ঢাকা, সোমবার 8 January 2018, ২৫ পৌষ ১৪২৪, ২০ রবিউস সানি ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

শৈত্যপ্রবাহে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত

কুড়িগ্রাম: খড়কুটো জ্বালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা করছেন কুড়িগ্রামের নিম্ন আয়ের মানুষজন

রাজশাহী অফিস: রাজশাহী অঞ্চলের উপর দিয়ে মাঝারী শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। এই পরিস্থিতি থাকতে পারে আরো দুই দিন। এছাড়া শৈত্যপ্রবাহ সংলগ্ন এলাকায় বিস্তার লাভ করতে পারে বলে আবহাওয়া অফিস জানায়।
আবহাওয়া অফিস জানায়, উপ-মহাদেশীয় উচ্চচাপ বলয়ের বর্ধিতাংশ পশ্চিমবঙ্গ ও তৎসংলগ্ন এলাকা পর্যন্ত বিস্তৃৃত রয়েছে। মৌসুমের স্বাভাবিক লঘুচাপ দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরে অবস্থান করছে।
এছাড়া অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ সারাদেশের আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে। মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত দেশের কোথাও কোথাও মাঝারী থেকে ঘন কুয়াশা পড়তে পারে। রাজশাহী আবহাওয়া অফিসে পর্যবেক্ষক আবদুস সালাম জানান, গতকাল দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিলো ১৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস আর সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিলো ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বাতাসের আর্দ্রতা ছিলো ৯৭ শতাংশ। তিনি আরও জানান, রাতে তাপমাত্রা ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমে আসবে। এর পাশাপাশি বাতাসও বৃদ্ধি পেতে পারে। মাঝারী ধরণের শৈত্যপ্রবাহ আরো দুই দিন অব্যাহত থাকতে পারে বলে জানান তিনি। এদিকে প্রবল শীত ও ঠাণ্ডায় রাজশাহীর স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। গতকাল সারা দিন সুর্যের মুখ দেখা যায়নি।
খুলনা
খুলনা মহানগরীর বিআইডব্লিউটিএ ও রেলস্টেশনে গেলে চোখে পড়ে হাড় কাঁপানো শীতে কষ্ট ভোগ করছেন খেটে খাওয়া ও ছিন্নমূল মানুষগুলো। শ্রমজীবী ওইসব মানুষরা রাস্তায় বেরলেও তাদের কষ্ট ছিল অসহনীয়। ওই রাতে কথা হয় কয়েকজনের সাথে। এর মধ্যে আলেয়া, মাসুমা খাতুন ও বৃদ্ধ ইউনুস সরদারের সাথে। তাদের কোন ঘর নেই, যেখানে দিন সেখানেই রাত। কেউ বা স্থায়ীভাবে এখানে একটু থাকার জন্য ঠাঁই করে নিয়েছেন।
হতদরিদ্র গৃহবধূ হালিমা জানান, রূপসা ও শহরের মধ্যে খাবারের হোটেলে গিয়ে থালা-বাসন মেজে কয়টা ভাত পাই। মেঝেতে প্লাস্টিক চটের বস্তা বিছিয়ে ও গায়ে পুরনো কাপড় দিয়ে কোন রকম শীতকে মানানোর চেষ্টা করছি। আপনারা ছবি তুলে নিচ্ছেন, বড় লোক আমাগো একটা মোটা কম্বলের ব্যবস্থা করে দেন।
গতবার যা পাইছি তা খুবই পাতলা। এতে শীত মানে না। চোখে ঘুম থাকলেও শীতে ঘুমাইতে পারি না। বেশি বিপাকে পড়েছে সহায় সম্বলহীন হতদরিদ্র পরিবারগুলো। চারপাশে খোলা আকাশের নিচে চারদিক দিয়ে অক্টোপাসের মতো ধেয়ে আসছে শীতের সাঁড়াশি আক্রমণ। আর থরথর করে কাঁপছে ওইসব হতদরিদ্র মানুষগুলো।
উপরে টিন, চার পাশে খোলা। সামনে নদী। শীতের সাথে পাল্লা দিয়ে বইছে হিমেল হাওয়া। অক্টোপাসের মতো ধেয়ে আসছে শীতের সাঁড়াশি আক্রমণ। এরকম প্রকৃতির সাথে যুদ্ধে করে মায়ের সাথে গলা ধরে শুয়ে আছে অবুঝ শিশু সন্তানটি। শিশুটির বয়স ৫-৬ বছরের ওপরে না। মেঝেতে প্লাস্টিকের বস্তা, গায়েও জড়ানো, তার ওপরে রয়েছে ময়লামাখা মশারী। এসব দিয়ে শীতকে কাবু করতে পারছে না ওরা। এখনো কেউ শীতবস্ত্র নিয়ে পৌঁছায়নি। শীতের পাশাপাশি হিমেল হাওয়ার রাতে খোলা আকাশের নিচে ওদের বেঁচে থাকাই কষ্টদায়ক। প্রকৃতির যেন এদের অসহায়ত্বকে আরও প্রকট করে তুলেছে।
নগরীর বিআইডব্লিউটিএতে বৃহস্পতিবার রাতে প্লাটফর্মে এরকম ভাবেই শিশু সন্তানকে নিয়ে মায়ের রাত্রিযাপন। শুধু এরাই না এমন পরিস্থিতিতে শীতের তীব্রতায় ঘুম কেড়ে নিছে অনেকের। বৃদ্ধ-বৃদ্ধা ও মধ্যবয়সী মহিলা-পুরুষরাও রয়েছেন। এসব মানুষেরা হতদরিদ্র, দিনমজুরি করে দিন-আনে দিন খায়। এদিকে খুলনাঞ্চলে মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের শৈত্য-প্রবাহ বইছে। আগামী ২-১ দিন এরকমই অবহাওয়া বিরাজমান থাকবে। এছাড়া চলতি মাসে আরও একটি শৈত্য-প্রবাহের সম্ভাবনা রয়েছে।
নীলফামারী
ঘন কুয়াশার চাদরে ঢাকা আর মৃদু শৈত্য প্রবাহ বইছে উত্তরের জেলা নীলফামারীতে। উত্তরের হিমেল হাওয়ার সাথে ঘন কুয়াশায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে নীলফামারীর জনজীবন। আবহাওয়া অফিস সূত্র মতে, শুক্রবার সকাল ১০টায় নীলফামারী জেলার মধ্যে সর্বনিম্ন সৈয়দপুরে তাপমাত্রা ৮.৮ ডিগ্রী সেলসিয়াস। সন্ধ্যার পর থেকে দুপুর পর্যন্ত কনকনে ঠান্ডা বিরাজ করছে এ জনপদে। বিঘ্ন ঘটেছে বিমান, ট্রেন ও বাস চলাচলে। নিম্ন আয়ের মানুষেরা খড়কুটো জ্বালিয়ে শীত নিবারন করতে দেখা গেছে।
ঘন কুয়াশার কারনে সৈয়দপুরে বিমান চালকদের নির্দিষ্ট দৃষ্টিসীমা দুই হাজার মিটারের মধ্যে না থাকায় ঢাকা-সৈয়দপুর রুটে বিমান চলাচলে প্রায়ই বিঘ্ন ঘটছে। রাতের বেলায় চলাচলকারী ট্রেনগুলো কুয়াশার কারনে গন্তব্য পৌছাতে ২ থেকে ৬ ঘন্টা দেরী হচ্ছে। গত দু’দিনে খুলনা থেকে ছেড়ে আসা আন্তঃনগর ট্রেন সীমান্ত এক্সপ্রেস নীলফামারী স্টেশনে ৬ ঘন্টা দেরীতে পৌছে। ঢাকা-চিলাহাটি রেলপথের নীলসাগরসহ অন্যান্য ট্রেনগুলো ২ ঘন্টা দেরীতে চলাচল করছে।
সৈয়দপুর স্টেশন মাস্টার রেজাউল করিম জানান, ঘন কুয়াশার কারনে ট্রেনের গতি প্রতি ঘণ্টায় ১০০ কিলোমিটার থেকে নেমে ৬০ কিলোমিটারে চালাতে গিয়ে সময়ক্ষেপণ হচ্ছে। একই অবস্থা বিরাজ করছে সড়ক পথেও। একে তো রাস্তার বেহাল দশা, তার ওপর ঘন কুয়াশা। ৭ ঘন্টার পথ এখন ১৪ ঘণ্টাতে পৌঁছাতে পারছে না। শীতের তীব্রতায় বেড়েছে শীতজনিত রোগের। গত ৪ দিনে নীলফামারীর ছয়টি উপজেলা হাসপাতালে দুই শতাধিক ডায়রিয়া রোগী ভতি হয়েছে। এদের মধ্যে শিশু ও বৃদ্ধদের সংখ্যাই বেশী।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ