ঢাকা, সোমবার 8 January 2018, ২৫ পৌষ ১৪২৪, ২০ রবিউস সানি ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

গণতান্ত্রিক অভিযাত্রায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান

সংসদ রিপোর্টার : দল-মত-পথের পার্থক্য ভুলে জাতির গণতান্ত্রিক অভিযাত্রায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ।
গতকাল রোববার জাতীয় সংসদ অধিবেশনে মাগরিবের বিরতির পর সন্ধ্যা ৬টা তিন মিনিটে অধিবেশন কক্ষে প্রবেশ করেন রাষ্ট্রপতি। তিনি প্রবেশ করার আগে বিউগল বাজানো হয়। এরপর অধিবেশন কক্ষে প্রবেশ করার সঙ্গে সঙ্গে জাতীয় সঙ্গীত  বেজে ওঠে। এ সময় সংসদ নেতা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ মন্ত্রী, এমপিরা দাঁড়িয়ে রাষ্ট্রপতিকে সম্মান প্রদর্শন করেন।
স্বাগত বক্তব্যে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ বলেন, ত্রিশ লাখ শহীদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত গৌরবোজ্জ্বল স্বাধীনতা সমুন্নত ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনা সমুজ্জল রাখতে দেশ থেকে সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ সম্পূর্ণরূপে নির্মূলের মাধ্যমে শোষণমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ে তুলতে বাঙালি জাতিকে আবারো ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করতে হবে। একাত্তরের শহীদানদের কাছে আমাদের অপরিশোধ্য ঋণ রয়েছে। আসুন ধর্ম-বর্ণ- গোত্র নির্বিশেষে এবং দল-মত-পথের পার্থক্য ভুলে জাতির গণতান্ত্রিক অভিযাত্রা ও দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত করার মধ্যে দিয়ে আমরা লাখো শহীদের রক্তের ঋণ পরিশোধ করি।
দশম জাতীয় সংসদের ১৯তম অধিবেশনে রাষ্ট্রপতি মো. আব্দুল হামিদ ১৫৭ পৃষ্ঠার ভাষণের বিশেষ অংশ পাঠ করেন। রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ সাদা শার্ট লাল টাই এর উপর হাল্কা কালো স্যুট পড়ে সন্ধ্যা ৬টা ০৫ মিনিটে ভাষণ শুরু করেন। এর আগে বিকেল ৩ টায় সংসদে স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে ‘কার্য উপদেষ্টা কমিটি’র উনিশতম বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয় রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনীত ধন্যবাদ প্রস্তাবে ৪৫ ঘণ্টার আলোচনা হবে। তবে প্রয়োজনে এ সময়সীমা স্পিকার বাড়াতে বা কমাতে পারবেন।
রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ বলেন, শান্তি, গণতন্ত্র, উন্নয়ন ও সমৃদ্ধি অর্জনের যে পথ আমরা পরিক্রমণ করছি, তা আমাদেরকে বহুদূর এগিয়ে নিয়ে যাবে। বিশ্বসভায় ইতোমধ্যে অর্থনৈতিক, বাণিজ্যিক ও সামাজিক অগ্রগতি ও সমৃদ্ধি অর্জনের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ একটি সম্মানজনক অবস্থানে সমাসীন হয়েছে এবং অচিরেই একটি উন্নত দেশ হিসাবে আপন মহিমায় উদ্ভাসিত হবে বলে আমার দৃঢ় বিশ্বাস।
তিনি বলেন, ‘রূপকল্প-২০২১’-এর ভিত্তিতে প্রণীত  প্রেক্ষিত পরিকল্পনা ও ষষ্ঠ পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার আওতায় বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়নের ফলে আর্থ-সামাজিক ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি সাধিত হয়েছে। সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনাও বাস্তবায়নাধীন। ২০২১ সালে স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীতে বাংলাদেশ মধ্য-আয়ের দেশে পরিণত হবে এবং ২০৪১ সালে বিশ্বসভায় একটি উন্নত দেশের মর্যাদায় অভিষিক্ত হবে, এটাই জাতির প্রত্যাশা। সুশাসন  ও সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা, গণতন্ত্রের প্রাতিষ্ঠানিক রূপায়ন এবং সমাজের সকল স্তরে প্রত্যক্ষ জন-সম্পৃক্তির মধ্য দিয়ে আমরা নির্ধারিত লক্ষ্যসমূহ অর্জনসহ একটি আদর্শ সমাজভিত্তিক কল্যাণমূলক রাষ্ট্র গঠনে সক্ষম হবে বলে তিনি আশা ব্যক্ত করেন।
তিনি আরো বলেন, জাতীয় সংসদ দেশের জনগণের আশা-আকাক্সক্ষার কেন্দ্রবিন্দু। বর্তমান সরকার সার্বিক আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে অভূতপূর্ব গতিশীলতা সঞ্চারণের মাধ্যমে বাংলাদেশকে একটি উন্নত ও আধুনিক দেশ হিসাবে প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ঐকান্তিক প্রয়াস চালিয়ে যাচ্ছে। স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, পরমতসহিষ্ণুতা, মানবাধিকার ও আইনের শাসন সুসংহতকরণ এবং জাতির অগ্রযাত্রার স্বপ্ন ও আকাক্সক্ষার সফল বাস্তবায়নে সরকারি দলের পাশাপাশি বিরোধী দলকেও গঠনমূলক ভূমিকা পালন করতে হবে। তিনি জনগণের প্রত্যাশা পূরণের প্রতিষ্ঠান এই মহান জাতীয় সংসদে সরকারি ও বিরোধী দলসহ সকলকে সম্মিলিতভাবে যথাযথ ও কার্যকর ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান।
রাষ্ট্রপতির বক্তব্যে গোটা বছরের বিভিন্ন সেক্টরের কাজের বর্ণনা তুলে ধরা হয়।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ