ঢাকা, সোমবার 8 January 2018, ২৫ পৌষ ১৪২৪, ২০ রবিউস সানি ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

নির্দলীয় সরকারের দাবি আদায় করেই বিএনপি নির্বাচনে অংশ নেবে -ড. মোশাররফ

গতকাল রোববার জাতীয় প্রেস ক্লাবে এগ্রিকালচারিস্ট এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের উদ্যোগে কৃষিবিদ হাসান জাকির তুহিনের উপর পুলিশি হামলার প্রতিবাদে এবং বিচারের দাবিতে প্রতিবাদ সভার আয়োজন করা হয় -সংগ্রাম

স্টাফ রিপোর্টার : আন্দোলনের মাধ্যমে নির্দলীয়-নিরপেক্ষ সরকারের দাবি আদায় করেই বিএনপি আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেবে বলে জানিয়েছেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন। গতকাল রোববার জাতীয় প্রেস ক্লাবে এগ্রিকালচারিস্টস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (অ্যাব) আয়োজিত এক প্রতিবাদ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন।
ড. মোশাররফ হোসেন বলেন, ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি দেশে নির্বাচন হয়েছিল বলে সরকার যে অসত্য বক্তব্য দিচ্ছে, তাতে জনগণ বিভ্রান্ত না হয়ে বরং সরকারের ওপর আরো ক্ষুব্ধ হচ্ছে। বিএনপি আন্দোলনের কারণেই দেশের বেশিরভাগ রাজনৈতিক দল ওই নির্বাচন বর্জন করেছিল বলেও দাবি করেন তিনি।
গত নির্বাচনের মতো ভোটারবিহীন নির্বাচন আগামীতে আর হতে দেওয়া হবে না উল্লেখ করে বিএনপির এই সিনিয়র নেতা বলেন, ২০১৪-এ ৫ জানুয়ারির মতো ভোটারবিহীন নাটক এই বাংলাদেশে আর করতে দেওয়া হবে না। এ দেশের জনগণ করতে দেবে না। একবার প্রতারণা করেছেন, আরেকবার যাবে না। এ দেশের মানুষ প্রস্তুত আছে, তারা তাদের ভোটের অধিকারের জন্য এবার রাস্তায় নামবে। আমরা বিএনপি জাতীয়তাবাদী শক্তি, যারা গণতন্ত্রের পক্ষের শক্তি জনগণের পাশে থাকব। এ দেশে নির্বাচনকালে নিরপেক্ষ সরকার আদায় করেই একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ইনশাআল্লাহ হবে। যেই নির্বাচনে দেশনেত্রী খালেদা জিয়া, জাতীয়তাবাদী দল, জাতীয়তাবাদী শক্তি সেখানে অংশগ্রহণ করবে।
বিএনপির এই স্থায়ী কমিটির সদস্য বলেন,শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগ সরকারের অধীনে নির্বাচন হবে না। যত চেষ্টা আর যত ষড়যন্ত্রই করা হোক না কেন।
তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের জেনেটিক প্রোবলেম হচ্ছে তারা যখনই ক্ষমতায় আসবে জোর করে ক্ষমতায় বহাল থাকতে চাইবে। তারই ধারাবাহিকতায় ভোটারবিহীন সরকারের প্রধানমন্ত্রী তাদের দলীয় একটি সভায় জনগণকে বিভ্রান্ত করতে অসত্য বক্তব্য দিয়েছেন। শেখ হাসিনা বলেছেন, জনগণ ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি ভোট দিয়েছে বলেই আমরা ক্ষমতার ৪ বছর অতিক্রম করতে পেরেছি। প্রশ্ন হচ্ছে তিনি কোন জনগণের কথা বলেছেন, কোন নির্বাচনের কথা বলেছেন। যে নির্বাচনে জনগণ তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেনি, যে নির্বাচনে ১৫৩ জন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন সেই নির্বাচন?
আমাদের কথা স্পষ্ট, বারবার জনগণকে ধোঁকা দেয়া যাবে না। জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করা যাবে না। আগামী নির্বাচন হতে হবে সংসদ ভেঙে নির্দলীয় সরকারের অধীনে।
বিএনপির এই নীতিনির্ধারক আরও বলেন, জনগণই যদি আওয়ামী লীগকে ভোট দিয়ে থাকে তাহলে সংসদ ভেঙে নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন দিতে এত ভয় কেন। উদ্দেশ্য একটাই ক্ষমতা হারানোর ভয়ে শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগ কোন কিছুতেই ছাড় দিচ্ছেন না। তারা ক্ষমতাকে কুক্ষিগত করে রাখতে বাংলাদেশকে গভীর অন্ধকারের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
তিনি বলেন, ১/১১ সেনা সমর্থিত সরকারের প্রেক্ষাপট ছিল মাইনাস বেগম খালেদা জিয়া। তারা বিএনপিকে দুর্বল করতে চেয়েছে। আজ আওয়ামী লীগ সরকার ১/১১ ধারাবাহিকতায় বিএনপিকে দুর্বল করতে ষড়যন্ত্র অব্যহত রেখেছে। বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াসহ দলটির সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের দমন করে রাখতে ভিত্তিহীন মামলায় নাজেহাল করছে। মূলত এতে করে শেখ হাসিনা অলিখিত বাকশালের মাধ্যমে ক্ষমতা দীর্ঘস্থায়ী করতে চাচ্ছে।
এক দেশে দুই আইন চলতে পারে না মন্তব্য করে বিএনপির এই নেতা বলেন, আমরা সভা সমাবেশ করতে অনুমতি পাই না। আমাদেরকে বলা হয় সভা-সমাবেশে যানজট সৃষ্টি হবে। অথচ তারা বেশ কয়েক জায়গায় সভা-সমাবেশ করে যানজট সৃষ্টি করছে। যা চলতে পারে না। বেশিদিন চলতে দেয়া যায় না।
একই অনুষ্ঠানে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, আইয়ুব খান ও ইয়াহিয়ার পথেই হাটছেন শেখ হাসিনা। তিনি গণতন্ত্রের শত্রুপক্ষ। এই সেই আওয়ামী লীগ যারা বাকশালের খাচায় বন্দি ছিল। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বহুদলীয় গণতন্ত্রের মাধ্যমে তাদের নবজন্ম দিয়েছেন। যার পরিপ্রেক্ষিতে শেখ হাসিনা আজ আওয়ামী লীগের সভাপতি হতে পেরেছেন। অথচ তাদের মধ্যে বিন্দু পরিমান কৃতজ্ঞতা বোধ নেই।
আয়োজক সংগঠনের আহ্বায়ক কৃষিবিদ আনোয়ারুন নবী মজুমদার বাবলার সভাপাতিত্বে বক্তব্য দেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আব্দুস সালাম, শেরে বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় সাদা দলের সভাপতি কৃষিবিদ রফিকুল ইসলাম, ছাত্রদলের সহ-সাধারণ সম্পাদক আরিফা সুলতানা রুমা প্রমুখ।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ