ঢাকা, সোমবার 8 January 2018, ২৫ পৌষ ১৪২৪, ২০ রবিউস সানি ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

বিনিয়োগ না থাকায় পিছিয়ে পড়ছে পুঁজিবাজার

স্টাফ রিপোর্টার : এশিয়ার অন্য দেশের তুলনায় পিছিয়ে রয়েছে বাংলাদেশের পুঁজিবাজার। ধীর গতিতে এগুচ্ছে দেশের পুঁজি বাজার। বিনিয়োগ না থাকায় পিছিয়ে পড়ছে পুঁজিবাজার। গত বছর জিডিপির তুলনায় মার্কেট ক্যাপিটাইলইজেশনে (বাজার মূলধন) কিছুটা উন্নত হয়েছে। বছরের ব্যবধানে তা বেড়েছে প্রায় দুই শতাংশ। ২০১৬ সাল শেষে মার্কেট ক্যাপিটালাইজেশন টু জিডিপির অনুপাত ছিল ১৯ দশমিক ৭০ শতাংশ। ২০১৭ শেষে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২১ দশমিক ৬২ শতাংশে। তবে এটা সন্তোষজনক নয় বলে মন্তব্য করেন বাজার সংশ্লিষ্টরা। তাদের অভিমত, ভালো প্রতিষ্ঠানের জোগান বাড়লে জিডিপির বিপরীতে মার্কেট ক্যাপিটালাইজেশন বাড়বে।
এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, এশিয়ার অন্য দেশের তুলনায় পিছিয়ে রয়েছে বাংলাদেশের পুঁজিবাজার। সেসব দেশে বাজার মূলধন ও জিডিপির অনুপাত সর্বোচ্চ ১৪৩ শতাংশ পর্যন্ত। অথচ বাংলাদেশে এ আনুপাতিক হার প্রায় ২২ শতাংশ। ডিএসই সূত্রে বিষয়টি জানা গেছে।
প্রাপ্ত তথ্যমতে, ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) ২০১৭ সালের শেষে তালিকাভুক্ত সিকিউরিটিজগুলোর মার্কেট ক্যাপিটালাইজেশন টু জিডিপির অনুপাত দাঁড়ায় ২১ দশমিক ৬২ শতাংশ, যা পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর তুলনায় অনেক কম। অথচ থাইল্যান্ড (এসইটি) মার্কেট ক্যাপিটালাইজেশন টু জিডিপির অনুপাত ১১০ দশমিক ৩৩ শতাংশ। ভারতে এ হার (বিএসই) ৮৬ দশমিক ৩৪ শতাংশ। একইভাবে পাকিস্তানে (কেএসই) ২৮ দশমিক ২৫ শতাংশ, শ্রীলঙ্কায় (সিএসই) ২৩ দশমিক ৬৮ শতাংশ, নেপালে (এনইপিএসই) ৭০ শতাংশ ও মালয়েশিয়ায় (বুরসা মালয়েশিয়া) ১৪২ দশমিক ২৪।
বিষয়টি নিয়ে আলাপ করলে পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্টরা বলেন, মার্কেট ক্যাপিটালাইজেশন টু জিডিপির অনুপাত বৃদ্ধির জন্য ভালো মৌল ভিত্তিসম্পন্ন কোম্পানি তালিকাভুক্তি বাড়ানো জরুরি। কারণ ভালো প্রতিষ্ঠান পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত না হলে জিডিপিতে এর হার বাড়বে না। তাই সরকারি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারসহ ভালো কোম্পানির শেয়ার বাজারে আসা জরুরি।
বিষয়টি নিয়ে কথা বললে বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ আবু আহমেদ বলেন, মার্কেট ক্যাপিটালাইজেশন বাড়াতে হলে পুঁজিবাজারে বড় বড় প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণ জরুরি। এসব কোম্পানি বাজারে এলে এমনিতেই মার্কেট ক্যাপিটালাইজেশন বাড়বে। তাই সংশ্লিষ্টদের উচিত হবে যত দ্রুত সম্ভব ভালো ভালো প্রতিষ্ঠান পুঁজিবাজারে নিয়ে আসা।একই প্রসঙ্গে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ও বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ এন্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) সাবেক চেয়ারম্যান এবি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম বলেন, ভালো ভালো প্রতিষ্ঠান বাজারে এলেই এ সমস্যা দূর হয়। তিনি বলেন, একটি কোম্পানির আইপিও অনুমোদন পেতে তিন-চার বছর লাগা আমার কাছে বোধগম্য নয়। বিষয়টি নিয়ে বিএসইসির ভাবা উচিত। দেশের পুঁজিবাজারকে এগিয়ে নেওয়ার জন্য ভালো কোম্পানি আনতে বিএসইসির উদ্যোগ নেওয়া দরকার। একই সঙ্গে সরকারি বিভিন্ন কোম্পানি শেয়ারবাজারে আনার জন্য সরকারের দিক থেকে উদ্যোগ নেওয়া উচিত।
চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক ওয়ালি-উল মারুফ মতিন বলেন, আইপিও অনুমোদনের পরিমাণ বাড়ানোর পরিবর্তে দিন দিন কমানো হয়েছে। এটা ইতিবাচক দিক হতে পারে না। অবশ্যই আইপিও অনুমোদন বাড়ানো দরকার। না হলে সরবরাহ ও চাহিদার মধ্যে অসামঞ্জস্য তৈরি হবে। প্রাপ্ত তথ্যমতে, গত সাত বছরে (২০১০-১৬) বাংলাদেশের অর্থনীতি দ্রুত বড় হয়েছে। এ সময়ে জিডিপির আকার বেড়েছে দ্বিগুণের বেশি। অন্যদিকে একই সময়ে জিডিপির অনুপাতে দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ডিএসইর বাজার মূলধন কমেছে। ২০১০ সালে জিডিপির অনুপাতে ডিএসইর বাজার মূলধন ছিল ৫০ দশমিক ৭০ শতাংশ। ছয় বছর ধরে ধারাবাহিকভাবে কমেছে এ অনুপাত। যদিও ২০১৭ সালে এর হার দুই শতাংশ বাড়ে। কিন্তু সেটা জিডিপির তুলনায় সন্তোষজনক নয়।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ