষণীয় করলে এবং যাতায়াত ব্যবস্থা সহজ সুন্দর করলে বিশাল অংকের বার্ষিক জাতীয় আয় সম্বভ। আর এই অপরুপ সৌন্দর্যের লীলাভূমি সুন্দরবন যেন  কোন অদূরদর্শী সিদ্বান্তের কারণে পর্যায়ক্রমে বিলীন হয়ে না যায় সে ব্যাপারে সকলকে সজাগ থাকতে হবে। রামপাল বিদুৎ কেন্দ্রের প্রভাবে এর সর্বনাশ বয়ে আসবে কি না, বিষয়টি গভীরভাবে পুনর্বিবেচনা করার জন্য সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি বিনীত অনুরোধ করছি।
চট্রগ্রামের পাহাড়ী অঞ্চলের মেহগনি, সেগুণ আর সমুদ্র সৈকত মিলে বাংলদেশ কে বিশ্ব সেরা পর্যটক ভূমিতে রূপান্তরিত করেছে। বাংলাদেশের অর্থকরী সোনালী আশঁ পাট গাছ,চা পাতা,আম জাম লিঁচু কলা কাঠাল আনারস পৃথিবীতে বিখ্যাত! চা পাতার ন্যায় এসব গুলোকে বাজারজাত প্রক্রিয়া করতে পারলে বর্তমান জনসংখ্যার সিংহভাগ এর দ্বারা জীবন নির্বাহের উপায় হতে পারে। এবং দেশে নতুন নতুন শিল্পের দ্বার  উম্মোচন হতে পারে।
কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় যখন দেশের অবুঝ সন্তানেরা (নির্বোধ মানুষ) নির্বিচারে গাছ কেটে রাস্তায় ফেলে রাখে, রাতের আঁধারে রাস্থায় বেরীকেড সৃষ্টি করে ডাকাতী করার মাধ্যম হিসাবে ব্যবহার করে তখন গভীর ব্যাথায় প্রাণ ওষ্ঠাগত হয়ে যায় হৃদয় মন ভেঙে যায় অনেক গুলো প্রশ্ন মনে দানা বাঁধে যার উত্তর হয়ত কোন দিন পাওয়া যাবে ন। এখানেই শেষ নয় বিশেষ উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য দেশ ও দেশের মানুষের সীমাহীন কষ্টের অন্যতম মাধ্যম হরতাল,অবরোধ ক্রর্মসূচি বাস্তবায়নের নামে রাস্তার দু’পাশের গাছ গুলোকে ইতিপূর্বে যারা কঁচু কাটা করেছে তার জবাব কোথায় পাব আমার জানা নাই।
যে গাছ জীবন ধারণের জন্য বিনা পয়সায় অক্সিজেন দিচ্ছে, বাতাস দিচ্ছে না চাইতেই বারো মাস নানা রঙের ফল দিচ্ছে প্রিয় জন্মভূমিকে বিউটি পার্লারের ন্যায় সাজিয়ে রেখে বিশ্বের কাছে শস্য শ্যামল দেশ হিসাবে পরিচিত করেছে সেই গাছের প্রতি এহেন অবমাননা সহ্য করা যায না,কোন ভাবেই মেনে নেয়া যায় না! যে হারে নির্বিচারে গাছ কাটা হচ্ছে,কঠোর হস্তে যদি তা বন্ধের উদ্দ্যেগ গ্রহন না করা হয়! রাষ্ট্রীয়ভাবে যদি এক্ষণি বৃক্ষরোপণের উপর আরো বেশী গুরুত্বারোপ করা না হয়! তাহলে একদিকে যেমন প্রাকৃতিক সৌন্দর্য নষ্ট হবে অন্যদিকে খড়া, অতিবৃষ্টি-অনাবৃষ্টি ভূমিকম্প, বায়ুদূষণ বন্যা ইত্যাদি যে সকল কারণে মানুষের নানাবিধ সমস্যা তৈরী হচ্ছে, রোগ ব্যাধি অতিমাত্রায় বেড়ে যাচ্ছে উল্লেখিত নানাবিধ সমস্যার কবলে দেশ নিপতীত হবে ।
তাই ব্যক্তি সমাজ দেশ কে বাচাঁতে হলে দেশের মানুষের সার্বিক কল্যাণ কামনা করলে দেশের অর্থনৈতিক ও পরিবেশগত সমৃদ্বি এবং পূণ্যময় জীবন গড়ার লক্ষ্যে সদকায়ে জারীয়ার উত্তম নমুনা হিসাবে বেশী বেশী গাছ লাগানোর বিকল্প নেই। অবশ্য সচেতন পাঠক মহল যদি এই প্রতিপাদ্য পাঠ করে প্রত্যেকেই নিজ নিজ উদ্দোগে দু’চার দশটি করে গাছ লাগান, স্কুল-কলেজ, ইউনিভার্সিটির শিক্ষক শিক্ষার্থী, বিভিন্ন বাহিনীর সম্মানীত সদস্য বৃন্দ,মসজিদ মাদ্রসার সম্মানিত ইমাম মুসুল্লিবৃন্দ কাজটি আনন্দের সাথে শুরু করে দেন এই কামনায় আজ এখানেই শেষ করছি।
লেখক, কলামিস্ট, কবি, সাহিত্যিক ও বিশিষ্ট ব্যাংকার
ই-মেইল:  Ofaroq12662@gmail.com

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ