ঢাকা, সোমবার 8 January 2018, ২৫ পৌষ ১৪২৪, ২০ রবিউস সানি ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

নানা সমস্যায় জর্জরিত সাঘাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স

গাইবান্ধা সংবাদদাতা: সাঘাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের নানা সমস্যার কারণে চিকিৎসা সেবা ব্যাহত হচ্ছে। উপজেলার প্রায় ৪ লাখ মানুষ চিকিৎসা সেবার জন্য উক্ত স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের উপর নির্ভরশীল। কিন্তু ৯ জন ডাক্তারের স্থলে মাত্র ৪জন ডাক্তার কর্মরত থাকায় ডাক্তার সংকটের কারণে রোগীদের চিকিৎসা সেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছেন কর্তব্যরত ডাক্তারগণ। 
জানা গেছে, সাঘাটা উপজেলার ১০ ইউনিয়নের প্রায় ৪ লাখ মানুষের স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করার জন্য কাগজ কলমে ৫০ শয্যার এই হাসপাতালটিতে জনবল সংকট এবং চিকিৎসা সেবার বেহাল দশা লেগেই আছে বছরের পর বছর। এখানে ১৯ জন বিভিন্ন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পদ রয়েছে। তার মধ্যে উপজেলা স্বাস্থ্য ও প.প. কর্মকর্তা সহ ৪ জন মেডিকেল অফিসার কর্মরত রয়েছেন। উপজেলা স্বাস্থ্য ও প.প. কর্মকর্তা প্রশাসনিক কাজে ব্যস্ত থাকায় মাত্র ৩ জন মেডিকেল অফিসার দিয়ে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলছে নদী ভাঙন কবলিত সাঘাটা উপজেলার একমাত্র স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি। আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও), জুনিয়ার কনসালট্যান্ট (গাইনি), মেডিকেল অফিসার (শৈবিবি), সহ ১৫ জন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পদ শূন্য রয়েছে দীর্ঘ দিন থেকে। এছাড়া সহকারী সার্জন ৯ জন, নার্সিং সুপার ভাইজার ১ জন, সিনিয়র স্টাফ নার্স ২ জন, সহকারী সেবক ১ জন সহ বিভিন্ন পদে লোক শূন্য রয়েছে।সম্প্রতি সরেজমিনে হাসপাতালে গিয়ে দেখা গেছে, অসংখ্য রোগীর ভিড়। হাসপাতালে রোগীদের ওয়ার্ড গুলো দুর্গন্ধে ভরা। পানীয় জলের সুব্যবস্থা নেই। বিদ্যুৎ চলে গেলে অন্ধকারেই থাকতে হয় রোগীদের। এসময় সার্জিক্যাল কাজ করতে হিমশিম খেতে হয় ডাক্তারদের। 
প্রতি দিন শতাধিক রোগী এ হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে এসে ডাক্তার অভাবে কাঙ্খিত সেবা না পেয়ে হতাশ হয়ে ফিরে যাচ্ছেন। বিশেষজ্ঞ ডাক্তার না থাকায় জটিল রোগে আক্রান্ত অনেক রোগী জেলা শহর সহ বিভাগীয় শহরের হাসপাতাল বা ক্লিনিকে গিয়ে চিকিৎসা করতে বাধ্য হচ্ছে।
বর্তমানে উক্ত স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জনবল সংকট রয়েছে। প্যাথলজিক্যাল টেকনিশিয়ান নেই, পরিচ্ছন্নতাকর্মী নেই এবং ওয়ার্ডবয় না থাকায় জরুরী বিভাগের কার্যক্রম ব্যহত হচ্ছে। ১২ বছর আগের একটি এ্যাম্বুলেন্স রয়েছে। কিন্ত তা প্রায়ই বিকল অবস্থায় পড়ে থাকায় জরুরী রোগী বহন করা সম্ভব হচ্ছে না। উপজেলায় ৪০টি কমিউনিটি ক্লিনিক রয়েছে। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পঃপঃ কর্মকর্তা এসব ক্লিনিকগুলো পরিদর্শনে যাওয়ার জন্য কোন গাড়ী নেই। ফলে মোটরসাইকেল যোগে এসব ক্লিনিক পরিদর্শন করে এসে তার পক্ষে রোগী দেখা সম্ভবপর হয়ে ওঠে না। উল্লেখিত উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৫০ শয্যায় উন্নীত করার জন্য নতুন ভবন নির্মাণ করা হলেও ৫০ শয্যার কার্যক্রম এখন পর্যন্ত শুরু করা হয়নি। এসব সমস্যা জরুরী ভিত্তিতে সমাধান করে সাঘাটাবাসীর চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ একান্ত প্রয়োজন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ