ঢাকা, সোমবার 8 January 2018, ২৫ পৌষ ১৪২৪, ২০ রবিউস সানি ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

দিনাজপুরসহ উত্তরাঞ্চলের জনজীবন স্থবির সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৫.১০ সেলসিয়াস

দিনাজপুর অফিস : দিনাজপুরে ভয়াবহ শীতে স্থবির হয়ে পড়েছে দিনাজপুরের জনজীবন। তীব্র শীত থেকে রক্ষা পেতে প্রাণীকুলে শুরু হয়েছে ত্রাহি ত্রাহি অবস্থা। শীতের তীব্রতায় জেলার শ্রমজীবী ও ছিন্নমূল মানুষরা পড়েছে চরম দুর্ভোগে। ছিন্নমূল মানুষেরা গরম কাপড়ের অভাবে খড়কুটো জ্বালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা করছে। সেই সাথে শীতের তীব্রতায় কৃষকের ফসল নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। আর দিনের বেলা হেডলাইট জ্বালিয়ে সড়ক-মহাসড়কে চলাচল করছে সব ধরনের যানবাহন। গতকাল শনিবার দিনাজপুরে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৫ দশমিক ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এটি দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা বলে দিনাজপুর আবহাওয়া অফিস জানায়। গতকাল সকালে দিনাজপুরে বাতাসের আদ্রতা ছিল ৯২ শতাংশ এবং গতি বেগ ছিল ঘন্টায় ৩ কিলোমিটার।
দিনাজপুরসহ উত্তরাঞ্চলে চলছে তীব্র শৈত্যপ্রবাহ। সেই সাথে দিনরাত ঘনকুয়াশা ও শিশির ঝরছে। দিনাজপুর ছাড়াও আশপাশের জেলাগুলোতেও দিন ও রাত উভয় সময়েই তাপমাত্রা কম। দিনাজপুর জেলায় সকাল থেকে বেলা গড়িয়ে গেলেও সূর্যের দেখা মিলছে না। দিনাজপুরের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, কয়েকদিনের শৈত্যপ্রবাহের কারণে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। মানুষের নিত্যদিনের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। এদিকে শীতজনিত বিভিন্ন রোগে শিশু ও বয়স্করা আক্রান্ত হচ্ছে। স্থানীয় হাসপাতালগুলোতে বেড়েছে রোগীর সংখ্যা। গতকাল এম আব্দুর রহিম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও জেনারেল হাসপাতালে মোট ৬৫ জন শীত জনিত বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হয়েছে। এছাড়া বহিঃবিভাগে চিকিৎসা নিয়ে ফিরেছে অনেকজন। হাসপাতাল সূত্র জানায়, আক্রান্তদের বেশির ভাগই ডায়রিয়া, শ্বাসকষ্ট, নিউমোনিয়াসহ বিভিন্ন শীত জনিত রোগ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন। জেলা সিভিল সার্জন ডাঃ মওলা বকস চৌধুরী এ শীতে বয়স্ক ও শিশুদের সাবধানে চলাফেরা এবং ঘর থেকে বের না হওয়ার আহ্বান জানান। এছাড়া তীব্র এ শীতে গরম কাপড় চাহিদার তুলনায় অপ্রতুল। শীতবস্ত্রের অভাবে শীতার্ত মানুষের মাঝে হাহাকার দেখা দিয়েছে। শীতবস্ত্রের কোন অপ্রতুলতা নেই বলে জেলা ত্রাণ কর্মকতা মোখলেসুর রহমান জানিয়েছেন, দিনাজপুরে পর্যাপ্ত শীত বস্ত্র রয়েছে। ইতোমধ্যে জেলার ১৩টি উপজেলা এবং ৮টি পৌরসভায় ৭০ হাজার কম্বল বিতরণ করা হয়েছে। আরো মজুদ আছে ৬ হাজার কম্বল। তীব্র শীতে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে কৃষকের বিভিন্ন শীতকালীন ফসল। বিশেষ করে আলু নষ্ট হবার উপক্রম হয়েছে। লেটব্লাইট রোগে আক্রান্ত হয়ে আলু পচে যাচ্ছে। বীজতলার ক্ষতিও চরম আকার ধারণ করছে। শীতের তীব্রতায় এমনটি হচ্ছে বলে জেলা কৃষি বিভাগ জানিয়েছে। তবে এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় দিক-নির্দেশনা কৃষকদের দেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন সদর উপজেলা কৃষি অফিসার মোঃ সিরাজুল ইসলাম। তিনি বলেন, তীব্র শীতে মূলত শীতকালীন সবজি, বিশেষ করে আলুর সবচেয়ে বেশী ক্ষতির আশংকা থাকে। তাই আলুর বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধে আমরা কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে চাষিদের সার্বক্ষণিক বিভিন্ন পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছি। এছাড়া বীজতলার ক্ষতি থেকে চাষিদের রক্ষা করতেও আমরা প্রয়োজনীয় সহায়তা ও পরামর্শ প্রদান করছি।
আমাদের রংপুর অফিস জানায়, রংপুর সহ দেশের উত্তরাঞ্চলের জেলা গুলোতে গত ক’দিন ধরে টানা শৈত্য প্রবাহের ফলে জনজীবন বির্পযস্ত হয়ে পড়েছে। কন কনে তীব্র শেিত শিশু এবং বয়স্ক মানুষের দুর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছে সবচেয়ে বেশী। গতকাল রোববার দিনভর রংপুরে কোন সূর্যের আলো দেখা যায়নি। স্থানীয় আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, গতকাল রংপুরে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৭ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং বাতাসে আর্দতার পরিমাণ ছিল ১০০ শতাংশ।  এ পরিস্থিতি আরও দীর্ঘ হতে পারে। বাতাসে আর্দতার পরিমাণ বেশী থাকায় শীতের তীব্রতা বেশী অনুভূত হচ্ছে বলে আবহাওয়াবিদগণ জানিয়েছেন। এহেন পরিস্থিতিতে খেটে খাওয়া মানুষের দুর্ভোগ সবচেয়ে বেশী প্রকট আকার ধারণ করেছে। তাঁদের কাজের সংস্থান কমে যাওয়ায় অনেকে বেকার হয়ে পড়ে পরিবার পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছে। বাজারে  শীতের পোশাক বিশেষ করে শিশুদের পোশাকের দাম অনেক বেড়ে গেছে। জেলা প্রশাসন সূত্রে জানাগেছে জেলায় এ পর্যন্ত সাড়ে ৫৪ হাজার পিস কম্বল সরকারি বরাদ্দ হিসেবে পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ৫০ হাজার পিস কম্বল ইতোমধ্যে জেলার ৮ উপজেলায় শীর্তাত মানুষের জন্য বিতরণ শুরু হয়েছে। এসব বরাদ্দের মধ্য থেকে জেলা প্রশাসন গত শনিবার রাতে রংপুর মহানগরীর বিভিন্ন স্পটে ছিন্নমূল মানুষের মধ্যে বিতরণ করেছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ